Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিক বৈঠক শেষে আলোচনায় দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিক বৈঠক শেষে আলোচনায় দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা

13
0

Source : BBC NEWS

হরমুজ প্রণালি

ছবির উৎস, Getty Images

লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের বিলিয়ন ডলারের
সম্পদ মুক্ত করাসহ ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান যে শর্তগুলো দিয়েছেন তা থেকেই বোঝা
যায় এই আলোচনা কতটা জটিল হতে চলেছে।

সবচেয়ে বড় এবং পুরনো সমস্যা হলো পারমাণবিক ইস্যু।
অনেকদিন ধরেই পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের পারমানবিক ইস্যু নিয়ে চিন্তিত।

ইরান সরকার দাবি করে, তারা কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরির
চেষ্টা করেনি।

কিন্তু প্রায় আট বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
আগের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর, ইরান বেসামরিক কাজের জন্য যতটা দরকার তার চেয়ে
অনেক বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের কাছে থাকা ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক, কিন্তু
ধারণা করা হয় এগুলো ইরানের ইসফাহানের কাছে একটি স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে আছে।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান প্রতিশ্রুতি দিক
যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে না।

কিন্তু ইরান বলছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তারা ছাড়বে না, এটা
তাদের আলোচনার বিষয় নয়।

এরপর আসে হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গ, যা এই যুদ্ধের
আগে বড় কোনো সমস্যা ছিল না, কিন্তু
এখন ইরানের শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এই প্রণালি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিজেদের
নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান, যার
মাধ্যমে তারা এখন সমুদ্রপথে চলাচলের জন্য নতুন নিয়ম তৈরি করতে চায়।

এরমধ্যে থাকতে পারে, জাহাজ তল্লাশি করার ক্ষমতা, শুল্ক বসানো, অথবা চাইলে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে
দেওয়ার অধিকার।

কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশ, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো, এটা একেবারেই মানতে নারাজ।

সমস্যা এখানেই শেষ নয়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র
চায় ইরানের যেসব আঞ্চলিক প্রভাব তারা “নেতিবাচক” মনে করে, তা বন্ধ হোক।

অন্যদিকে ইরান চায় তাদের ওপর থাকা সব আন্তর্জাতিক
নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হোক এবং গত এক মাসে যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য
ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

গত এক বছরে আলোচনার চালাকালে দুইবার হামলার
শিকার হওয়ার কারণে, ইরান এখন নিশ্চয়তা চায়, যাতে ভবিষ্যতে আবার এমন হামলা না হয়।

তবে বাস্তবতা হলো, কেউই খুব একটা বিশ্বাস করে না যে এসব বড় বড়
সমস্যার সমাধান ইসলামাবাদে বসে হয়ে যাবে।

পরিস্থিতি যেহেতু খুবই নাজুক, তাই অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় আশা শুধু
এটুকুই যে যুদ্ধবিরতিটা যেন টিকে থাকে।