Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে যেসব তথ্য আপনার জানা থাকা প্রয়োজন

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে যেসব তথ্য আপনার জানা থাকা প্রয়োজন

6
0

Source : BBC NEWS

ভোটকেন্দ্রগুলোয় নেওয়া হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এক দিনে দুটি ভোট হচ্ছে এবং সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।

একই দিনে দুটি ভোট নেওয়ায় ফলাফলে দেরি হতে পারে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ভোটের কয়েকদিন আগে শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ওই আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে; যে কারণে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৯৯টি আসনে।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে লড়বেন ১৭৫৫জন প্রার্থী। আর এই নির্বাচনে দেশের পৌনে ১৩ কোটিরও বেশি ভোটার ভোট দেবেন।

বুধবার ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, জাতির কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি, সেই লক্ষ্যেই আইনকানুনের মধ্যে থেকেই কাজ করছি”।

এরই মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি কাজ শেষ করার তথ্যও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দুইটি ভোটের ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম বুধবার সকাল থেকে ঢাকাসহ সারাদেশের কেন্দ্রগুলোতে পাঠিয়েছে রিটার্নিং অফিস।

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসীরা ভোট দিয়েছেন পোস্টাল ব্যালটে। এর বাইরেও সরকারি কর্মকর্তা, ভোটের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কারাবন্দিরাও ভোট দিয়েছেন পোস্টাল ব্যালটে।

দুইটি নির্বাচনের ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট গণনার কারণে এবারের নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণায় দেরি হবে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এবার ভোটারদের সুবিধায় ভোটের আগের দিনসহ দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ভোট দিতে ঢাকা ছেড়েছে অসংখ্য মানুষ। শিল্পাঞ্চলে আরো একদিন আগে, ১০ই ফেব্রুয়ারি থেকেই ছুটি দেওয়া হয়।

ইসি জানিয়েছে, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

এবারের ভোটের নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর নয় লাখেরও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।

এরই মধ্যে সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ও বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। ভোটের নিরাপত্তায় কেন্দ্রে দায়িত্ব থাকা পুলিশের সাথেও রাখা হয়েছে বডিওর্ন ক্যামেরা।

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে নির্বাচন কমিশন থেকে (ফাইল ছবি)

ভোটের সরঞ্জাম থাকবে কড়া পাহারায়

বুধবার কেন্দ্রে কেন্দ্র ব্যালট পেপারসহ যে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে সেগুলো পুলিশ-আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভোটকেন্দ্রগুলোতে।

ব্যালট বাক্স ও সিল, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার, অমোচনীয় কালী, ভোটার তালিকাসহ বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে ভোট কেন্দ্রগুলোয়।

রিটার্নিং অফিস থেকে পাঠানো ব্যালটগুলো কড়া নিরাপত্তায় রাখা হবে ভোটকেন্দ্রগুলোতে। এর পাহারার দায়িত্বে থাকবেন প্রতিটি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানোর পরই ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতের যাবতীয় কাজ শেষ করবেন প্রিসাইডিং অফিসার ও দায়িত্ব পালনকারী অন্য কর্মকর্তারা। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দেবে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি।।

সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে যেগুলো সাধারণ ভোটকেন্দ্র সেগুলোতে অস্ত্রসহ দুইজন পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে।

মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের যেসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেব তালিকাভুক্ত করা হয়েছে সেখানে তিন থেকে চারজন অস্ত্রসহ পুলিশ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। তবে আনসার, ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের সংখ্যা একই পরিমাণে থাকবে।

অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে যে সব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে সেখানে অস্ত্রসহ পুলিশ থাকবে চারজন করে।

বুধবার ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সহায়তায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে”।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট শেষে পোলিং কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সামনেই গণনা করা হবে ভোটের ফলাফল।

কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম

ভোটার ভোটের তথ্য জানবেন যেভাবে

সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩জন। এই ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী।

এবারের নির্বাচনে ছয় কোটি ৪৮ লাখ পুরুষ ভোটারের বিপরীতে নারী ভোটার রয়েছেন ছয় কোটি ২৮ লাখ। নির্বাচনে ভোট দেবেন বারশোর বেশি হিজড়া ভোটার।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে এই পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে ৪ কোটি ৯০ লাখ ভোটারই তরুণ, যাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। আর ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটার সংখ্যা দুই কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন।

নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির প্রয়োজন না হলেও ভোটার নম্বর জরুরি।

ভোটারদের কেন্দ্রের তথ্য জানাতে রাজনৈতিক দলগুলো ও প্রার্থীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় ভোটার স্লিপ প্রদান করতে দেখা গেছে।

তবে, ভোটারদের সুবিধার জন্য নির্বাচন কমিশন চার ধরনের পদ্ধতি চালু করেছে। যার মাধ্যমে তারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবে।

প্রথমত, ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করেছে ইসি। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে নিজ ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের হটলাইন নম্বর ১০৫ নম্বরে কল করে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন।

তৃতীয়ত, এই ১০৫ নম্বরে এসএমএস করেও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে (পিসি এনআইডি) লিখে ১০৫ নম্বরে এসএমএস করলেও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানানো যাবে।

চতুর্থত, এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট থেকে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন ভোটাররা।

ভোটার নম্বরসহ এই তথ্যগুলো জানা থাকলে একজন ভোটার সহজেই ভোট দিতে পারবেন বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনে টানিয়ে দেওয়া হয় সব আসনভিত্তিক ফলাফল (একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের একটি কপি)

ভোট গণনা হবে কীভাবে, ফল ঘোষণা কখন?

অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে এবারে ভোটার সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নির্বাচনের দিনই গোলাপি ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।

একই দিনে দুইটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা বিলম্ব হবে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আলাদা করে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল গণনা করা হবে পোলিং এজেন্টদের সামনেই।

দুটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে। পরে সেই ভোটের ফলাফল কেন্দ্রেই টানিয়ে দেবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে।

আর যে সব ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন সেটি থাকবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে। ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে যে সব ব্যালট রিটার্নিং অফিসে জমা হবে সেগুলোও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর এজেন্টদের সামনে গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

পরে গণনা শেষে কেন্দ্রের ফলাফল ও পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল একত্রিত করে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করে তা ঘোষণা দিবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সেই ফলাফল নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে একেক করে আসনভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এবার দুইটি ভোট একদিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় সময় লাগবে বেশি।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ধারণা দিচ্ছেন বৃহস্পতিবার ভোট শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ মঙ্গলবার বলেন, “সংসদ ও গণভোটের ফল একসাথে দেওয়া হবে। কেন্দ্রেও ভোট গণনা একসাথে হবে, ফলও একসাথে”।