Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Reuters
এক ঘন্টা আগে
পড়ার সময়: ৩ মিনিট
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার আসন্ন বৈঠক নিয়ে কথা বলেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, বৈঠকের আগেই চীন হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে সহায়তা করবে।
তার ভাষায়, চীন তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল সংগ্রহে এই হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে থাকে।
চলতি মাসের শেষ দিকে, অর্থাৎ মার্চেই বেইজিংয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে চীনের তরফ থেকে কোনো পদক্ষেপ দেখতে চান। তার মতে, দুই সপ্তাহ অনেক দীর্ঘ সময়।
তিনি আরও জানান, এই সফর পিছিয়েও যেতে পারে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের কাছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান এমন সময়ে এলো, যখন তেহরানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় বেইজিংয়ের হয়তো নিজেদের তেলবাহী জাহাজ পার করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো জোটের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
এর আগে ভারতও জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে এক সমঝোতার মাধ্যমে তাদের দু’টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বার বার মিত্রদের সহায়তা চাইছে ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, যে দেশগুলো হরমুজ প্রণালী থেকে সুবিধা পায়, তাদের এখন স্বাভাবিকভাবেই এই প্রণালী আবার চালু করতে সহায়তা করা উচিত। কারণ তার মতে, ইউরোপ ও চীন পারস্য উপসাগর দিয়ে আসা তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি অন্য দেশগুলো এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে নেটোর ভবিষ্যতের জন্য তা খুবই খারাপ।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপিয়ান মিত্রদের প্রতি খুবই সহানুভূতিশীল।
ট্রাম্প আরও বলেন, “ইউক্রেনকে সাহায্য করা আমাদের বাধ্যতামূলক ছিল না। ইউক্রেন আমাদের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে। তবুও আমরা তাদের সাহায্য করেছি।”
“এখন দেখার পালা যে তারা আমাদের সাহায্য করে কি না। কারণ আমি অনেক দিন ধরেই বলছি, আমরা তাদের জন্য থাকি, কিন্তু তারা আমাদের জন্য থাকে না। সত্যি বলতে আমি নিশ্চিত নই যে তারা সত্যিই আমাদের পাশে আছে কি না।”
এর একদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দিতে এই যৌথ উদ্যোগে অংশ নেয়।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ।
বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বারবার হুমকি দিয়েছে যে তারা কোনো তেলবাহী জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে যেতে দেবে না,
ইতোমধ্যে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলাও করা হয়েছে।
ছবির উৎস, Vishal Bhatnagar/NurPhoto via Getty Images
অনুমতি পেয়েছে ভারত
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার করা গেছে দু’টি ভারতীয় জাহাজ।
শনিবার ভারতীয় পতাকাবাহী দু’টি গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে।
তিনি বলেন, “আমি এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং এই আলোচনা থেকে কিছু ফল পাওয়া গেছে।” তিনি আরও জানান, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের সাথে ভারতের কোনো সাধারণ বা স্থায়ী চুক্তি হয়নি এবং এর বিনিময়ে ইরান কিছুই পায়নি।
শনিবার দুটি ভারতীয় এলএনজি ট্যাঙ্কার নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর ইরানি কর্মকর্তারা ঘোষণা দেন যে ইরানের সীমান্ত থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে আটক থাকা ইরানি তেলবাহী কয়েকটি ট্যাঙ্কার মুক্ত করা হয়েছে।
ভারত তাদের শহরাঞ্চলের জন্য প্রায় ৬০ শতাংশ এলএনজি গ্যাস আমদানি করে থাকে। আর তাদের আমদানি করা মোট গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে।
এই জ্বালানির বড় অংশই পরিবহন করতে হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে।
উল্লেখ্য, ভারতে প্রায় ৩৩ কোটি পরিবার রান্নার কাজে সিলিন্ডারভিত্তিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।



