সাম্প্রতিক এক তদন্তে NewJeans-এর সদস্যদের সঙ্গে ADOR-এর চুক্তির অত্যন্ত উদ্বেগজনক কিছু দিক সামনে এসেছে—চুক্তিটি স্বাক্ষর করার সময় সদস্যদের বয়স ছিল 14 থেকে 17 বছরের মধ্যে—যা K-Pop কমিউনিটিতে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। চুক্তির শর্তগুলো শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার মানসম্মত প্রশিক্ষণার্থী চুক্তি থেকে বিচ্যুত নয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিল্পীদের সবচেয়ে মৌলিক অধিকারগুলোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
—
## তদন্তে যা উঠে এসেছে
### অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষার অনুপস্থিতি
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, NewJeans-এর চুক্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার যে বিষয়গুলো সাধারণত বাধ্যতামূলক করে—যেমন শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, শিক্ষা, বিশ্রাম এবং সীমিত কর্মঘণ্টা—সেগুলোর কোনো উল্লেখ নেই। ফলে সদস্যরা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থাতেও মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা পাননি।
### অনমনীয় শর্ত, আলোচনার সুযোগহীন চুক্তি
পর্যালোচনা করা ইমেইলগুলো থেকে জানা যায়, 2022 সালে এক সদস্যের মা চুক্তিতে সংশোধনের অনুরোধ করেছিলেন। ADOR-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জবাবে ইঙ্গিত দেন, মা যদি এতে সম্মত না হন, তাহলে “চুক্তিটিই পুনর্বিবেচনা করা হয়তো সবচেয়ে ভালো হবে।” শেষ পর্যন্ত অভিভাবক মূল শর্তেই স্বাক্ষর করেন।
### শিল্পীসত্তা ও কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ADOR NewJeans-এর সংগীত বিক্রি করার অধিকার রাখে, অন্যদিকে দলের রয়্যালটির অংশ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেয়। পরামর্শ নেওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ধারা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
এছাড়াও, চুক্তিটি সদস্যদের নাম, অবয়ব, কণ্ঠস্বর, হাতের লেখা, ছবি এবং আরও অনেক কিছুর ওপর লেবেলকে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ দেয়—চুক্তি শেষ হওয়ার পরও। এই নিয়ন্ত্রণ AI-নির্মিত কণ্ঠস্বর এবং চ্যাটবটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সদস্যরা তাদের অবয়ব ব্যবহারের জন্য অর্থ পান, তবে তাদের পরিচয় কোথায় বা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তাদের কোনো মতামতের অধিকার নেই।
### প্রসাধনী-সংক্রান্ত ধারা ও “সৌন্দর্য ব্যয়”
বিশেষভাবে বিতর্কিত একটি ধারায় প্রশিক্ষণার্থীদের ADOR-এর বহন করা সৌন্দর্য-সংক্রান্ত ব্যয়ের একটি অংশ নিজেদের বহন করতে হয়—এর মধ্যে প্রশিক্ষণ চলাকালীন ত্বকের যত্ন, প্লাস্টিক সার্জারি এবং শরীরের গড়ন সংশোধনের খরচও অন্তর্ভুক্ত।
NewJeans-এর আত্মপ্রকাশের আগে, মঞ্চের আলো তাদের চেহারায় কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা নির্ধারণ করতে আলোকচিত্রীরা প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীকে বিভিন্ন কোণ থেকে মূল্যায়ন করতেন। সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ADOR একাধিক সদস্যকে নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়ার পরামর্শ দেয়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই চর্চা বৃহত্তর শিল্পের প্রচলিত রীতির প্রতিফলন, যেখানে প্রসাধনী পরিবর্তনের পরামর্শকে খুব কম ক্ষেত্রেই জবরদস্তি হিসেবে দেখা হয়।
—
## শিল্পের প্রচলিত রীতি ও জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ
### K-Pop-এ “মানসম্মত” হিসেবে বিবেচিত
বিতর্কিত হলেও, এসব চুক্তির অনেক ধারা K-Pop দুনিয়াজুড়ে প্রচলিত বলে জানা গেছে। তবে তাতেও ভক্তদের ক্ষোভ কমেনি।
### ADOR ও HYBE-এর ভূমিকা
ভক্তদের মধ্যে ADOR-এর সাবেক CEO Min Hee Jin-কে নিয়ে সমালোচনা ক্রমশ বাড়ছে। চুক্তির শর্তগুলোর জন্য তিনি দায়ী কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, HYBE তার কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার মাধ্যমে ADOR-এর ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করে। জানা গেছে, HYBE-এর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অধীন শিল্পীদের চুক্তি অভিন্ন আইনি দল তৈরি ও পরিচালনা করে। এর ফলে বোঝা যায়, এই ধরনের চুক্তির আওতায় শুধু NewJeans-ই নয়, অন্য শিল্পীরাও থাকতে পারেন।
—
## ভক্তদের ক্ষোভ ও জনসমক্ষে প্রতিবাদ
চুক্তির এসব তথ্য সামনে আসার পর বহু ভক্ত হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে অন্যান্য HYBE-সংশ্লিষ্ট শিল্পীরাও একই ধরনের চুক্তির আওতায় থাকতে পারেন—এই বিষয়টি তুলে ধরে কেউ কেউ শর্তগুলোকে “আধুনিক দাসত্বের” সমতুল্য বলে বর্ণনা করেছেন।
সমর্থকেরা যে কয়েকটি প্রধান উদ্বেগ তুলে ধরেছেন:
– ব্যক্তিগত পরিচয় ও ভবিষ্যৎ আয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের অভাব
– চেহারা-সংক্রান্ত প্রত্যাশার আর্থিক বোঝা
– উচ্চচাপের বিনোদন জগতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অভাব
—
## আইনি বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
আইনি বিশ্লেষকদের বক্তব্য:
– চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও স্বাভাবিক আয়-বণ্টন ছাড়া সংগীত ও কনটেন্ট বিক্রি করা অধিকাংশ বিনোদন চুক্তির তুলনায় অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
– পরিচয় ব্যবহারের ওপর মালিকানা—বিশেষ করে AI-এর মতো বিকাশমান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে—সম্মতি ও শিল্পীসত্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান প্রশ্ন তৈরি করে।
এই উদ্বেগগুলো ইঙ্গিত দেয় যে শিল্পী ও লেবেলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক আইন বিশেষজ্ঞ যে বিষয়গুলোকে যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করেন, চুক্তিটি তার সীমারেখার অনেক বাইরে চলে গেছে।
—
## সামনে কী: ভক্ত ও শিল্প পর্যবেক্ষকদের প্রত্যাশা
NewJeans–ADOR চুক্তি নিয়ে আলোচনার ফলে শুধু একটি দলের জন্য নয়, পুরো K-Pop ব্যবস্থাজুড়ে সংস্কারের দাবি জোরদার হয়েছে। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
– অপ্রাপ্তবয়স্কদের কল্যাণ সুরক্ষার বিধান বাধ্যতামূলক করা
– চুক্তি প্রণয়নে স্বচ্ছতা
– শিল্পীসত্তার ওপর ন্যায্য পারিশ্রমিক ও নিয়ন্ত্রণ
– প্রসাধনী-সংক্রান্ত ধারাগুলোর পুনর্মূল্যায়ন
পর্যবেক্ষকেরা আশা করছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো মানসম্মত চুক্তির খসড়া কীভাবে বিতরণ ও কার্যকর করা হয়—বিশেষ করে HYBE এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলোতে ব্যবহৃত চুক্তিগুলো—তা খতিয়ে দেখবে।
NewJeans ও ADOR-এর চুক্তি প্রকাশ্যে আসায় K-Pop-এ তরুণ শিল্পীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে বৃহত্তর উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। ভক্তরা জবাবদিহিতার দাবি জোরদার করায়, এসব প্রথায় পরিবর্তন না এলে শিল্পজগৎ আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে।
This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.