Home rss business bengali সিইএ অনন্ত নাগেশ্বরন: বৈশ্বিক সন্ধিক্ষণে ভারতের অর্থনীতির জন্য ২০২৬ অনেকটাই ১৯৯১-এর মতো

সিইএ অনন্ত নাগেশ্বরন: বৈশ্বিক সন্ধিক্ষণে ভারতের অর্থনীতির জন্য ২০২৬ অনেকটাই ১৯৯১-এর মতো

3
0

২০২৬ সালে ভারত এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা ১৯৯১ সালের রূপান্তরমূলক সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য বহন করে—এমনটাই জানিয়েছেন Chief Economic Adviser V. Anantha Nageswaran। ISID-IDRA national conference-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০২৬ (এমনকি ২০২৫ সালও) একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সময়, কারণ উৎপাদন, জ্বালানি, কৃষি এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গভীর অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার সঙ্গে বহিরাগত চাপও একযোগে তীব্র হচ্ছে।

Nageswaran-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের মতো ভারত বর্তমানে ভারসাম্য-পরিশোধ সংকটের মুখে না থাকলেও কৌশলগত পুনর্গঠনের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে; অতীতের ভুল পদক্ষেপের পরিবর্তে এখন অভিযোজনক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

—

## বহিরাগত বনাম কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ

Nageswaran জোর দিয়ে বলেন, ভারতের বর্তমান চাপ কেবল বহিরাগত ধাক্কার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। টানেল-বোরিং মেশিনের মতো পরিকাঠামোগত পণ্যের ক্ষেত্রে China-এর রপ্তানি লাইসেন্সিং নিয়মের মতো সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে যে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, বৈশ্বিক উত্তেজনা নির্ভরশীলতাকে কৌশলগত অস্ত্রে পরিণত করছে, ফলে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্র আরও জটিল হয়ে উঠছে।

গত কয়েক বছরে সেমিকন্ডাক্টর ঘাটতি থেকে জ্বালানি সংকট পর্যন্ত সরবরাহ-পক্ষের নানা বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এগুলি সাময়িক সমস্যা নয়। অতীতের সংকটগুলি মূলত চাহিদার ঘাটতি থেকে তৈরি হলেও বর্তমান সমস্যাগুলির উৎস সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সম্পদে প্রবেশাধিকারের বিঘ্ন।

—

## নতুন কৌশল

সংকটের সময় যে নীতিগত পদক্ষেপগুলি একসময় যথেষ্ট ছিল—যেমন সুদের হার কমানো, প্রণোদনা প্যাকেজ বা কোয়ান্টিটেটিভ ইজিং—সেগুলি এখন আর যথেষ্ট নাও হতে পারে। ভারতকে একই সঙ্গে আমদানি-প্রতিস্থাপন, রপ্তানি প্রতিযোগিতা এবং কৌশলগত অপরিহার্যতার সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

Nageswaran স্পষ্ট করে বলেছেন, শিল্পগুলিকে দেওয়া সহায়তার সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্ত যুক্ত থাকা উচিত। সংস্থাগুলিকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা আমদানিকৃত বিকল্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে এবং রপ্তানিতে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম। শুধু GDP-তে উৎপাদন খাতের অংশ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ও পণ্যের ক্ষেত্রে স্থিতিস্থাপকতাও সমানভাবে অপরিহার্য।

—

## আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে স্থিতিস্থাপকতা

আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৌশলগত মজুত গড়ে তোলাকে ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করার বাস্তবভিত্তিক স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। চিহ্নিত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলির মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল, শিল্পধাতু, সার, active pharmaceutical ingredients, rare earths, ব্যাটারি রাসায়নিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ।

২০২০ সালের পর থেকে যুদ্ধ, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং কৌশলগত রপ্তানি লাইসেন্সিং ব্যবস্থার কারণে ভারতের ঝুঁকিপ্রবণতা ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে। এসব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় উপকরণে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়। Nageswaran-এর বক্তব্য, প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে এমন সক্ষমতা অর্জনে, যার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া অন্যদের পক্ষে কঠিন।

—

## মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির ভারসাম্যের কঠিন পরীক্ষা

Nageswaran-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দশক মহামারির আগের ৪০ বছরের তুলনায় মৌলিকভাবে ভিন্ন হবে। ওই সময়ে বহু সংকট প্রচলিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সরঞ্জাম ব্যবহার করে মোকাবিলা করা হয়েছিল। এর বিপরীতে, বর্তমান যুগে সরবরাহ ঘাটতির কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি এবং উৎপাদন ব্যাঘাত—দুই ক্ষেত্রই নমনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।

মুদ্রানীতির সামনে বিশেষভাবে কঠিন পরিস্থিতি রয়েছে। ভৌত সরবরাহ শৃঙ্খলে ঘাটতি গভীরভাবে প্রোথিত থাকলে শুধুমাত্র সুদের হারের পরিবর্তনের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। একই সঙ্গে, যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল, সেখানে রাজস্বনীতির সহায়তা প্রয়োজন। তবে সেই সহায়তার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, সময়সীমা এবং জবাবদিহি থাকা জরুরি।

—

## সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা

বহিরাগত চাপ বাড়লেও ভারত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করেছে। শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঋণের মাত্রা এবং দৃঢ় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেশটিকে আগের সংকটকালীন পরিস্থিতি থেকে আলাদা করেছে।

১৯৯১ সালের সঙ্গে তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত হলেও Nageswaran জোর দিয়ে বলেছেন, ভারত সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির দ্বারপ্রান্তে নেই। এই মুহূর্তটি তাৎক্ষণিক বিপদের চেয়ে বরং আজকের সিদ্ধান্তগুলি আগামী এক দশক—অথবা তারও বেশি সময়ের গতিপথ কীভাবে নির্ধারণ করবে, সেই প্রশ্নের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।

—

## কৌশলগত অপরিহার্যতা: কী পরিবর্তন করতে হবে

এই সন্ধিক্ষণ সফলভাবে অতিক্রম করতে Nageswaran একাধিক বাস্তবায়নযোগ্য অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন:

– যে ক্ষেত্রগুলিতে ভারত বৈশ্বিক প্রভাব ও অপরিহার্যতা তৈরি করতে পারে, সেগুলিতে মনোযোগ দেওয়া।
– উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উপকরণের খরচ কমানো এবং জমি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।
– সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ও খনিজের মজুত গড়ে তোলা।
– রপ্তানি প্রতিযোগিতা বা আমদানি-প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা প্রমাণিত হলেই শিল্পগুলিকে সহায়তা দেওয়ার নীতি গ্রহণ করা।

১৯৯১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধির পথ এমন এক কৌশল দাবি করছে, যা পুনরাবৃত্তির ওপর নয়, বরং স্থিতিস্থাপকতা, অভিযোজনক্ষমতা এবং বৈশ্বিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।

—

Nageswaran-এর পূর্বাভাস একটি বিষয় স্পষ্ট করে: ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল আরেকটি অর্থনৈতিক চক্র নয়—এটি একটি মোড়বদলের মুহূর্ত হতে পারে। সরবরাহ শৃঙ্খলের ধাক্কা, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মোকাবিলায় ভারত কীভাবে সাড়া দেয়, তার ওপর আগামী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ভর করবে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.