ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬-এর জন্য বিরোধীদের চাওয়া বৈঠকে বসার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওই বৈঠকে সাম্প্রতিক নির্বাচনে কথিত অনিয়ম—যাকে “ভোট চুরি” বলা হচ্ছে—নিয়ে উদ্বেগ জানাতে চেয়েছিল বিরোধীরা। লোকসভা ও রাজ্যসভায় যথাক্রমে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধান বিচারপতি কান্তকে চিঠি লিখে বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে সময় চেয়েছিলেন, যাতে তাঁরা একটি স্মারকলিপি জমা দিতে পারেন।
স্মারকলিপিতে তাঁরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন, SIR (Secure Internet Registry)-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ভোট রেকর্ডিং ব্যবস্থা বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাগজের ব্যালটে ফিরে যাওয়ার দাবি তোলেন।
## CJI-এর প্রতিক্রিয়া
সূত্রের খবর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ই-মেলের মাধ্যমে তাঁদের চিঠির সরকারি জবাব পাঠিয়েছেন, যদিও সেই জবাবের বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসেনি।
## বিরোধীদের প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচি
বৈঠকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর বিরোধীরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে। “Chalo Delhi – March for Democracy” নামে এই মিছিল সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে Connaught Place-Barakhamba Road সংযোগস্থল থেকে শুরু হওয়ার কথা।
X-এ (আগে Twitter নামে পরিচিত) একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, দল, লিঙ্গ, জাতি, সম্প্রদায় ও রাজ্যের বিভাজন অতিক্রম করে এই মিছিল ভারতীয়দের একত্র করবে। তিনি লেখেন, “গতকাল দেশের তরুণরা দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল। তাদের হৃদয়ে ছিল ভালোবাসা, ঘৃণা বা রাগ নয়। পুলিশ ও BJP-র গুন্ডাদের হাতে তারা মার খেয়েছে। আমরা এমন ভারত চাই না।” তিনি “তরুণ সমাজ, সব বিরোধী দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং ভারতের সংবিধানের পাশে থাকা সকলকে” মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের খাড়গে বলেছিলেন, “ভোট চুরি” ইস্যুতে হস্তক্ষেপের জন্য তিনি এবং গান্ধী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে বৈঠকের সময় চেয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশজুড়ে অশান্তির জন্য দায়ী। সাম্প্রতিক প্রতিবাদগুলিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন এবং গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এগুলি এমন এক সরকারের লক্ষণ, যারা যুবসমাজের নেতৃত্বে ক্রমবর্ধমান ভিন্নমত নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
## অভিযোগের পটভূমি এবং বিরোধীদের পদক্ষেপ
আগের শুক্রবার INDIA জোটের নেতারা সংসদ থেকে বিজয় চকের দিকে মিছিল করে যান এবং ভোট চুরি ও নির্বাচনী ব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।
খাড়গে জোর দিয়ে বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ তাঁরা বিনয়ের সঙ্গে, “হাত জোড় করে” করেছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু তাঁকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা, কোনও দাবি জানানো নয়। তিনি বলেন, সরকার দেশজুড়ে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে রয়েছে একটি “ঘোষণাবিহীন জরুরি অবস্থা”; এর প্রমাণ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রতিবাদ এবং ভিন্নমতের প্রতি কর্তৃত্ববাদী প্রতিক্রিয়ার উল্লেখ করেন।
## নির্বাচনী আস্থা ও গণতন্ত্রের ওপর প্রভাব
এত উচ্চপ্রোফাইল বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে CJI-এর অস্বীকৃতি বিচারবিভাগ এবং শীর্ষ বিরোধী নেতাদের মধ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলির, বিশেষ করে ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রতি গভীর অনাস্থাকে সামনে এনেছে এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির ক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। SIR-এর মতো প্রযুক্তি বন্ধ করা এবং কাগজের ব্যালটে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে বিরোধীদের অনড় অবস্থান আরও স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য ভোটদানের পদ্ধতির পক্ষে তাদের প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে। ■
এই মুখোমুখি অবস্থান বৃহত্তর জনঅভিযোগকেও আরও জোরালো করছে। প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, আটক, পুলিশের দমন-পীড়ন এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভিন্নমতের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ক্রমশ দমনমূলক হয়ে উঠছে। বিরোধীদের মতে, এই প্রতিক্রিয়াগুলিই যুবসমাজের নেতৃত্বে নাগরিক সক্রিয়তার প্রতি সরকারের “ভয়”-এর প্রমাণ।
—
This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.