Source : BBC NEWS

এক ঘন্টা আগে
পড়ার সময়: ৭ মিনিট
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— US grants Bangladesh fresh 60-day waiver for Russian fuel imports; অর্থাৎ রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র।
এই খবরে বলা হচ্ছে, রাশিয়ার পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য বা তেল কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যা চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে চাপের মুখে থাকা বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক স্বস্তি বয়ে আনবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার মতে, গত ১১ই এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ছাড়টি ৯ই জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ১১ই এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
এর আগে, গত ১২ই মার্চ মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়ে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল, যার মেয়াদ ১১ই এপ্রিল শেষ হয়।
সেই ছাড়টি শুধুমাত্র সেই সব দেশের জন্য ছিল, যারা কি না এই ঘোষণার আগে রাশিয়ার তেল জাহাজে ভরেছে এবং সেগুলো সমুদ্রে রয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাংলাদেশের জন্য কোনো সুবিধা বয়ে আনেনি, কারণ সমুদ্রে বা বাংলাদেশের পথে রাশিয়ার তেলবাহী কোনো জাহাজ ছিল না।

এই খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশে প্রথমবারের মতো সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে চার হাজার উপপরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) পদ পূরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, পুলিশের এসআই পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং বাকি ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
সরাসরি এসআই নিয়োগে বিদ্যমান পুলিশ রেগুলেশনস (পিআরবি), ১৯৪৩-এর প্রবিধান অনুযায়ী কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধনের প্রস্তাব এসেছে।
তবে এই উদ্যোগ ঘিরে পুলিশ বাহিনীর নিম্নপদস্থ সদস্যদের (কনস্টেবল, নায়েক ও এএসআই) মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তাদের অনেকে আশঙ্কা করছেন, বিভাগীয় কোটা সংকুচিত বা বিলুপ্ত করে সরাসরি এসআই নিয়োগের ফলে পদোন্নতির স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হতে পারে। এতে তাদের চাকরিজীবনে উন্নতিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এদিকে, পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৫০০টি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদ সৃষ্টির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশ পুলিশকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় ধরনের জনবল পুনর্গঠনের উদ্যোগের অংশ হলো এই পরিকল্পনা।

হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক মাস থাকতে পারে— প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি।
এই খবরে বলা হচ্ছে, দেশের ৬১টি জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮৩ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।
হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দেড় মাস স্থায়ী হতে পারে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারণা। তারা বলেছে, ইতিমধ্যে বেশি সংক্রমণ এমন এলাকাগুলোয় টিকাদান চলছে।
আর ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান শুরু হবে। চলবে চার সপ্তাহ।
এর পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের বিচ্ছিন্ন রেখে (আইসোলেশন) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করছেন, টিকাদান, আইসোলেশন ও মানুষের সতর্কতার কারণে হামের সংক্রমণ কমে আসতে পারে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ৮৬ শতাংশ শিশু টিকার প্রথম ডোজ এবং ৮১ শতাংশ শিশু দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে। চার-পাঁচ বছরে টিকা না পাওয়া বা অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা হয়েছে এক বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সমান বা তার বেশি।
দেশে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করে। সে হিসেবে হাম-রুবেলার টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা ৩৪ লাখ বা তার বেশি।

এতে বলা হয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না থাকায় দেশে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার ফলে বাড়ছে লোডশেডিং।
এ পরিস্থিতিতে শহরাঞ্চলে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও মফস্বল এলাকাগুলোয় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে কোথাও কোথাও দিনে ৭-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
তীব্র গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।
বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন প্রয়োজন হলেও এসব জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় মূলত উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
এর জন্য যুদ্ধ ছাড়াও অর্থ সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে। যেমন বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানালেন, বকেয়ার কারণে মালিকরা ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে পারেননি।
বর্তমান মজুত জ্বালানি দিয়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে আগামী মে মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

শর্ত পূরণ ছাড়া সহায়তা নয়— নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম এটি। শর্ত পূরণ করতে না পারলে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বাড়তি সহায়তা না পাওয়ার খবর ওঠে এসেছে এই প্রতিবেদেন।
যেখানে বলা হয়েছে, আইএমএফ এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদি সংস্থাটির কাছ থেকে বর্ধিত সহায়তা আশা করে, সেক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
যার মধ্যে রয়েছে, জ্বালানির দামের সমন্বয় (বৃদ্ধি), প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ছাড়া সব ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহার, কর ছাড় রদ এবং ভ্যাটের অভিন্ন হারের প্রবর্তন।
এসব বিষয়ে দ্রুত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হলে বাংলাদেশকে বাড়তি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
শুধু তাই নয়, শর্ত পূরণ না হলে চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় পরবর্তী কিস্তিও জুন মাসে ছাড় করা হবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চলমান অর্থনীতি ও জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে যেন অন্তত ১০০ কোটি ডলার বাড়তি সহায়তা দেওয়া হয় তার আর্জি জানানো হয়। বাজেট সহায়তা হিসেবে যা জুনের আগেই চেয়েছিল ঢাকা।
কিন্তু আইএমএফ এর পক্ষ থেকে চলমান সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের যে সংকট দেখা দিয়েছে, সেটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মজুত চক্র গড়ে উঠেছে। যারা তেল মজুত করে উচ্চ দামে বিক্রি করছে।
সম্প্রতি অনলাইনেও এই চক্র তৎপর হয়েছে। যারা অনলাইনে তেল বিক্রির প্রচারণা চালাচ্ছে।
দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা লিটারে তেল বিক্রির প্রচারণা চালানো হচ্ছে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে।
এছাড়া, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা, মিরপুরসহ কয়েকটি বাজারে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে।
পাম্পে যেখানে তেল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেখানে কীভাবে খোলা বাজারে তেল বিক্রির ব্যবসা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যানবাহনচালকদের একটি অংশ মজুত প্রক্রিয়ায় জড়িত হয়েছেন। তাদের কেউ ভবিষ্যৎ শঙ্কা থেকে জ্বালানি মজুত করছেন, আবার কেউ জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন।
এমন অবস্থায় সরকার তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক বললেও মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন।

এই সংবাদে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির যেসব নেতা বহিষ্কৃত হয়েছেন, তাদেরকে দলে টানার চেষ্টা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
একই সঙ্গে এই নেতাদের সমর্থন করায় যেসব নেতাকর্মী বিএনপি-ছাড়া হয়েছেন, এনসিপিতে এলে তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিএনপির দিক থেকে এনসিপিকে পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, জামায়াতের জোট ছাড়লে সহযোগিতা করা হবে। তবে প্রস্তাবটি এনসিপি গ্রহণ করেনি।
এ বিষয়ে এনসিপির একাধিক নেতা বলেছেন, এনসিপি নিজেদের গড়ে তুলতে বিরোধী দলের রাজনীতিই করতে চায়। সরকারের সঙ্গে থেকে অতীতে কোনো দলের রাজনীতি দাঁড়ায়নি।
দলটির কয়েক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, স্থানীয় নির্বাচনও তারা জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে করতে চান। তবে সেটি নির্বাচনী জোট, আদর্শিক পর্যায়ে নেওয়া হবে না।
আর সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে সংসদ নির্বাচনে পুরোপুরি জামায়াতনির্ভর হতে হয়েছিল। এখন তারা সেই নির্ভরতা দূর করতে চান।

এই খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতাগ্রহণের দুই মাসের মধ্যে একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বিএনপি সরকার।
যার মধ্যে প্রথম ধাক্কাটা আসে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে। যার দায় সরকারের না হলেও জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে বেশ সমস্যাই তৈরি হয়েছে।
এরপর ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং সাম্প্রতিক ‘মব সন্ত্রাস’-এর মতো ঘটনাগুলোও সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলেছে।
পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সংসদে এবং সংসদের বাইরে সরকারকে চাপে ফেলতে চেষ্টা করছে। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার হুমকি দিচ্ছে।
তবে সব চ্যালেঞ্জ ও চাপ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও রয়েছে সরকারের ভেতরে।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম— Govt mulls hike in power price as subsidy mounts; অর্থাৎ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে সরকার।
এই খবরে বলা হচ্ছে, যুদ্ধের প্রভাবে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে অস্বাভাবিক ভর্তুকির লাগাম টানতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পথে আগাচ্ছে সরকার।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা বিদ্যুৎ বিভাগের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি এক টাকা বিশ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমানে ইউনিটপ্রতি এই মূল্য সাত টাকা চার পয়সা।
পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়াতে মোট তিনটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
রূপরেখা অনুযায়ী, বর্তমান সাত টাকা চার পয়সা থেকে ৫০ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি ইউনিটের দাম সাত টাকা ৫৪ পয়সা করা হলে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি কমবে।
এক টাকা বাড়িয়ে পাইকারি দাম আট টাকা চার পয়সা হলে ভর্তুকি ১০ হাজার কোটি টাকা কমতে পারে।
পাইকারি মূল্য প্রতি ইউনিটে এক টাকা ২০ পয়সা বাড়িয়ে আট টাকা ২৪ পয়সা করলে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।
এই পরিকল্পনাটি এমন সময়ে কার্যকর করা হচ্ছে, যখন কি না চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি বেড়ে এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই পরিমাণ ঘাটতি ছিল, যা গত সপ্তাহের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বেড়ে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াবে।




