নেপাল এক মহাবিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করছে: ৭০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ, এবং সবার চোখের সামনে মানবিক জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বুধবার নেপাল ও তিব্বতের মধ্যবর্তী হিমালয় সীমান্তে আকস্মিক ও বিধ্বংসী হিমবাহ ধস নামে, যার অভিঘাত এখনও অব্যাহত। বিপর্যয়ের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি এবং চলমান উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হল।
## বাড়ছে মানবিক ক্ষয়ক্ষতি
নেপাল ও চিনের তিব্বত অঞ্চলের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ে **৩,০৪৮ জন এখনও নিখোঁজ**, আর **৭৯৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে**। শুধু নেপালেই সরকারি ভাবে **৭৮১ জনের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে**, এবং **২,৫০২ জন—যাঁদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক—নিখোঁজ রয়েছেন**।
তিব্বতে অন্তত **১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে**, এবং **৫৪৬ জন নিখোঁজ**, যাঁদের মধ্যে **২৬১ জন বিদেশি**।
## জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
উদ্ধার অভিযানে জানা গেছে, একাধিক জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গের ভিতরে আনুমানিক **১০০ জন বা তারও বেশি কর্মী** আটকে রয়েছেন। বরফ-পাথরের ধসের স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত নদীগুলির পাশে থাকা বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নিখোঁজ **৯৩৩ জন কর্মীর** মধ্যে রয়েছেন এই শ্রমিকরা।
এমনই একটি প্রকল্প—Trishuli 3A-তে—নেপালি সেনাবাহিনী ডুবে থাকা একটি সুড়ঙ্গের মধ্যে একটি বায়ু পাইপ স্থাপন করেছে, যাতে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবনধারণে সহায়তা করা যায় এবং উদ্ধারকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে **প্রবল বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি** বারবার উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটিয়েছে।
সহায়তার জন্য ভারত ও চিন বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে: ভারত **১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল** পাঠিয়েছে, আর চিন সুড়ঙ্গপথে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন **৯ সদস্যের একটি দল** মোতায়েন করেছে।
## ভূতাত্ত্বিক কারণ ও নতুন বিপদ
নেপালের Lirung Peak-এর দক্ষিণ ঢালে হিমবাহের বরফ ধসে পড়ার ফলেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বরফ ও পাথরের মিশ্রণের একটি প্রবল স্রোত নীচের দিকে ধেয়ে গিয়ে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করে, যা নেপাল–তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিকে প্লাবিত করে।
উদ্ধারকারী দলের জন্য নতুন বিপদ হিসেবে, একটি **ভূমিধসের** পর একটি **নতুন বাধা-হ্রদ** তৈরি হয়েছে। এটি একটি শুকিয়ে যাওয়া হ্রদ থেকে প্রায় **২.৮ কিলোমিটার** দূরে অবস্থিত। আধিকারিকরা এখন তৈরি হওয়া এই নতুন surge lake-টির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছেন।
## বিশৃঙ্খলা, আতঙ্ক এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতি
জরুরি পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে Bidur শহরের একটি উদ্ধারকেন্দ্রে। সেখানে সেনাকর্মীরা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নাম লেখা দেওয়াল মানচিত্র টাঙিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বহু পরিবার—বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে নিখোঁজ প্রিয়জনদের খোঁজে আসা পরিবারগুলি—নীরবে অপেক্ষা করছে, কোনও তথ্য ছাড়াই।
একটি স্বস্তির খবরে, অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা বাবা-মা জানান, তাঁদের মেয়ে **২৪ বছরের Cara Severino-কে** নিরাপদে পাওয়ার পর তাঁরা “আনন্দে আত্মহারা” হয়ে উঠেছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা কয়েক জন বিদেশি তীর্থযাত্রীর মধ্যে তিনি ছিলেন। তবে দুঃখজনক ভাবে, এখনও **৪২ জন অস্ট্রেলীয় নিখোঁজ** রয়েছেন।
## জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা
নেপালের বিদেশমন্ত্রী **Shisir Khanal** বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছেন, এই বিপর্যয় হিমালয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা বিপদের দিকটি তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভঙ্গুর পার্বত্য পরিবেশ হঠাৎ হিমবাহ গলে যাওয়ার ঘটনায় ক্রমেই বেশি ঝুঁকিপ্রবণ হয়ে উঠছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান **Simon Steill** হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যাকে “এই পার্বত্য পরিবেশগুলি কতটা ভঙ্গুর হতে পারে, তার একটি বিধ্বংসী স্মারক” বলে বর্ণনা করেছেন। ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় হিমবাহ ধসকেই প্রাথমিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
## ত্রাণ, পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা
Red Cross-এর হিসাব অনুযায়ী, নেপালে বন্যায় সম্ভাব্য ভাবে **৯৩,০০০ মানুষ** ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। দেশটি আনুষ্ঠানিক ভাবে আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে—তাৎক্ষণিক অর্থায়ন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিষয়ক দক্ষতা, ভারী সরঞ্জাম বহনে সক্ষম ড্রোন, DNA পরীক্ষার কিট এবং শীতলীকরণ ও মৃতদেহ সংরক্ষণের ইউনিট চেয়ে।
আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও আসতে শুরু করেছে:
– **United States** এবং **Canada** প্রত্যেকে প্রায় **US$3.6 million** মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে
– **United Kingdom** **US$6.8 million** দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
– **UN** জরুরি তহবিল থেকে **US$2.5 million** ছেড়েছে
– **European Union** **US$2.3 million** দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
– **IFRC** **US$1 million-এরও বেশি** বরাদ্দ করেছে এবং অতিরিক্ত **US$31 million** তহবিলের জন্য আবেদন শুরু করেছে
– **China** এবং **Malaysia**-ও সহায়তার হাত বাড়িয়েছে: China জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে সহায়তা করছে, আর Malaysia তার Special Search and Rescue Team—SMART unit—পাঠানোর পাশাপাশি **US$1 million** দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে
বিদেশমন্ত্রী Khanal-এর মতে, নেপালের পুনর্গঠনে **বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার** খরচ হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানের বিস্তারিত মূল্যায়ন হলে বৃহৎ পরিসরের পুনরুদ্ধার ও পুনর্নির্মাণে কী ধরনের সম্পদ প্রয়োজন হবে, তা আরও স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাবে।
—
হিমালয় অঞ্চলে চলতে থাকা এই বিপর্যয় পরিবার, সরকার এবং উদ্ধারকর্মীদের উত্তর খুঁজতে মরিয়া করে তুলেছে। জীবিতদের সন্ধান পাওয়ার আশা এখনও রয়েছে। তবে কঠোর আবহাওয়া এবং পরিবেশগত ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত এই বিপর্যয়ের ধ্বংসযজ্ঞ জলবায়ুগত ভঙ্গুরতার কারণে আরও তীব্র হয়ে ওঠা এক মর্মান্তিক পরিস্থিতির ছবি তুলে ধরছে।
This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.