Home RSS bangla national পরন্দুর বিমানবন্দর প্রকল্প: উন্নয়নের জন্য অধিগৃহীত জমির এখন কী হবে?

পরন্দুর বিমানবন্দর প্রকল্প: উন্নয়নের জন্য অধিগৃহীত জমির এখন কী হবে?

2
0

বহু বছর ধরে বিতর্ক ও সক্রিয় প্রতিবাদের পর তামিলনাড়ু সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কানচিপুরম জেলায় প্রস্তাবিত গ্রিনফিল্ড পারান্দুর বিমানবন্দর প্রকল্পটি বাতিল করেছে। ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট ঘোষিত এই সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যে অধিগৃহীত হাজার হাজার একর জমি নিয়ে এবং সেই জমির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।

## পারান্দুর বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিল করা হলো কেন?

২০২২ সালের আগস্টে সরকার নতুন বিমানবন্দরের জন্য পারান্দুরকে নির্ধারণ করার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। তাঁদের আশঙ্কার মূল বিষয় ছিল উচ্ছেদ, জীবিকা হারানো এবং এই অঞ্চলে থাকা জলাভূমি ও জলাশয়ের ওপর পরিবেশগত প্রভাব।

Tamilaga Vettri Kazhagam-এর নেতা এবং বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর প্রচারাভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৬ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রকল্পের বেশিরভাগ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। ২৪ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানবন্দর পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা করেন এবং চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দরের জন্য বিকল্প স্থান খুঁজতে আধিকারিকদের নির্দেশ দেন।

## জমি অধিগ্রহণ: কত জমি নেওয়া হয়েছিল এবং কার কাছ থেকে?

পারান্দুর প্রকল্পের জন্য মোট ৫,৮৪৬ একর জমির প্রয়োজন ছিল। জমির হিসাব ছিল নিম্নরূপ:
– সরকারি জমি: ১,৯৭২ একর, যার মধ্যে প্রায় ১,৫৫৮ একর ছিল জলাশয়।
– ব্যক্তিগত (পাট্টা) জমি: ৩,৮৭৪ একর, যার মধ্যে প্রায় ১,৮০২ একর অধিগৃহীত হয়েছিল।

২০১৩ সালের Right to Fair Compensation and Transparency in Land Acquisition, Rehabilitation and Resettlement Act অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চালানো হয়। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাজ্য সরকার নির্দেশিকা মূল্য ও আলোচনার ওপর ভিত্তি করে প্রতি একর জমির জন্য ₹৩৫ লাখ থেকে ₹২.৫৭ কোটি পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেছিল। একাধিক এলাকার গ্রামবাসী—বিশেষ করে একানাপুরমের বাসিন্দারা—ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব সত্ত্বেও প্রকল্পটি প্রত্যাখ্যান করেন।

২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সরকার অনুমান করেছিল যে যোগ্য জমির মালিকদের ৯০%-এরও বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। তবুও একানাপুরম ও অন্যান্য গ্রামের প্রতিরোধ অব্যাহত ছিল। প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রকল্পটিকে Tamil Nadu Land Consolidation (for Special Projects) Act 2023-এর অধীনে একটি “special project” হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছিল।

## অধিগৃহীত জমি পুনর্ব্যবহার বা ফেরত দেওয়ার কী কী বিকল্প রয়েছে?

২০১৩ সালের Land Acquisition Act-এর ৯৩ নম্বর ধারার অধীনে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে আইনগত দখল নেওয়া হয়েছিল কি না এবং ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত অ্যাওয়ার্ড চূড়ান্ত হয়েছিল কি না, তার ওপর:

– **যদি দখল নেওয়া না হয়ে থাকে** (এমনকি ক্ষতিপূরণ ও অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরিত হলেও), সরকার অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া বাতিল করে জমি মূল মালিকদের ফেরত দেওয়ার বিকল্প বেছে নিতে পারে।
– **যদি দখল নেওয়া এবং অ্যাওয়ার্ড—দুটিই হয়ে থাকে**, তাহলে সরকার জমির ব্যবহার অন্য কোনও জনস্বার্থমূলক কাজ বা শিল্প প্রকল্পে পরিবর্তন করতে পারে। তবে বিমানবন্দর-নির্দিষ্ট অধিগ্রহণকে সম্পূর্ণ ভিন্ন কাজে ব্যবহার করলে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তামিলনাড়ুতে এর নজির রয়েছে। ২০২২ সালে সরকার Jayankondam lignite mining project বাতিল করে এবং কয়েক দশক আগে অধিগৃহীত ৮,০০০ একরেরও বেশি জমি ফেরত দেয়, পরিবারগুলিকে দেওয়া ক্ষতিপূরণ পুনরুদ্ধার না করেই। এদিকে Tamil Nadu Housing Board এমন জমি ছেড়ে দিয়েছে, যার ক্ষেত্রে অ্যাওয়ার্ড পাস হয়নি, এবং অধিগৃহীত হলেও ব্যবহার না করা সরকারি জমির বিষয়ে প্রতিকার চেয়েছে।

## ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত জমির অবস্থা

তাহলে বর্তমানে পরিস্থিতি কী?

– প্রয়োজনীয় জমির প্রায় **৪৮%** অধিগৃহীত হয়েছে। সরকারের দাবি, পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি।
– অধিগৃহীত জমির মধ্যে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি এবং সরকারি জমি—দুটিই রয়েছে। বিমানবন্দর-সংক্রান্ত জমির বিষয়ে বর্তমানে মালিকানা TIDCO (Tamil Nadu Industrial Development Corporation)-এর হাতে রয়েছে।
– পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রভাবিত ১৩টি গ্রামের মধ্যে এবং আশপাশের জমির বিক্রি, লিজ ও বন্ধক রাখা সরকার স্থগিত করেছে।

## এখন জমি কী কাজে ব্যবহার করা হতে পারে?

শিল্পমন্ত্রী এস. কীর্তনা রাজ্য বিধানসভায় জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের জন্য সুরক্ষিত জমি সবক্ষেত্রে ফেরত না দিয়ে বিকল্প উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। পরিস্থিতি ও শর্ত অনুমোদন করলে শিল্প বা অন্যান্য জনস্বার্থমূলক কাজে জমি ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে।

এলাকার গ্রামবাসীরা সাধারণভাবে শিল্পোন্নয়নকে সমর্থন করেন, তবে তার শর্ত হলো পরিবেশগত ভারসাম্য যেন নষ্ট না হয়। তাঁদের সতর্কবার্তা, জমির ব্যবহার আমূল পরিবর্তন করা হলে আইনি প্রতিবাদের মুখে পড়তে হতে পারে।

## এরপর কী?

সরকারের সামনে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ রয়েছে: অধিগৃহীত জমির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দরের জন্য উপযুক্ত বিকল্প স্থান খুঁজে বের করা। পারান্দুর প্রকল্পকে ব্যর্থ করে দেওয়া পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যাগুলি এড়িয়ে নতুন স্থান চিহ্নিত করার পরিকল্পনা চলছে। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতের চাহিদা সামলাতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণসহ বিদ্যমান Chennai International Airport সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

আধিকারিকদের আইনগত মালিকানা, দখলের অবস্থা, পাস হওয়া অ্যাওয়ার্ড এবং ক্ষতিপূরণ পুনরুদ্ধারের বিষয়টি পরীক্ষা করতে হবে। এরপরই নিশ্চিত করা যাবে, প্রতিটি জমির খণ্ড ফেরত দেওয়া হবে, নাকি বিকল্প কাজে ব্যবহার করা হবে।

## শেষ কথা

পারান্দুর বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিল হওয়া শুধু একটি পরিকাঠামো প্রকল্পের সমাপ্তির ইঙ্গিত নয়। দ্রুত উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ, জমির অধিকার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি পরীক্ষাও বটে। এখন নজর রয়েছে, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে অধিগৃহীত জমি কতটা স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে এবং চেন্নাইয়ের জন্য একটি কার্যকর দ্বিতীয় বিমানবন্দর সমাধানের দিকে কত দ্রুত এগোতে পারে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.