Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ‘তেল দ্বীপে’ সব সামরিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ‘তেল দ্বীপে’ সব সামরিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

14
0

Source : BBC NEWS

ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Getty Images

৪৯ মিনিট আগে

পড়ার সময়: ৪ মিনিট

ইরানের খারগ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, সেখানকার তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি করা হয়নি।

বিবিসির মাইকি কে’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দ্বীপটি থেকেই ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয় এবং এটিকে তেহরানের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়।

এর আগে দুজন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি মেরিন ইউনিট এবং আরও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

এই মেরিন ইউনিটটি সমুদ্রপথে আক্রমণ চালাতে সক্ষম এবং সাধারণত এটি কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে থাকা সর্বোচ্চ প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও নাবিক নিয়ে গঠিত হয়।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও পেন্টাগনের সাথে যোগাযোগ করেছে।

বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা বলছেন, এসব খবর থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আরও বিস্তৃত বিকল্প নিয়ে চিন্তা করছে।

ওদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে এবং সেজন্য তারা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ইরান উপকূলে খারগ দ্বীপ, স্যাটেলাইটে তোলা ছবি

ছবির উৎস, Gallo Images/Orbital Horizon/Copernicus Sentinel Data 2024

যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী তেল কোম্পানির ওপর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান পাল্টা সতর্ক করেছে।

তারা বলেছে, যদি তাদের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আরও হামলা হয়, তাহলে তারা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করা তেল কোম্পানি ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর দিয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান

খারগ দ্বীপ কোথায়, কেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপের সব “সব সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে” বোমা হামলা চালিয়েছে।

এটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত প্রায় ৫ মাইল লম্বা একটি ছোট দ্বীপ। এই দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দ্বীপটিতে অল্প কিছু মানুষ বাস করে। বরং ইরানের রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে যায়।

বড় বড় তেলবাহী ট্যাংকার প্রথমে এই দ্বীপ থেকে তেল নিয়ে তারপর সেখান থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়।

এর অন্যতম হলো চীন। দেশটি ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

হরমুজ প্রণালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজে হামলা হয়নি

ছবির উৎস, Reuters

কাতারে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের কিছু অংশ থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একটি সাময়িক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ঝুঁকি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এই সতর্কবার্তায় হুমকির প্রকৃতি স্পষ্টভাবে বলা হয়নি, তবে ইরান বলেছে তারা দেশটিকে লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা করেছে।

ইরান এর আগেও এই উপসাগরীয় রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলা করেছিল।

ওদিকে বাহরাইনও তাদের নাগরিকদের আশ্রয় নিতে বলেছে এবং সেখানে সাইরেন বাজিয়ে লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব বলেছে যে তারা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।

তেল আভিভের কাছে আগুন

ছবির উৎস, Reuters

রাশিয়ার তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে সমালোচনা

ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

এই ছাড়ের ফলে বিভিন্ন দেশ সমুদ্রে থাকা কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে এখনও বিক্রি না হওয়া রুশ তেল কিনতে পারবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি অ্যান্টনিও কস্টা শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ‘খুবই উদ্বেগজনক’, কারণ তার মতে, এটি ইউরোপের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, নিষেধাজ্ঞা দুর্বল করলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসী যুদ্ধ চালানোর জন্য রাশিয়ার সম্পদ আরও বাড়বে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে রাশিয়া প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার (৭.৫ বিলিয়ন পাউন্ড) লাভ করতে পারে। তার মতে, ‘এটি অবশ্যই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে না’।

অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্র মি. জেলেনস্কির সাথে একসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার ঘোষণাকে কোনোভাবেই রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কারণ হিসেবে দেখানো যায় না।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, তার দেশের অবস্থান হলো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা।

এর আগে আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ‘ভুল।