Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Thainewspix
এক ঘন্টা আগে
থাইল্যান্ডে ভোটাররা আজ নতুন সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট দিতে যাচ্ছেন। পাশাপাশি একই সাথে দেশটির সংবিধান সংস্কার নিয়েও একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর ডিসেম্বরে দেশটি প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়িয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল হঠাৎ করেই এই নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। তিনি গত তিন বছরের মধ্যে দেশটির তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী।
সমালোচকদের মতে, দেশটির সংবিধানে সিনেটের অনির্বাচিত সদস্যদের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া আছে।
এবারের এই নির্বাচনকে মূলত দুটি দলের মধ্যে লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই দুটি হলো- রক্ষণশীল ও সেনা সমর্থিত ভূমজাইথাই পার্টি এবং তরুণ সংস্কারপন্থী পিপলস পার্টি।
যদিও দুটি দলই দেশটির এখনকার ক্ষমতাসীন জোট সরকারের অংশ এবং ধারণা করা হচ্ছে যে কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না।
এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে ফেউ থাই পার্টি। তবে দলটির সাবেক নেতা পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের পর তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দলটি তার প্রভাব হারিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আজকের নির্বাচনে থাইল্যান্ডের মানুষ শুধু তাদের দেশের জন্য একজন নতুন নেতা নির্বাচনই করছেন না—পাশাপাশি দেশটির সংবিধান নিয়ে একটি গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন।
ছবির উৎস, Thainewspix
সামরিক শাসনের অধীনে ২০১৭ সালে দেশটির বর্তমান সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এতে অনির্বাচিত সিনেট সদস্যদের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং এটি একটি অভ্যুত্থানের পর প্রণয়ন করা হয়েছিল।
সংসদের নতুন সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা রয়েছে, তবে তার আগে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
এটিই সেখানে এই ধরনের প্রথম গণভোট নয়। দেশটিতে এর আগে ২০০৭ ও ২০১৬ সালে দুটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তবে সমালোচকদের দাবি, সেসব ক্ষেত্রে গণভোটের আগেই খসড়া সংবিধান তৈরি ও অনুমোদন করা হয়েছিল। এবারের গণভোটটিকে আগেরগুলোর চেয়ে ভিন্ন বলা হচ্ছে, কারণ এবার গণভোটে অনুমোদন পাওয়া গেলেই কেবল নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করা হবে।
দেশটিতে অবশ্য ভোটে জেতা মানেই সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়া নয়। ২০২৩ সালে প্রগ্রেসিভ মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি নির্বাচনে বিস্ময়করভাবে জয়লাভ করলেও সরকার গঠন করতে পারেনি।
আজ দেশটির সংসদের ৫০০ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে। এটি থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ।
এই ৫০০ জনের মধ্যে ৪০০ জন সরাসরি নির্বাচিত হয়ে আসেন আর বাকী ১০০ আসন ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে বণ্টন হয়।
ভোটাররা সেখান দুটি ভোট দিয়ে থাকেন। একটি হলো নিজ সংসদীয় এলাকার প্রার্থী, আর অন্যটি হলো রাজনৈতিক দল।
প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটের সমন্বয়ে গঠিত হয় থাইল্যান্ডের জাতীয় পরিষদ।
এই বছর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেনেটের ভূমিকা নেই।
ছবির উৎস, BBC/Joe Phua
আগের ঘটনা প্রবাহ
থাইল্যান্ডের ২০২৩ সালে চার বছর মেয়াদের জন্য সংসদের নিম্নকক্ষের আইন প্রণেতারা নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু চার বছরের সেই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশটিতে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কিন্তু এখন কেন হঠাৎ নির্বাচনটি হচ্ছে, তা বুঝতে হলে আমাদের গত বছরের ঘটনাগুলোর দিকে ফিরে তাকাতে হবে:
মে ২০২৫: থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে এক কম্বোডিয়ার সেনা নিহত হবার পর দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এই সীমান্ত এলাকা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
জুন ২০২৫: থাই প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার কম্বোডিয়ার নেতা হুন সেনের সাথে একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যায়।
ওই আলাপে তিনি হুন সেনকে “চাচা” বলে সম্বোধন করেন এবং সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ছবির উৎস, Thanyarat Doksone
ফোনালাপটি ফাঁস হওয়ার পর পেতংতার্নের বিরুদ্ধে জন অসন্তোষ তৈরি হয়। যদিও তিনি ওই ফোনালাপকে আলোচনার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
জুন ২০২৫: পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার ফেউ থাই পার্টির সবচেয়ে বড় জোটসঙ্গী ভূমজাইথাই পার্টি ফোনালাপের ঘটনাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে সরকার থেকে সরে যায়। এতে তার দল সংসদে খুব সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নেমে আসে।
আগস্ট ২০২৫: থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত রায় দেয় যে ফোনালাপে নৈতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছেন পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা এবং এর ফলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে হয়।
সেপ্টেম্বর ২০২৫: ভূমজাইথাই পার্টির নেতা আনুতিন চার্নভিরাকুল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। প্রগতিশীল পিপলস পার্টির সঙ্গে নতুন জোট গঠনের মাধ্যমে তিনি সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনা শুরু করেন। এই জোটের শর্তগুলোর মধ্যে ছিল কয়েক মাসের মধ্যেই সংসদ ভেঙে দেওয়া।
ডিসেম্বর ২০২৫: আনুতিন চার্নভিরাকুল সংসদ ভেঙে দেন এবং এর ফলে সাধারণ নির্বাচনের পথ সুগম হয়।



