Home RSS bangla national জামিয়ার পর জেএনইউতে ফ্রি উমর খালিদ গ্রাফিতি, প্রতিক্রিয়া জানাল প্রশাসন

জামিয়ার পর জেএনইউতে ফ্রি উমর খালিদ গ্রাফিতি, প্রতিক্রিয়া জানাল প্রশাসন

4
0

“Free Umar Khalid” এবং “Long Live Naxalbari” স্লোগান লেখা গ্রাফিতি শনিবার দিল্লির Jawaharlal Nehru University (JNU)-এর দেওয়ালে দেখা যায়। এর জেরে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। এর এক দিন আগে Jamia Millia Islamia-র দেওয়ালে “Free Kashmir” এবং “Free Sharjeel Imam” লেখা একই ধরনের বিতর্কিত বার্তা পাওয়া গিয়েছিল।

JNU-এর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি নজরে নিয়েছেন এবং কীভাবে ওই বার্তাগুলি লেখা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং কোনও গোষ্ঠীকে শিক্ষাগত বা নাগরিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে।

—

## ক্যাম্পাসে প্রতিক্রিয়া: প্রতিবাদ ও অভিযোগ

JNU-তে ABVP (Bharatiya Janata Party-এর ছাত্র সংগঠন) গ্রাফিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে এই স্লোগান ব্যবহার করে ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। ABVP, All India Students’ Association (AISA)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছে, VD Savarkar-এর একটি প্রতিকৃতির পাশে আপত্তিকর স্লোগান লেখার ঘটনায় সংগঠনটির সদস্যরা জড়িত ছিলেন।

JNU-এর ABVP ইউনিটের সভাপতি Mayank Panchal বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে জাতীয় ব্যক্তিত্বদের অপমান করা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি নষ্ট করা যায় না। ABVP-এর JNU সম্পাদক Praveen Piyush-ও একই মত প্রকাশ করে বলেন, কোনও একটি মতাদর্শের আধিপত্য মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়কে দলীয় প্রান্তিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।

—

## Umar Khalid কে এবং “Long Live Naxalbari” কী?

Umar Khalid, যিনি আগে JNU-এর গবেষক ছিলেন, September 2020 থেকে আটক রয়েছেন। February 2020-এর Delhi riots-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে Unlawful Activities (Prevention) Act (UAPA)-এর অধীনে মামলা রয়েছে। ওই দাঙ্গায় 53 জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে কোনও নিষ্পত্তি ছাড়াই আটকে রাখার প্রতিবাদে ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলি বারবার বিক্ষোভ করেছে।

“Long Live Naxalbari” বলতে 1967 সালে West Bengal-এ সংঘটিত Naxalbari uprising-কে বোঝায়—এটি ছিল একটি কৃষক বিদ্রোহ, যা পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর Naxalite-Maoist আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করে। স্লোগানে এই শব্দবন্ধের ব্যবহার সাধারণত বামপন্থী উগ্র রাজনীতির প্রতি ইঙ্গিত করে। JNU-তে গ্রাফিতি লেখার দায় এখনও কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

—

## Jamia-র প্রেক্ষাপট: যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা

এর ঠিক এক দিন আগে Jamia Millia Islamia-র দেওয়ালে “Free Kashmir” এবং “Free Sharjeel Imam”-এর মতো স্লোগান দেখা যায়। Imam-ও এক সময়ের গবেষক ছিলেন এবং 2020 সালে Citizenship Amendment Act (CAA)-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। উসকানিমূলক বক্তৃতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। 2006 সাল থেকে নিষ্ক্রিয় থাকা ছাত্র সংসদ পুনরায় চালুর দাবিতে পড়ুয়াদের আন্দোলনের সময় এই বার্তাগুলি দেখা যায়।

Jamia-র ঘটনার পরপরই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। প্রশাসন স্লোগানগুলির নিন্দা করে জানায়, এগুলি দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ছাত্রদের প্রতিবাদে Congress MP Imran Masood-এর উপস্থিতির বিষয়টি BJP-এর সমালোচকেরা তুলে ধরেন, যার ফলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।

—

## প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: তদন্ত চলছে

JNU কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাফিতির ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, দায়ীদের শনাক্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলি জানিয়েছে, এই ধরনের কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

ABVP এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলি বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছে, কেউ কেউ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও, অন্যদের মত হল—জাতীয় প্রতীককে আঘাত করা বা বিভাজন তৈরি করার জন্য এই স্বাধীনতা ব্যবহার করা উচিত নয়। ফলে ক্যাম্পাস রাজনীতি, মতপ্রকাশ এবং মতাদর্শগত সীমারেখা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।

—

## কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ: প্রতীক, সার্বভৌমত্ব এবং ছাত্র রাজনীতি

– **স্লোগানের প্রতীকী তাৎপর্য:** “Free Umar Khalid,” “Free Kashmir” এবং “Long Live Naxalbari”-এর মতো শব্দবন্ধ অতীতের বিতর্ক, রাজনৈতিক ভিন্নমত এবং উগ্র মতাদর্শের কথা মনে করিয়ে দেয়। এগুলি শুধুমাত্র কিছু শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ক্যাম্পাসে কোন ধরনের বক্তব্য অনুমোদনযোগ্য, তা নিয়ে বিতর্ক উসকে দেয়।
– **স্বাধীনতা বনাম জাতীয় সংহতি:** ছাত্র এবং গবেষকেরা প্রায়ই তাঁদের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর জোর দেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা মনে করেন, কিছু ধরনের বক্তব্য জাতীয় সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে বা বিচ্ছিন্নতাবাদী বক্তব্যকে উৎসাহিত করে বলে বিবেচিত হতে পারে।
– **বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা:** শিক্ষা ও সংলাপের কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি একদিকে শিক্ষাগত কঠোরতা, অন্যদিকে রাজনৈতিক সক্রিয়তার সংযোগস্থলে অবস্থান করে। এই ধরনের ঘটনা প্রতিবাদ এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যবর্তী সীমারেখা পরীক্ষা করে।

—

JNU এবং Jamia Millia Islamia-তে সাম্প্রতিক গ্রাফিতির ঘটনাগুলি ভারতীয় ক্যাম্পাসগুলিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার চিত্র তুলে ধরেছে। এই স্লোগানগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি সমন্বিত প্রচারের অংশ—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলার সময় নজর এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্তৃপক্ষ কীভাবে ভিন্নমত, শৃঙ্খলা ও গণতন্ত্রের পরিবর্তনশীল সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করে এবং তার প্রতিক্রিয়া জানায়, সেদিকে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.