Home RSS bangla national কেরালায় দুই রাতে ১১ জনের মৃত্যু, ত্রিশুরের মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

কেরালায় দুই রাতে ১১ জনের মৃত্যু, ত্রিশুরের মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

3
0

২০২৬ সালের ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বরের রাতে কেরলের ত্রিশূর জেলায় দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়। এর পরেই বিশেষ করে নির্মীয়মাণ জাতীয় সড়ক ৬৬-এর অংশে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

## প্রথম মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা

শুক্রবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের কিছু পর কৈপমঙ্গলমের পানাম্বিকুন্নু সেন্টারের কাছে একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারে। গাড়িটিতে তামিলনাড়ুর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ারা ছিলেন। NH66-এর নির্মাণাধীন অংশে দুর্ঘটনাটি ঘটে, যখন তাঁরা একটি ভ্রমণ শেষে ফিরছিলেন। দিন্দিগুলের PSNA College-এর আটজন যাত্রীই নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার আগে ঘটনাস্থলে কোনও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ছিল না; পরে সেখানে এই ধরনের সাইনবোর্ড বসানো হয় বলে জানা গেছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, Motor Vehicles Department-এর প্রাথমিক পরিদর্শনে দাঁড় করিয়ে রাখা ট্রাকটির অবস্থানকে গাফিলতিপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছে। পড়ুয়া গাড়িচালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

## দ্বিতীয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: মধ্যরাতের সংঘর্ষে পরিবারের মৃত্যু

শনিবার মধ্যরাতের দিকে কুন্নামকুলমের কুরুক্কানপাড়া সেন্টারে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা মারে। মোটরসাইকেলটিতে ছিলেন ৩৫ বছর বয়সি মুনীর, তাঁর স্ত্রী ২৪ বছর বয়সি শিফনা এবং তাঁদের তিন বছরের ছেলে এমিল আইবাক। ফোন ধরার জন্য তাঁরা রাস্তার ধারে থামলে, বিয়েবাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ধাক্কার অভিঘাতে তাঁরা প্রায় ৫০ মিটার দূরে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মুনীর ও শিফনার মৃত্যু হয়; গুরুতর আহত শিশু এমিল পরে মারা যায়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, গাড়িচালক পালিয়ে যান; গাড়িতে থাকা দুইজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের মতে, চালক মদ্যপ ছিলেন কি না, তা-ও তদন্তের বিষয় হওয়া উচিত।

## NH66-এর নির্মাণাধীন অংশে নিরাপত্তা নিয়ে অভিন্ন উদ্বেগ

পরপর ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাগুলির পর NH66-এর নির্মাণাধীন অংশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জবাবদিহির দাবি উঠেছে। উদ্বেগের বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে:

– রাতে চালকদের জন্য সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডের অনুপস্থিতি বা অপর্যাপ্ততা।
– ভুলভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা যানবাহন, যার মধ্যে পড়ুয়াদের দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটিও রয়েছে।
– নির্মাণ করিডরের বিপজ্জনক পরিস্থিতি সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক না করা।

স্থানীয় নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। District Congress Committee-এর প্রধান অ্যাডভোকেট Joseph Tajet বলেন, মহাসড়কের কাজের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকির বিষয়টি আগেই জানানো হয়েছিল, কিন্তু যথেষ্ট সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। সমাজকর্মী Latheef Kootummal-ও নির্মাণকাজজনিত বিপদ নিয়ে বারবার করা অভিযোগের প্রতিকার না হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

## সরকারি পদক্ষেপ ও তদন্ত

দুর্ঘটনাগুলির পর আধিকারিকরা একাধিক তদন্ত শুরু করেছেন। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য একটি Special Investigation Team (SIT) গঠন করা হয়েছে। জেলা কালেক্টর জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্পের পরিচালকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে:

– ট্রাকটি নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল কি না।
– সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা প্রতিফলক চিহ্ন যথাযথভাবে বসানো হয়েছিল কি না।
– রাতে নির্মাণাধীন অংশ দিয়ে চলাচলের জন্য চালকদের পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না।

## দুর্ঘটনা-পরবর্তী পরিস্থিতি ও জনমত

একসঙ্গে ঘটে যাওয়া এই দুই মর্মান্তিক ঘটনায় ত্রিশূরের বাসিন্দারা গভীরভাবে শোকাহত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু NH66-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে যে অপর্যাপ্ত সাইনবোর্ড, প্রশ্নবিদ্ধভাবে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা এবং রাতে দুর্বল আলো বা দৃশ্যমানতার মতো অবকাঠামোগত ঘাটতি দুর্ঘটনাগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

দাবি আরও জোরালো হচ্ছে:

– মহাসড়ক নির্মাণের সময় নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।
– বিশেষ করে রাতে বেশি যান চলাচল করে এমন রুটে নির্মাণাধীন অংশগুলির নিয়মিত পরিদর্শন করা।
– প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ঠিকাদার এবং National Highways Authority of India (NHAI)-এর কাছ থেকে স্পষ্ট জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

## আগামী দিনের দিকনির্দেশ

তাৎক্ষণিক তদন্তে এই দুই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ ও দায়বদ্ধতার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে। তবে বৃহত্তর উদ্বেগ রয়ে যাচ্ছে—কেরলজুড়ে নির্মাণাধীন মহাসড়কগুলি কতটা নিরাপদভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

জরুরি ভিত্তিতে যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন:

– রাতে যাতায়াতের সময় চালকদের বিপদ সম্পর্কে যথেষ্ট আগাম সতর্ক করা হচ্ছে কি?
– নির্মাণাধীন অংশের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা যানবাহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কি?
– নির্মাণ সংস্থা এবং মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ আগের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগগুলির বিষয়ে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে কি?

নিহতদের পরিবার এবং সাধারণ মানুষ শুধু ব্যাখ্যা নয়, ত্রিশূর ও তার বাইরের NH66-এ ভবিষ্যতে প্রাণহানি রোধে দৃশ্যমান সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.