Home RSS bangla national সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষকের POCSO মামলা খারিজ করে জানাল, শারীরিক শাস্তি অপরাধ নয়

সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষকের POCSO মামলা খারিজ করে জানাল, শারীরিক শাস্তি অপরাধ নয়

2
0

সুপ্রিম কোর্ট POCSO Act—Protection of Children from Sexual Offences—এর অধীনে এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজ করেছে। আদালত রায় দিয়েছে, অভিযোগগুলি গুরুতর হলেও “aggravated sexual assault” বা গুরুতর যৌন নিপীড়ন হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যৌন অভিপ্রায়ের প্রমাণ মেলেনি। শিক্ষকের আচরণ অনুপযুক্ত ও অসংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হলেও, তা ফৌজদারি যৌন নিপীড়নের আইনি সীমা অতিক্রম করেনি।

## FIR দায়েরের প্রেক্ষাপট

– মহিলা শিক্ষকরা স্কুলের প্রধানশিক্ষককে জানান যে দশম শ্রেণির এক শিক্ষক কয়েকজন ছাত্রীকে allegedly স্পর্শ করেছেন, যার জেরে মৌখিক অভিযোগ ওঠে।
– District Child Protection Unit (DCPU) প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে এবং একটি Counselling-cum-Enquiry Report প্রস্তুত করে।
– ওই রিপোর্টের পর পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে POCSO Act-এর Section 10 (aggravated sexual assault)-এর অধীনে FIR দায়ের করে।
– শিক্ষক এই proceedings খারিজের জন্য Calcutta High Court-এর দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট তা প্রত্যাখ্যান করলে তিনি Supreme Court-এ আপিল করেন।

## Supreme Court-এর পর্যবেক্ষণ

### আইনি মানদণ্ড: যৌন অভিপ্রায় অপরিহার্য

Justice Ujjal Bhuyan এবং Justice Atul S. Chandurkar-কে নিয়ে গঠিত Supreme Court-এর বেঞ্চ জোর দিয়ে জানায়, POCSO-এর Section 10 প্রয়োগের জন্য যৌন অভিপ্রায় থাকা আবশ্যক। বিশেষ করে শরীরের ব্যক্তিগত অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত অংশে স্পর্শ বা penetration ছাড়া অন্য কোনও শারীরিক সংস্পর্শের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য।

### বয়ান ও অভিযোগের পর্যালোচনা

– Enquiry Report-এ বেশ কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছিল:
– শিক্ষক allegedly অমনোযোগী থাকার জন্য ছাত্রছাত্রীদের পিঠের ওপরের অংশে মারধর করতেন।
– তিনি কোমরে হাত দিতেন, পিঠে হাত ঘষতেন এবং চিমটি কাটতেন—যে আচরণে ছাত্রছাত্রীরা অস্বস্তি বোধ করত।
– এক ছাত্রী দাবি করে, মানচিত্র না আনার জন্য তাকে চড় মারা হয়েছিল; অন্য এক ছাত্রী জানায়, তার ঘাড়ে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করা হয়েছিল।
– আরও কয়েকজন ছাত্রী জানায়, শিক্ষক এমনভাবে তাকাতেন, যাতে তারা অস্বস্তি বোধ করত।

এই আচরণগুলির গুরুত্ব স্বীকার করেও আদালত জানায়, অভিযোগে উল্লেখিত কোনও ঘটনাই POCSO-এর অধীনে “sexual assault” বা যৌন নিপীড়নের মানদণ্ড পূরণ করে না, কারণ প্রয়োজনীয় “sexual intent” বা যৌন অভিপ্রায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

## কেন মামলা খারিজ করা হলো

– আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে শিক্ষকের আচরণে অসংবেদনশীলতা স্পষ্ট ছিল—বিশেষ করে ছাত্রীদের প্রতি। তবে ওই আচরণ Section 10-এর অধীনে aggravated sexual assault বা গুরুতর যৌন নিপীড়নের পর্যায়ে পড়ে না।
– শারীরিক শাস্তি দেওয়া বা অনুপযুক্ত ও অস্বস্তিকর আচরণ করা সবসময় POCSO লঙ্ঘনের আইনি শর্ত পূরণ করে না।
– এছাড়া, বিচারপতিরা এই ধরনের অভিযোগের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কোনও শিক্ষক শেষ পর্যন্ত বেকসুর খালাস পেলেও POCSO-এর মতো কঠোর আইনের অধীনে অভিযুক্ত হওয়ার কলঙ্ক এবং পেশাগত জীবনে তার প্রভাব মুছে ফেলা কঠিন।

## প্রক্রিয়া ও ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ

– FIR দায়েরের সময় এবং প্রমাণ সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে। প্রধানশিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের বক্তব্যকে hearsay বা শোনা কথার ভিত্তিতে দেওয়া বয়ান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
– শেষ পর্যন্ত আদালত মনে করে, এই মামলা চালিয়ে যাওয়া আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হবে এবং শিক্ষকের প্রতি অন্যায্য পক্ষপাত সৃষ্টি করবে।

## চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

Supreme Court Calcutta High Court-এর সিদ্ধান্ত বাতিল করে Alipurduar-এ বিচারাধীন Samuktala P.S. Case No. 187 of 2025 থেকে উদ্ভূত Special Case No. 83 of 2025-এর proceedings খারিজ করে দেয়।

## বৃহত্তর তাৎপর্য

– এই রায় স্পষ্ট করে যে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শারীরিক স্পর্শ সংক্রান্ত প্রতিটি অভিযোগ POCSO-এর অধীনে বিচারযোগ্য নয়—দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যৌন অভিপ্রায় থাকা অপরিহার্য।
– শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে অনুপযুক্ত শাসন ও আইনত শাস্তিযোগ্য যৌন অসদাচরণের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।
– গুরুতর আইনি অভিযোগ অকালেই বা পর্যাপ্ত ভিত্তি ছাড়া আনা হলে ব্যক্তির সুনাম ও জীবিকার ওপর যে ঝুঁকি তৈরি হয়, এই সিদ্ধান্ত তা-ও তুলে ধরে।

**Bhaskar Paul vs. State of West Bengal** (2026 (SC) 927) মামলায় Supreme Court-এর এই রায় তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রায়টি নিশ্চিত করেছে যে শিক্ষকদের অসদাচরণ—বিশেষ করে ছাত্রীদের প্রতি—সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করা এবং উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে POCSO Act-এর পূর্ণ কঠোরতা প্রয়োগের আগে আইনের দাবি অনুযায়ী যৌন অভিপ্রায়ের স্পষ্ট প্রমাণ থাকা আবশ্যক।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.