Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি, রেমিটেন্স, খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে শঙ্কা

যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি, রেমিটেন্স, খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে শঙ্কা

6
0

Source : BBC NEWS

রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে চলমান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তে না এলেও, এর ছাপ যে এখানেও পড়ছে সেটি স্পষ্ট। কারণ বিশ্ববাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষা বলে অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পঞ্চম দিনেই যুদ্ধ পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। ওই অঞ্চল বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম হাব হওয়ায় এই যুদ্ধের বিস্তৃত প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে গোটা বিশ্বে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে একটি ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ তৈরি করবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবাদেরা।

জ্বালানি তেল বা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে বাস-ট্রাকের ভাড়া যেমন বাড়তে পারে, তেমনি বৃদ্ধি পেতে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কিংবা সারের দামও। ফলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ার সম্ভবনা থাকে, যার প্রভাব পড়তে পারে চাল, ডাল আর সবজির বাজারেও।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে পারে আমদানি করা ভোজ্যতেল, গম কিংবা চিনির দাম। যার ধারাবাহিক প্রভাব পড়তে পারে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কিংবা সৌখিন পণ্যে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছে যেতে পারে এদেশের সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত।

ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যেকোনো আঞ্চলিক সংঘাত আর নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকে না।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বাজলে তার প্রতিধ্বনি শোনা যায় হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশেও।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার কারণে দেশের অর্থনীতি হঠাৎই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান।

মূলত আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেই মনে করেন তিনি।

আর এ কারণেই বিকল্প উৎস এবং আর্থিক সংস্থানের বিষয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলছেন, “আমাদের জ্বালানি মজুদের যে তথ্য পাচ্ছি, সেই অনুযায়ী, ডিজেল আছে দুই সপ্তাহ, কেরসিন ছাড়া আর সবগুলোই তো দুই সপ্তাহ থেকে ছয় সপ্তাহের বেশি নাই। আমাদের অবশ্যই বিকল্প কোনো জায়গা থেকে কেনা যায় সেটি ঠিক করতে হবে।”

এছাড়া পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব রপ্তানিকারক এরই মধ্যে সমস্যায় পড়েছেন, তাদের পাশেও সরকারের দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন মি. রহমান।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে

ছবির উৎস, Europa Press via Getty Images

জ্বালানি নিয়েই যত চিন্তা

ইরানের ড্রোন আঘাত হেনেছে আরব আমিরাতের মজুদ রাখা জ্বালানি ট্যাঙ্কারে। নিজেদের বেশ কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি স্থাপনায় ইরানি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর জানিয়েছে কাতার। হামলা হয়েছে সৌদি আরবের তেল শোধনাগারেও।

সমুদ্র পথে পণ্য পরিবহনে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী ইতোমধ্যে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড।

তারা সতর্ক করেছে যে, হরমুজ প্রণালী “কেউ পার করার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে।”

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অস্থির সময় পার করছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি মূল্যে।

তেলের দামের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড বৃহস্পতিবার ব্যারেল প্রতি ৮৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। হামলার প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮শে ফেব্রুয়ারির সঙ্গে তুলনা করলে ওই দাম প্রায় দশ শতাংশ বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদ এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য শিগগিরই একশ ডলারে পৌঁছাবে।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মতো আমদানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য ভয়াবহ বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা না থাকায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেই আসে। যার বড় যোগানদাতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার এবং ওমান।

এই দেশগুলো থেকেই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি আমদানি করে বাংলাদেশ। এছাড়া স্পট মার্কেট থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি কেনা হয়।

কিন্তু ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় ইতোমধ্যে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

এছাড়া বাংলাদেশের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ, যার বেশিরভাগই ভারতের ওপর নির্ভরশীল। তাদের জ্বালানিও আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই।

অর্থাৎ জ্বালানির কারণে বিদ্যুৎ সংকট এবং সেখান থেকে কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সব মিলিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলছেন, তেলের দাম বাড়লে সরকারকে একই পরিমাণ জ্বালানি কিনতে অনেক বেশি ডলার খরচ করতে হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের টান পড়ে, যা মুদ্রার বিনিময় হার বা ডলারের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে সরকারকে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলছেন অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান।

“বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা, আমদানি উৎস বহুমুখীকরণ, কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচনের মতো পদক্ষেপ এখনই বিবেচনায় আনা প্রয়োজন,” বলেও মনে করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সব থেকে বড় শঙ্কা তৈরি করায় এরই মধ্যে ‘জ্বালানি সাশ্রয়’ নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে সতর্কও করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

আপাতত সাশ্রয়ের পাশাপাশি অন্য কোনো দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা যায় কিনা -এ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

“জ্বালানি সাশ্রয় করে চললে ঈদের ছুটি পর্যন্ত বা মার্চ মাস পর্যন্ত মজুত জ্বালানি দিয়ে চলা যাবে,” জানান মি. টুকু।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা রুট

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের বাজারে যায়। বিশেষ করে পোশাক খাতের ওপর ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানান এই খাতের ব্যবসায়িরা।

ব্যবসায়িরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগর কিংবা সুয়েজ খালের মতো রুটগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলে জাহাজ কোম্পানিগুলো ‘ওয়ার রিস্ক সারচার্জ’ আরোপ করে। এতে পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

তারা বলছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে ইতোমধ্যে অর্ডার সংকুচিত করেছে অনেক দেশ। এছাড়া জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে।

নিরাপদ রুটে পণ্য পাঠাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, যা রপ্তানির লিড টাইম বাড়িয়ে দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গার্মেন্টস মালিকদের একটি সংগঠন বিকেএমইএ এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলছেন, জ্বালানির সঙ্গে সব কিছুই জড়িত। এর দাম বৃদ্ধি পেলে কেবল বাংলাদেশ নয় প্রভাবিত হবে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি।

“সমুদ্রে কার্গো পরিবহন অনিশ্চিত থাকায় আমাদের অনেক অর্ডার সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না। পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম নিয়েও জটিলতা তৈরি হবে। আর জ্বালানি ছাড়া অভ্যন্তরীণ উৎপাদনও বাঁধাগ্রস্ত হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে স্বল্প এবং দীর্ঘ মেয়াদি দুই ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

তাৎক্ষণিক প্রভাবগুলো ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে বলে মনে করে মি. রহমান। “আমাদের রপ্তানি পণ্য বন্দরে বসে আছে, অন্য রুট ধরে যেসব পণ্য যাচ্ছে সেগুলোর পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, ইনসুরেন্স কস্ট বেড়েছে, ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে গেছে,” বলেন তিনি।

কেবল পোশাক রপ্তানি নয়, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে অন্যতম কৃষি উপকরণ সারের ওপরও। কারণ বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় সারের একটি বড় অংশ আমদানি করে কাতার ও সৌদি আরব থেকে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চলমান থাকলে সারের সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সময়মতো সার আমদানি করতে না পারলে দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

এছাড়া দেশিয় কারখানায় সার উৎপাদনের জন্যও জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ সার উৎপাদনও প্রভাবিত হতে পারে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কিছু মজুত থাকলেও নতুন আমদানি ব্যাহত হলে তা দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। যার বড় প্রভাব পড়বে দেশের কৃষি উৎপাদনে।

“বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে,” বলেই মনে করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের অসংখ্য প্রবাসী শ্রমিক কর্মরত

ছবির উৎস, Getty Images

রেমিট্যান্সের ওপর প্রভাব

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস হলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদে প্রবাসী আয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে প্রায় এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি বিদেশে কর্মরত, যার সিংহভাগই রয়েছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতা‌র, কুয়েত ও ওমানের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, দেশের বাইরে বসবাস করা বাংলাদেশি অভিবাসীর অন্তত ৬০ লাখেরই গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এরই মধ্যে নানা সংকট তৈরি হয়েছে এই প্রবাসীদের।

ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এখন পর্যন্ত অন্তত দুইশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যেতে ইচ্ছুক অনেক বাংলাদেশি নিজ দেশেই থেকে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এছাড়া যুদ্ধাবস্থা চলমান থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই অন্য দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের নীতি পরিবর্তন করতে পারে। এতে করে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধের শঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়াসহ নানা জটিলতায় পরবর্তীতে আর দেশগুলোতে যাওয়া হবে কিনা এমন শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

অতীতে কুয়েত যুদ্ধের সময় হাজার হাজার বাংলাদেশিকে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি পুনরায় তৈরি হলে তা দেশের বেকারত্ব সমস্যার ওপর পাহাড়সম চাপ তৈরি করবে।

যদিও রেমিটেন্স প্রবাহের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদে তেমন প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে প্রবাসে কাজ হারানোর শঙ্কা রয়েছে, শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি নিয়েও শঙ্কা আছে।

“যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রলম্বিত হলে রেমিট্যান্স প্রভাবিত হবে, এখনই বড় ধরণের প্রভাব দেখছি না। আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তাটাই এখন বড় চিন্তার বিষয়,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

এছাড়া এই ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনই কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছেন অর্থনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীরা।

রেমিট্যান্সের ঝুঁকি কমাতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া এবং দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করার কথাও বলছেন তারা।