Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Reuters
বিবিসি জানিয়েছে, ‘গুরুতর অর্থনৈতিক চাপ’ সামলাতে ১৮০০ থেকে ২০০০ কর্মী, অর্থাৎ ১০ জনে প্রায় একজন কর্মী ছাঁটাই করবে প্রতিষ্ঠানটি।
বিবিসিকে আগামী দুই বছরে ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড সমপরিমান ব্যয় সংকোচন করতে হবে। এবং এ প্রক্রিয়ায় বিবিসির কোনো একটি চ্যানেল কিংবা এক বা একাধিক সার্ভিসও বন্ধ হয়ে যাবার আশংকা উড়িয়ে দেননি প্রতিষ্ঠানটির অন্তর্বর্তীকালীন মহাপরিচালক রড্রি তালফান ডেভিস।
তিনি বলেছেন, আমাদের সবকিছু বিবেচনা করতে হবে, এবং ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় সংকোচন করতে হলে অবধারিতভাবেই কিছু বড় এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদের। তবে, আমাদের সতর্কভাবে কাজটি করতে হবে,” বিবিসি রেডিও ফোরের মিডিয়া শোতে তিনি এ কথা বলেছেন।
বিবিসির বিভিন্ন বিভাগের ওপর এ সিদ্ধান্তের প্রভাব কতটা পড়বে – সে বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য বছরের পরের দিকে জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বখ্যাত সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানটি।
“এখন দর্শকদের কাজ হলো আগামী তিন বা চার মাসে বেতার, টেলিভিশন এবং অনলাইনে বিবিসির যেসব পরিষেবাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা জানি, সেগুলোর কোনো ক্ষতি না করে কীভাবে এ পরিবর্তনগুলো কার্যকর করতে পারি, তা খুঁজে বের করা,” তিনি বলেন।
তবে, ছাঁটাইয়ের বিষয়টি কর্মীদের জন্য ‘অত্যন্ত কঠিন সংবাদ’ বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের সম্প্রচার, বিনোদন, যোগাযোগ এবং থিয়েটার শিল্পের ইউনিয়ন ‘বেক্টু’র প্রধান ফিলিপা চাইল্ডস সতর্ক করে বলেছেন যে, ‘এত বড় মাপের ছাঁটাই’ কর্মীদের জন্য এবং সামগ্রিকভাবে বিবিসির জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে।
বিবিসিতে বর্তমানে প্রায় ২১,৫০০ জন পূর্ণকালীন কর্মী রয়েছেন।
ছবির উৎস, Getty Images
বুধবার কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে তালফান ডেভিস বলেছেন, “আপনারা জানেন যে, বিবিসি বর্তমানে গুরুতর আর্থিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছে, যা আমাদের দ্রুততার সাথে মোকাবেলা করা প্রয়োজন।”
“সহজভাবে বলতে গেলে, আমাদের ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন আমাদের উৎপাদন খরচ বা মুদ্রাস্ফীতি অনেক বেশি, আমাদের লাইসেন্স ফি এবং বাণিজ্যিক আয়ও চাপের মুখে রয়েছে। আর বৈশ্বিক অর্থনীতিও অস্থির অবস্থায় আছে।”
তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়া, ভ্রমণ, ব্যবস্থাপনা পরামর্শগ্রহণ এবং বিভিন্ন সম্মেলন, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও ইভেন্টে যোগদানের ক্ষেত্রে ব্যয়ের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা বলেছেন।
‘কঠিন সিদ্ধান্ত’
২০২৭ সালে রয়্যাল চার্টার নবায়নের আগে বিবিসি এখন ব্রিটিশ সরকারের সাথে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যত এবং লাইসেন্স ফি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দি বিবিসিকে বলেছেন, ‘অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতই’ বিবিসিকে ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে।
“বিষয়টি বিবিসির নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে বলে আমি জানি, সাথে বাণিজ্যিক বিকল্পসমূহ পর্যালোচনা এবং বিবিসির আয় বাড়াতে পারে, এমন সব কিছুই তারা বিবেচনা করবেন,” কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা আসার পর তিনি রেডিও ফোরকে এ কথা বলেছেন।
বিবিসি তার আয়ের বড় অংশ পায় ব্রিটিশ নাগরিকদের লাইসেন্স ফি থেকে, যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে টিভি লাইসেন্স বিক্রির সংখ্যা কমছে।
গুগলের সাবেক নির্বাহী ম্যাট ব্রিটিন বিবিসির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে এ ছাঁটাইয়ের খবর ঘোষণা হলো। আগামী ১৮ই মে তিনি বিদায়ী মহাপরিচালক টিম ডেভির স্থলাভিষিক্ত হবেন।
এদিকে, বেক্টু’র প্রধান ফিলিপা চাইল্ডস বলেছেন, “আগের বছরগুলোর ছাঁটাইয়ের পর থেকে বিবিসির কর্মীরা এমনিতেই খুবই চাপের মধ্যে রয়েছেন”, এবং এখন নতুন করে বরাদ্দ কমানো “নিশ্চিতভাবেই প্রতিষ্ঠানটির মানুষের জন্য কাজ করার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”
ছবির উৎস, Getty Images
“ভুয়া সংবাদ ছড়াছড়ি এবং সংবাদমাধ্যম যখন মাত্র অল্প কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে – এমন এক সময়ে যুক্তরাজ্যের অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং টেকসইভাবে অর্থায়ন হওয়া বিবিসিকে প্রয়োজন।”
মিজ চাইল্ডস বলেছেন যে, “এ সময়ে সরকারের উচিত এটা নিশ্চিত করা যে ‘চার্টার নবায়নে’র মাধ্যমে বিবিসির অর্থায়ন আরও নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী হবে, এবং আমাদের জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমটি তিলে তিলে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।”
এদিকে, যুক্তরাজ্যের সাংবাদিকদের জাতীয় ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লরা ডেভিসন বলেন, “কর্মী ছাঁটাইয়ের এমন পরিকল্পনা ভুল ও ক্ষতিকর, এবং এটি বিবিসির কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণা সৃষ্টি করবে।”
তিনি বলেছেন, “এ ছাঁটাইয়ের ফলে সাধারণ মানুষকে তথ্য দেয়া, শিক্ষিত করা বা বিনোদন দেয়- এমন মানসম্পন্ন সাংবাদিকতা এবং অনুষ্ঠান তৈরির ক্ষেত্রে বিবিসির সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।
“বছরের পর বছর ধরে প্রকৃত বাজেটে ঘাটতি এবং বিরামহীন খরচ কমানোর পদক্ষেপের পর নতুন করে ছাঁটাইয়ের এ পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বিবিসির মূল অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এভাবে চলতে পারে না। দক্ষ এবং অভিজ্ঞ কর্মী ছাড়া বিবিসি কখনোই মানসম্পন্ন সাংবাদিকতা উপহার দিতে পারবে না।”



