Home RSS bangla national কেন্দ্রকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণের বিধি বিবেচনার আর্জি সুপ্রিম কোর্টের

কেন্দ্রকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণের বিধি বিবেচনার আর্জি সুপ্রিম কোর্টের

4
0

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্বাধীনভাবে অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করার সহজলভ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে এমন বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে সেই আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায়, যে আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুরা আইনগতভাবে চুক্তিতে প্রবেশের অযোগ্য। Just Rights for Children Alliance নামে একটি NGO-র দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার (PIL) পরিপ্রেক্ষিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

## মামলার পটভূমি

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এ Chief Justice Surya Kant এবং বিচারপতি Joymalya Bagchi ও V. Mohana-কে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ Just Rights for Children Alliance-এর দায়ের করা আবেদনটির শুনানি করে। NGO-টির বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ১৩ বছর বয়সি শিশুদেরও স্বাধীনভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে পরিষেবার শর্তাবলিতে সম্মতি জানানোর সুযোগ দেয়—যদিও Indian Contract Act-এর Section 11 অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্করা আইনগতভাবে চুক্তিতে প্রবেশের অযোগ্য।

আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত Senior Advocate H. S. Phoolka জোর দিয়ে বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্করা যে অনলাইন চুক্তিগুলিতে—পরিষেবার শর্তাবলি, গোপনীয়তা নীতি এবং ব্যবহারকারী চুক্তি—প্রবেশ করে, সেগুলি শুরু থেকেই বাতিল।

## যে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিধানগুলি বিবেচনায়

– **Indian Contract Act, 1872-এর Section 11**: ১৮ বছরের কম বয়সি কারও চুক্তিতে প্রবেশের আইনগত সক্ষমতা নেই বলে ঘোষণা করে।
– **Majority Act, 1875-এর Section 3**: ১৮ বছর বয়সকে সাবালকত্বের বয়স হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
– **Information Technology (Intermediary Guidelines and Digital Media Ethics Code) Rules, 2021**: শিশুদের ক্ষতি করে এমন কনটেন্টের ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মগুলিকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়, কিন্তু চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার অধীনে অপ্রাপ্তবয়স্করা স্বাধীনভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করতে পারে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলে না।
– **Information Technology Act, 2000-এর Section 10A**: ইলেকট্রনিক চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু Contract Act-এর Section 11-এ নির্ধারিত অক্ষমতাকে অগ্রাহ্য করে না।

## সরকারকে কী জানতে চাইল আদালত

সোমবারের শুনানিতে বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে সংশ্লিষ্ট IT এবং intermediary আইনগুলির অধীনে বিধিবদ্ধ নিয়ম বা নির্দেশ জারি করার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলে। প্রধান নির্দেশগুলির মধ্যে রয়েছে:

– চুক্তি আইনে নির্ধারিত অপ্রাপ্তবয়স্কদের আইনগত অক্ষমতাকে প্ল্যাটফর্মগুলির সম্মান করা নিশ্চিত করা।
– বাবা-মা বা অভিভাবকের involvement ছাড়া স্বাধীনভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরির ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সের সীমা বিবেচনা করা।
– বয়স-সংক্রান্ত যে কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা শুধু নির্দেশিকা হিসেবে নয়, intermediary rules-এর অধীনে বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

সরকারের পক্ষে উপস্থিত Solicitor General Tushar Mehta জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। CJI Surya Kant এবং Justice Bagchi জোর দিয়ে বলেন, শুধু নির্দেশিকা যথেষ্ট নয়—বিধিবদ্ধ ক্ষমতা থাকা অপরিহার্য। চার সপ্তাহ পর আদালত বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করবে।

## আবেদনকারীদের উল্লেখ করা ঝুঁকি

আবেদনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্বাধীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার ফলে তারা যে বিভিন্ন ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারে, তা তুলে ধরা হয়েছে:

– অনলাইন grooming, যৌন শোষণ এবং সাইবার বুলিংয়ের সংস্পর্শে আসা।
– ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং আচরণগত profiling-এর সম্ভাবনা।
– বয়স-অনুপযুক্ত কনটেন্ট এবং মানসিক সুস্থতা ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এমন অন্যান্য ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি।

## তুলনামূলক মানদণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা

আবেদনে বলা হয়েছে, বহু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত ১৩ বছর বয়সের ন্যূনতম সীমার ভিত্তি ভারতীয় আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে নেই; বরং এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

উদীয়মান Digital Personal Data Protection (DPDP) ব্যবস্থার অধীনে খসড়া বিধানগুলিতে শিশুদের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য বাবা-মা বা অভিভাবকের সম্মতির কথা বলা হয়েছে। তবে NGO-গুলির বক্তব্য, DPDP Act এখনও কার্যকর হয়নি এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন চুক্তিতে প্রবেশের বিষয়টি সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

## এরপর কী

– Union Government-কে Electronics & IT এবং Law & Justice-সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের মাধ্যমে এই আইনি অসঙ্গতিগুলি মোকাবিলায় তাদের পরিকল্পনা জানাতে হবে।
– IT Act বা Intermediary Rules-এর অধীনে সম্ভাব্য বিধিবদ্ধ সংশোধন বা নিয়ম চালু করা হতে পারে, যেখানে বাবা-মা বা অভিভাবকের সম্মতি অথবা বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে।
– এই ধরনের বিধিবদ্ধ নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর তা মেনে চলতে ব্যর্থ হলে প্ল্যাটফর্মগুলিকে আইনগতভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হতে পারে।

## বৃহত্তর তাৎপর্য

এই মামলা যে বিষয়গুলির ওপর আলোকপাত করে:

– চুক্তি আইন এবং ডিজিটাল অধিকারের সংযোগ, যা দেখায় যে প্রচলিত আইনে নির্ধারিত আইনগত অক্ষমতা অনলাইন ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
– DPDP Act-এর মতো তথ্য সুরক্ষা কাঠামো, যা শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত করে, কিন্তু এখনও চুক্তিগত সুরক্ষাকে আইনে অন্তর্ভুক্ত করেনি।
– ডিজিটাল intermediary-দের দায়িত্ব, যাতে তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী অপ্রাপ্তবয়স্কদের গোপনীয়তা, মর্যাদা এবং নিরাপত্তার মতো সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে।

সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ একটি নজির তৈরি করতে পারে। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও কঠোর বয়স-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ও জবাবদিহি কার্যকর করতে হতে পারে। পাশাপাশি, সরকারকে বিধিবদ্ধ আইন এবং ডিজিটাল বাস্তবতার মধ্যকার ফাঁক পূরণের জন্যও পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

—

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.