জার্মানির Wesel-এ একটি ভোকেশনাল কলেজের ৬২ বছর বয়সি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ১৬ বছর পড়ানো ছাড়াই তিনি €248,000-এর বেশি বেতন পেয়েছেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, কর্মক্ষম থাকা সত্ত্বেও বেতনসহ অসুস্থতার ছুটিতে থাকার জন্য তিনি অসত্য চিকিৎসা-প্রমাণপত্র জমা দিয়েছিলেন।
—
## পড়ানো ছাড়াই অনুপস্থিতি: মামলার বিবরণ
North Rhine-Westphalia-র একটি ভোকেশনাল কলেজে কর্মরত ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কার্যত পড়ানো বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তিনি সম্পূর্ণ সরকারি কর্মচারীর বেতন পেতে থাকেন। তাঁর দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার ছুটির পক্ষে চিকিৎসা-প্রমাণপত্রও জমা দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগের মূল সময়কাল ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত। প্রসিকিউটরদের দাবি, এই সময়ে তিনি পড়ানোর অক্ষমতার বিষয়ে মিথ্যা দাবি করেন এবং এমন প্রমাণপত্র জমা দেন, যদিও তিনি কাজে ফিরতে সক্ষম ছিলেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের মতে, ওই নথিগুলোর মাধ্যমে রাজ্য সরকারকে বিভ্রান্ত করে বেতন প্রদান চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।
—
## প্রতারণা, জালিয়াতি এবং স্কুবা-ডাইভিং সংক্রান্ত অভিযোগ
প্রতারণার পাশাপাশি, স্কুবা-ডাইভিংয়ের জন্য তিনি সক্ষম—এমন দাবি করা দুটি ভুয়ো নথি তৈরি করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলাও হয়েছে। যে চিকিৎসক এগুলো জারি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছিল, তদন্তে তাঁর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
প্রসিকিউটরদের বক্তব্য, জাল শংসাপত্রগুলো এমন একটি বৃহত্তর কর্মকৌশলের অংশ ছিল, যার মাধ্যমে তিনি চিকিৎসাজনিত কারণ দেখিয়ে বেতন নেওয়া চালিয়ে যান। প্রধান অভিযোগ হলো, তিনি এমন প্রমাণপত্র জমা দিয়েছিলেন যাতে বলা হয়েছিল অসুস্থতার কারণে তিনি কাজ করতে পারছেন না, যদিও তিনি জানতেন যে তা সত্য নয় বলে অভিযোগ।
—
## বিচারসংক্রান্ত অগ্রগতি এবং সীমাবদ্ধতা
২০২৫ সালে তাঁর কর্মী-নথির প্রশাসনিক পর্যালোচনায় দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মামলাটি ব্যাপকভাবে নজরে আসে। একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, এর আগে কেন কোনও আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা-পরীক্ষা করা হয়নি। এক নতুন স্কুল প্রশাসক এই ব্যবস্থার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেন।
চিকিৎসা-পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেন। তাঁর দাবি ছিল, এত বছর পড়ানো থেকে দূরে থাকার পর এই নির্দেশ অন্যায়। আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে এবং আইনি খরচ হিসেবে তাঁকে €2,500 জরিমানা করে।
আইনি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযোগপত্রে কেবল গত চার বছর—২০২১ থেকে ২০২৫—অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কারণ তার আগের বছরগুলোর অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনি সময়সীমা পেরিয়ে গেছে।
—
## আর্থিক পরিমাণ এবং সম্ভাব্য মোট ব্যাপ্তি
তদন্তকারীদের দাবি, ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত কথিত অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া অর্থের পরিমাণ €248,000-এর বেশি। ২০০৯ সাল থেকে তিনি মোট যে বেতন পেয়ে থাকতে পারেন, তার পরিমাণ প্রায় €1 মিলিয়ন হতে পারে। তবে এই বৃহত্তর অঙ্কটি এখনও অনুমাননির্ভর এবং বর্তমান অভিযোগপত্রের আওতায় নেই।
—
## সরকারি কর্মচারীদের নিয়ম এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত দায়িত্ব
জার্মানিতে সরকারি কর্মচারীরা—শিক্ষকরাও যার অন্তর্ভুক্ত—চিকিৎসাগতভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম বলে প্রত্যয়িত হলে সম্পূর্ণ বেতন পেতে পারেন। এর বিপরীতে, বেসরকারি খাতের বহু কর্মী অসুস্থতাজনিত সুবিধার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমার আওতায় থাকেন। তবে সরকারি কর্মচারীরা চলমান দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যাচাই বা চিকিৎসা-পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি পান না।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা বছরের পর বছর এমন পরীক্ষা এড়িয়ে গিয়েছেন। এর ফলে তিনি এখনও নিজের পদে থাকার যোগ্য কি না, অথবা চিকিৎসাগত কারণে অবসর দেওয়া উপযুক্ত হবে কি না—তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
—
## এরপর কী: আদালতের কার্যক্রম
Duisburg-এর Regional Court-এ অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচারে পাঠানো হবে কি না, আদালত তা সিদ্ধান্ত নেবে। ওই শিক্ষিকা অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি এবং ফৌজদারি অভিযোগও খণ্ডন করেননি। আদালতের পর্যালোচনার মূল বিষয় হলো অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হবে কি না। রায় এখনও বাকি।
—
## বৃহত্তর প্রভাব এবং তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনায় নিয়মিত চিকিৎসা-পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি কর্মচারীরা কতদিন বেতনসহ ছুটিতে থাকতে পারেন, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই ক্ষেত্রে তদারকি ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে বেতন দেওয়া হয়েছে।
চলমান তদন্ত অসুস্থতার সময় কর্মীদের অধিকার এবং সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় নিশ্চিত করার দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্যের বিষয়টি সামনে এনেছে। অনেকের মতে, এই বিতর্ক সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহি এবং অসুস্থতাজনিত ছুটি সংক্রান্ত জার্মানির আইনি কাঠামোরও পরীক্ষা নেবে।
This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.