Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Getty Images
এক ঘন্টা আগে
পড়ার সময়: 4 মিনিট
বাংলাদেশে প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় পর আবার নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ। সকালে সংসদ ভবনে নতুন এমপিদের শপথের পর বিকেলেই নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভাকেও শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক দেশি ও বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথেরও আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। আর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিতকারণে একটি আসনে নির্বাচন হয়নি।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো।
এবার নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রেখে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেয়নি। ফলে নির্বাচনটি হয়েছে বিএনপি ও তার পুরনো মিত্র জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে।
ছবির উৎস, Parvez Ahmad/Drik/Getty Images
অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সতের বছরের শাসনের অবসান হওয়ার তিন দিন পর ৮ই অগাস্ট সরকার গঠন করেছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
এরপরই থেকে দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার জন্য দাবি জানাতে শুরু করে বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দল।
ওদিকে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য সব মিলিয়ে এগারটি কমিশন ও পরে সংবিধান সংস্কারের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে।
ওই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর কয়েকটি বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় নির্বাচনের সাথেই।
এদিকে নির্বাচন প্রধান উপদেষ্টা প্রথমে ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে হবে বললেও পরে লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর দু পক্ষই রোজার আগে নির্বাচনে সম্মত হয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশ করে।
এরপর নানা ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন সিইসি এবং এর মাধ্যমেই নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার আপাত অবসান ঘটে।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন হলো এবং তাতে বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে। তারেক রহমান নিজেও দুটি আসনে জয়ের পর ঢাকা-১৭ আসন রেখে বগুড়া -৬ আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তবে সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা বিদায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার কিংবা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার।
কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে।
এমন পরিস্থিতিতে সংবিধানে থাকা বিকল্প পন্থা হিসেবে সিইসি এবার এমপিদের শপথ পড়াবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ছবির উৎস, BTV
তারেক রহমানের ফিরে আসা
নির্বাচন তফসিল হয়ে গেলেও তখনো লন্ডন থেকে দেশে ফেরেননি তারেক রহমান। কিন্তু এক পর্যায়ে ঢাকায় তার মা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সপরিবারে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর তিনি ২৫শে ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরেছিলেন এবং ৩০শে ডিসেম্বর তার মা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কয়েকদিন পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।
২০০৬ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার প্রায় দুই দশক পর তার নেতৃত্বেই দলটি আবার ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হচ্ছে।
২০০৭ সালে মার্চে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটক হয়েছিলেন তারেক রহমান। তখন আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন তিনি।
আজ তিনিই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে এবারই প্রথম সংসদের প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি এককভাবে ৬৮ ও জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পেয়েছে এবারের নির্বাচনে।
দলটির নেতারা একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।

আলোচনায় নতুন মন্ত্রিসভা
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন এই মন্ত্রিসভার চেহারা কেমন হতে যাচ্ছে এবং সেখানে কারা জায়গা পেতে যাচ্ছেন, সেটি নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় দলের তরুণ নেতারা কতটা স্থান পাচ্ছেন এবং সমমনা দলগুলোকে রাখা হচ্ছে কি-না, এসব প্রশ্ন ঘিরেও বিভিন্ন মহলে নানান আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা হতে দেখা যাচ্ছে।
এমনকি মন্ত্রিসভায় রাখার জন্য বিজয়ীদের কারো কারো পক্ষে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোর ঘটনাও চোখে পড়ছে।
যদিও বিএনপি’র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন মন্ত্রিসভার আকার ও চেহারার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তবে তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা বা সরকারের আকার ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের তুলনায় ‘অনেকটাই ছোট’ হতে যাচ্ছে বলে জানতে পেরেছে বিবিসি বাংলা।
নিজ দলের বাইরে ভোটে জয় পাওয়া সমমনা অন্য দলগুলোর নেতাদের মধ্যেও অনেকে সেই মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন বলে আভাস দিয়েছেন বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা।
নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।



