Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Getty Images
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলার সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ‘গোপনে সফর’ করেছেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক “ঐতিহাসিক সাফল্য” বয়ে এনেছে বলে জানিয়েছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়।
তবে এর কিছুক্ষণ পরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, এই সফরের দাবি “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন”।
একইসঙ্গে এটিও তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক কোনো “অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার” ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি।
যুদ্ধ চলার সময় ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছিল।
একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য তেহরান বারবারই সমালোচনা করে আসছে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, নেতানিয়াহু “প্রকাশ্যে সেটাই ফাঁস করেছেন যেটি ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক আগেই” দেশটির নেতাদের জানিয়েছিল।
ছবির উৎস, Reuters
তিনি আরো বলেছেন, ইসরায়েলের সাথে এমন আঁতাত “ক্ষমার অযোগ্য” এবং যারা এটি করবে তাদের “জবাবদিহি করতে হবে”।
সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের দেওয়া একটি বিবৃতিতে, নেতানিয়াহু বা ইসরায়েলি কোনো সামরিক প্রতিনিধি দলের ওই দেশে সফরের খবর অস্বীকার করেছে।
দেশটি বলেছে, “সংযুক্ত আরব আমিরাত পুনরায় নিশ্চিত করছে যে, ইসরায়েলের সাথে তাদের প্রকাশ্য সম্পর্ক। আর সেটি সুপরিচিত ও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এর কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়। এটি কোনো অস্বচ্ছ বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে নয়।”
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত কিছু চুক্তি, যেগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নেতানিয়াহু এবং আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মধ্যকার বৈঠকটি ওমান সীমান্তের কাছের একটি মরূদ্যান শহর আল-আইন-এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এই বৈঠক।
মঙ্গলবার ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানিয়েছেন, ইরানি হামলা মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সাহায্য করতে ইসরায়েল তাদের আয়রন ডোম সিস্টেম থেকে অ্যান্টি-মিসাইল ব্যাটারি বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যাটারি পাঠিয়েছে।
আয়রন ডোম হলো একটি অত্যাধুনিক ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যেটি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়।
হাকাবি জানিয়েছেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির ওপর ভিত্তি করে “সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলের অসাধারণ সম্পর্কের” ফলে আয়রন ডোম গড়ে উঠেছিল।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ সেই সম্পর্ককে আরো গভীর করেছে বলে মনে হচ্ছে এবং এই জোটটিকে সামরিকভাবেও শক্তিশালী করেছে।
যুদ্ধ চলার সময়ে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
১০ই মে আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা দুইটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে যুদ্ধ শুরু হলে আরব আমিরাত এখন পর্যন্ত ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজার ২৬৫টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
ছবির উৎস, AFP via Getty Images
সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে, যেটি তারা এখনো প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি।
এর মধ্যে, এপ্রিলের শুরুতে ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলাও অন্তর্ভুক্ত।
এর আগে, বুধবার আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, কূটনীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।
গারগাশ তার পোস্টে জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এই যুদ্ধ চায়নি এবং এটি এড়ানোর জন্য কাজ করেছে।
তিনি বলেছেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে আরব-ইরান সম্পর্ক সংঘাত এবং সংঘর্ষের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতে পারে না”।
প্রায় এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চলছে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে। যার ফলে বিশ্বে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে তাদের শর্তে রাজী করাতে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে চাপ দিয়ে আসছে।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো পাল্টা প্রস্তাবে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” এবং একটি “আবর্জনা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
একইসঙ্গে, তিনি আরো বলেছেন, যুদ্ধবিরতি “মারাত্মক সংকটাপন্ন অবস্থায়” আছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে এবং উপযুক্ত শিক্ষা দিতে প্রস্তুত।



