Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের গ্রেফতার নিয়ে এখন পর্যন্ত যা যাচ্ছে

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের গ্রেফতার নিয়ে এখন পর্যন্ত যা যাচ্ছে

15
0

Source : BBC NEWS

সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর

ছবির উৎস, Reuters

৪ ঘন্টা আগে

পড়ার সময়: ৪ মিনিট

সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় অসদাচরণের সন্দেহে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরকে গ্রেফতার করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ।

ব্রিটেনের রাজা চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু এমন দিনে গ্রেফতার হলেন যেদিন তার ৬৬তম জন্মদিন।

অবশ্য এই গ্রেফতার সরাসরি কোনো অপরাধ নিশ্চিত করার ইঙ্গিত দেয় না এবং এখনো কোনো অভিযোগ নেই।

যদিও অ্যান্ড্রু সবসময় এবং দৃঢ়ভাবে যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

টেমস ভ্যালি পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল অলিভার রাইট বলেন, “একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের পর, আমরা এখন সরকারি অফিসে অসদাচরণের এই অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছি।”

পুলিশ সরাসরি নাম প্রকাশ না করলেও তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করার মতো ঘটনা।

বিবিসির রাজকীয় বিষয়ক সংবাদদাতা শন কফলান এটিকে ‘সংবাদ হিসেবে ভূমিকম্প’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, সকালে তিনি কোথায় ছিলেন তা সঠিক জানা না থাকলেও কিন্তু থানার প্লাস্টিকের কাপ এবং জঞ্জালের মধ্যে একজন রাজার ভাইকে কল্পনা করাটাই খুব অবাক করার মতো।

বাকিংহাম প্যালেস এবং উইন্ডসর ক্যাসেলের জাঁকজমকের তুলনায় এটি এক বিশাল অধঃপতন।

অ্যান্ড্রুর গ্রেফতারের পর রাজা চার্লস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে হবে”।

এপস্টিন-কাণ্ডের সাথে সংযোগ

এই মুহূর্তে তার গ্রেফতারের সাথে এপস্টিন ফাইলসে তার নাম থাকার কোনো সংশ্লিষ্টতা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।

কিন্তু বিবিসির বিশেষ সংবাদদাতা লুসি ম্যানিং এর মতে অ্যান্ড্রুর সাথে এপস্টিন ফাইলসের সংযোগের তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

অসদাচরণের সন্দেহে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেফতার করা হলেও, এটি তার বাণিজ্য দূত থাকাকালীন নথিগুলোর সাথে সম্পর্কিত। সেসব নথি এপস্টিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো টেমস ভ্যালি পুলিশ তদন্ত করছে।

তারা সরকারি অফিসে অসদাচরণের অভিযোগ এবং অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের সাথে যৌন সম্পর্কের জন্য জেফরি এপস্টাইন কর্তৃক দ্বিতীয় একজন নারীকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর অভিযোগের তদন্ত করছে

পহেলা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে যুক্তরাজ্যের দ্য সানডে টেলিগ্রাফ সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের ছবি

ছবির উৎস, Getty Images

বিবিসির মিজ ম্যানিং ধারনা করছেন এই গ্রেফতার কেবল সরকারি পদে অসদাচরণের জন্য এবং স্পষ্টতই এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত যে সাবেক রাজপুত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই প্রথমবারের মতো একজন সাবেক রাজপুত্র, যিনি দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সাথে এই সংযোগের জন্য অসংখ্য অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। অ্যান্ড্রু ধারাবাহিকভাবে এবং দৃঢ়ভাবে অন্যায়ের কথা অস্বীকার করে আসছেন।

এখন তাকে গ্রেফতারের অর্থ পুলিশ অ্যান্ড্রুর বাড়ি এবং সম্পত্তি তল্লাশি করতে পারবে।

সাবেক মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট, দাল বাবু বিবিসি নিউজকে বলেন যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপ “ক্রমশ বাড়ছে”।

প্রাক্তন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন যে অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতারের মাধ্যমে পুলিশ “কম্পিউটার সরঞ্জাম, ফাইল, ছবি, অন্য যেকোনো প্রমাণ অ্যাক্সেস করতে সক্ষম হবে”।

তিনি আরও বলেন, অফিসাররা “তার মালিকানাধীন বা দখলকৃত যেকোনো জায়গায়, অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য যেকোনো প্রাঙ্গণে তল্লাশি চালাতে পারেন, তাই অন্যান্য এলাকায়ও তল্লাশি চালানো হতে পারে”।

ইতোমধ্যেই অ্যান্ড্রু যেখানে থাকতেন, সেই উইন্ডসর গ্রেট পার্কের রয়েল লজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং গেটের পাশে বিবিসি যে অফিসারদের দেখতে পেয়েছে তারা ঘটনাস্থল পাহারা দিচ্ছেন।

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর

ছবির উৎস, PA Media

পুলিশ অ্যান্ড্রুকে কতক্ষণ আটকে রাখতে পারে?

বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের গ্রেফতারের সাথে আসলে কী জড়িত তা নিয়ে একজন পুলিশ ভাষ্যকার ড্যানি শ-এর সাথে কথা বলছেন।

শ বলেন, অ্যান্ড্রুকে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা আটকে রাখা সম্ভব, তবে এর জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

শ বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সন্দেহভাজনদের ১২ বা ২৪ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং তারপর হয় অভিযোগ আনা হয় অথবা পরবর্তী তদন্তের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।

অ্যান্ড্রুকে “একটি হেফাজত স্যুটের একটি কক্ষে” রাখা হবে যেখানে কেবল “একটি বিছানা এবং একটি টয়লেট” থাকবে, যেখানে সে তার পুলিশ সাক্ষাৎকার পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। শ বলেন, “তার জন্য কোনো বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে না”।

অপরাধ নিশ্চিতে বেশ কয়েকটি ধাপ

বিবিসির হোম এবং আইনি সংবাদদাতা ডমিনিক ক্যাসিয়ানি বর্ণনা করছেন গ্রেফতারের পর অভিযোগ নিশ্চিতে কী করা হবে।

তিনি বলছেন, সরকারি অফিসে অসদাচরণ সত্যিই একটি জটিল অপরাধ। এটি মূলত একটি অভিযোগের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয় যে ব্রিটিশ জনগণের পক্ষে কাজ করা কেউ ভুল করা হবে জেনেও গুরুতর ভুল করেছেন।

তদন্তের সময় পুলিশকে চারটি ‘উপাদান’ বা বিষয়ের উপর মনোযোগ দিতে হবে যাতে প্রসিকিউটররা পরে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে তাকে অভিযুক্ত করা উচিত কিনা।

প্রথমত, পুলিশকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তারা যার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সে কি একজন ‘সরকারি কর্মকর্তা’ ছিল কি না এবং প্রশ্নবিদ্ধ ঘটনাটি তাদের কর্তব্যের অংশ ছিল কি না।

যদি তাতে একমত হয়, তাহলে গোয়েন্দারা প্রমাণ খুঁজবেন যে, ঘটনাটিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ তাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোনওভাবে অসদাচরণ করেছেন। এই সংজ্ঞাটি দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিতর্কের বিষয়, যদিও পরে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

এর পরের প্রশ্ন হল, তাদের করা কাজটি কি এতটাই খারাপ ছিল যে এতে “জনগণের আস্থার অপব্যবহার” হয়েছে?

পরিশেষে, যদি প্রমাণগুলো এই তিনটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে পুলিশকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে তদন্তাধীন ব্যক্তি ‘যুক্তিসঙ্গত অজুহাত বা ন্যায্যতা ছাড়াই কাজটি করেছেন কিনা।

এই শেষ প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ফৌজদারি বিচারের একটি মৌলিক নীতি যে অন্যায়ের অভিযোগে সন্দেহভাজন কাউকে তার পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয় এবং এটি তখনই শুরু হয় যখন পুলিশ এসে তাদের দরজায় কড়া নাড়ে।