Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ শি’-এর সাথে বৈঠকের পর তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে সতর্কতা ট্রাম্পের

শি’-এর সাথে বৈঠকের পর তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে সতর্কতা ট্রাম্পের

15
0

Source : BBC NEWS

বেইজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং

ছবির উৎস, Getty Images

Published এক ঘন্টা আগে

পড়ার সময়: ৪ মিনিট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্রবার ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, “কাউকে স্বাধীন করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই”।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এর আগে বলেছেন, তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই, কারণ তারা নিজেদের একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই দেখে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং তারা আইন অনুযায়ী তাদের আত্মরক্ষার সহায়তা করতেও বাধ্য। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রকে সামলাতে হয়।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, স্বশাসিত দ্বীপটি নিয়ে তিনি ‘কোনো পক্ষকেই প্রতিশ্রুতি দেননি’।

চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দখল নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি।

ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। সেই সাথে চীনে মাত্র একটি সরকার রয়েছে, সেটা মেনে নেওয়া বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার অন্যতম শর্ত।

বেইজিং যে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে অপছন্দ করে, সেটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। এর আগে তাকে ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’ এবং ‘দুই পাড়ের শান্তি ধ্বংসকারী’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেইজিংয়ে উষ্ণ সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছে

ছবির উৎস, EPA

অনেক তাইওয়ানিজ নিজেদের আলাদা জাতির অংশ হিসেবে মনে করেন। তবে অধিকাংশ মানুষ বর্তমান অবস্থাই বজায় রাখতে চান, অর্থাৎ তাইওয়ান যেন চীনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করে, আবার চীনের সঙ্গে যেন একীভূতও না হয়।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

তিনি বলেন, “আপনি জানেন, যুদ্ধ করতে আমাদের ৯,৫০০ মাইল (১৫,২৮৯ কিমি) দূরে যেতে হবে। আমি সেটা চাই না। আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীনও শান্ত থাকুক।”

ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ও শি তাইওয়ান নিয়ে ‘অনেক কথা’ বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না—সে বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

ট্রাম্প বলেন, শি তাইওয়ান ইস্যুতে ‘খুবই দৃঢ় অবস্থানে’ আছেন এবং তিনি ‘স্বাধীনতার কোনো আন্দোলন দেখতে চান না’।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, বৈঠকে শি সতর্ক করে বলেছেন, “চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাইওয়ান প্রশ্ন”।

“এটি সঠিকভাবে সামলানো না হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি সরাসরি দ্বন্দ্বেও যেতে পারে,” বলেছেন তিনি।

ছবির উৎস, EPA

তাইওয়ান নিয়ে চীনের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা আছে কি না- প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “না, আমি তা মনে করি না। আমার মনে হয় সব ঠিক থাকবে। [শি] যুদ্ধ দেখতে চান না।”

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন তাইওয়ানের চারদিকে সামরিক মহড়া ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে এবং ওয়াশিংটন যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে তাও পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

গত বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ছিল উন্নত রকেট লঞ্চার এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র। বেইজিং এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন অস্ত্র বিক্রির সেই চুক্তি এগোবে কি-না। তিনি আরও জানান, এ বিষয়টি নিয়ে তিনি ও শি ‘খুব বিস্তারিতভাবে’ আলোচনা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি বলব, আমাকে সেই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে হবে যিনি এখন তাইওয়ান পরিচালনা করছেন। আপনি জানেন তিনি কে।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, যদিও দুই পক্ষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে।

সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সরাসরি তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে কথা বলেন না, কারণ তা বেইজিংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। চীন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে কে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে বিবেচনা করে।

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Reuters

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না। আর যদি বর্তমান পরিস্থিতি যেমন আছে তেমনই থাকে, তাহলে আমার মনে হয় চীনও এতে সন্তুষ্ট থাকবে। কিন্তু আমরা এমন কাউকে উৎসাহিত করতে চাই না যে বলবে, ‘চলুন স্বাধীন হয়ে যাই, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সমর্থন দিচ্ছে।'”

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতা প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান নরম করছে বলে মনে হওয়ায় চীনের ক্ষোভের মুখে পড়েছিল।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইট থেকে একটি বিবৃতি সরিয়ে দেয়, যেখানে ওয়াশিংটন তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছিল। বেইজিং বলেছিল, এটি ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির কাছে ভুল বার্তা পাঠায়’।

সে সময় তাইওয়ানে থাকা মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি যে, যে কোনো পক্ষ থেকে একতরফাভাবে বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের প্রচেষ্টার আমরা বিরোধিতা করি।”

তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং বলেছেন, তার দল যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠকের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ও তাইওয়ানের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

তিনি বলেন, তাইওয়ান সবসময়ই এ অঞ্চলে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার রক্ষক’ হিসেবে কাজ করেছে।

পাশাপাশি তিনি চীনের বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক সামরিক কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃত্ববাদী দমন-পীড়নের’ মাধ্যমে ঝুঁকি ও উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ আনেন।