Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে কী থাকছে?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে কী থাকছে?

8
0

Source : BBC NEWS

মুখে হাত দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বসে আছেন

ছবির উৎস, Getty Images

মেয়াদের শেষদিকে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে যাচ্ছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপানো বাড়তি শুল্ক অনেকটা কমবে বলে আশা করছে সরকার।

তবে এই শুল্ক কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উড়োজাহাজসহ আরও অনেক পণ্য কিনতে হবে বাংলাদেশকে।

এর আগেও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিক দেশের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে অধ্যাপক ইউনূসের সরকার। এর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে চুক্তির শর্তগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি, আবার অংশীজনদের সবার সঙ্গেও আলোচনা করেনি সরকার।

ফলে এ ধরনের চুক্তিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে সন্দেহ-সংশয় দেখা যাচ্ছে।

“এটা একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং তাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন। কিন্তু সেটার বাইরে গিয়ে তারা অন্য রাষ্ট্রে সঙ্গে একের পর এক চুক্তি সই করছে। নির্বাচিত সরকার ছাড়া এই ধরনের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার অন্য সরকারের নেই,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. আনু মুহাম্মদ।

আবার অন্তর্বর্তী সরকারের হাত ধরে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেটির ঘানি টানতে হবে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারগুলোকে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

“সেজন্য রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জনগণকে চুক্তির প্রধান শর্তগুলো জানানো উচিৎ ছিল,” বিবিসি বাংলাকে বলেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

বাড়তি শুল্ক থেকে বাণিজ্য চুক্তি

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর গত বছরের এপ্রিল মাসে একশটি দেশের ওপর বাড়তি বাণিজ্য শুল্ক ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মূলত যেসব দেশে রফতানির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশি পরিমাণ পণ্য আমদানি করে থাকে, সেসব দেশের ওপরেই পাল্টা শুল্ক বসানো হয়।

শুরুতে বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে নির্ধারণ করা হয় ৩৫ শতাংশ।

নতুন এই শুল্ক ঘোষণার আগেই বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। ফলে সার্বিকভাবে বাণিজ্য শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ, যা রীতিমত উদ্বিগ্ন করে তোলে তৈরি পোশাক শিল্পসহ রপ্তানিখাতের ব্যবসায়ীদের।

এ অবস্থায় শুল্ক কমানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার।

দীর্ঘ আলোচনা ও দেন-দরবারের পর মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রফতানির ওপর আরোপিত বাড়তি শুল্কের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশ করা হয়। গত বছরের সাতই অগাস্ট থেকে বাড়তি ওই শুল্কহার কার্যকর হয়।

তখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়িয়ে দু’দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যবিধানের শর্ত দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বছরে প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

কাজেই মার্কিন প্রশাসনের শর্ত মেনে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাঁচ বছরে ৩৫ লাখ টন গম আমদানির চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

সেই সঙ্গে, উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ আরও অনেক ধরনের পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে এখন আরেকটি চুক্তি করতে যাচ্ছে অধ্যাপক ইউনূসের সরকার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Getty Images

নতুন চুক্তি নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে, সেটি স্বাক্ষরের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুরুতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়ার কথা থাকলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

তবে উপদেষ্টা ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবেন বলে জানান তারা।

এর আগে, গত বছরের ১৩ই জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট’ সই করেছিল বাংলাদেশ। সেটির আওতায় নতুন বাণিজ্য চুক্তির শর্তগুলো গোপন রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেজন্য শর্তগুলো এখনই প্রকাশ করেনি সরকার।

তবে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি যে ২০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছে, নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেটি কিছুটা কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।

“কতটুকু কমবে এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখবো,” রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন শেখ বশিরউদ্দীন।

আগে শুল্ক কমানোর সময় মার্কিন বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় অর্ধশত উড়োজাহাজ কেনার শর্ত দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

নতুন বাণিজ্য চুক্তিতেও সেটির প্রতিফলন দেখা যেতে পারে বলে বাণিজ্য উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

“উনারা নিদেনপক্ষে ৪৭টা প্লেনের কথা বলেছেন। আমরা যে চুক্তি বোয়িংয়ের সাথে করতে যাচ্ছি, এটা ২০৩৫ সাল নাগাদ মাত্র ১৪টা প্লেন নিয়ে কথা বলছি,” বলেন মি. বশিরউদ্দীন।

তবে এই ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়া টার্মিনাল

ছবির উৎস, Getty Images

কী বলছেন ব্যবসায়ীরা?

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার।

আগের ১৫ শতাংশের সঙ্গে গত বছরের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে এখাতের রফতানিকারকদেরকে মোট ৩৫ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে।

“এতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে ব্যবসা এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সেজন্য আমরা ব্যবসায়ীরা খুব করে চাচ্ছি শুল্কটা আরেকটু কমুক। তাহলে ব্যবসাটাকে এগিয়ে নিতে পারবো,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে, তারা পোশাক শিল্পের বাড়তি রফতানি শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন।

“শুধু যে আমরা ওভারঅল ট্যারিফ কমানোর চিন্তা করছি তা না, আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে যে, আমাদের যে মূল পণ্য গার্মেন্টস, সেই জায়গায় যেন আমাদের শুল্ক শূন্য হয়, আমরা সেই প্রচেষ্টায় এখনো রত রয়েছি,” বলেন মি. বশিরউদ্দীন।

শর্ত প্রকাশ না করলেও চুক্তি করার আগে বাড়তি শুল্ক ইস্যুতে পোশাক রফতানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে সরকার।

“সেখানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সরকারকে জানানো হয়েছে যে, শুল্ক যত কমানো যায়, তত আমাদের জন্য ভালো,” বলেন ব্যবসায়ী মি. রুবেল।

কিন্তু ব্যবসায়ীদের ধারণা, চুক্তির পরও শুল্ক খুব বেশি কমানো সম্ভব হবে না।

“আমাদের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে- বড়জোর তিন থেকে পাঁচ শতাংশ শুল্ক হয়তো কমতে পারে। তার মানে অতিরিক্ত শুল্কটা হয়তো ১৫ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে থাকবে। সেটাও খারাপ না,” বলেন মি. রুবেল।

এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির শর্ত মেনে নিলে পোশাক শিল্পের পণ্যে শুল্ক কমানোর আভাস আগেই দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

“কিন্তু আমাদের এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলার দাম অন্যদের চেয়ে বেশি। কাজেই শুল্ক কমাতে গিয়ে যেন আমাদেরকে আবার বাড়তি খরচের মধ্যে পড়তে না হয়। তাহলে সেটা কাজে দিবে না,” বলেন বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মি. রুবেল।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন

ছবির উৎস, BSS

চুক্তি ঘিরে সন্দেহ

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের যখন আর মাত্র কয়েকদিন বাকি রয়েছে, তখন শুল্ক ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে অর্ন্তবর্তী সরকার।

এর আগে, তারা প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক বড় উদ্যোগ নিয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে: চীনের সঙ্গে জিটুজি চুক্তিতে ড্রোন কারখানা স্থাপন, পাকিস্তান থেকে জেএফ১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়, চীন থেকে জে১০ সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন ক্রয়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন ক্রয়, তুরস্ক থেকে টি১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার ক্রয়।

পাশাপাশি প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি জাপানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা চলছে বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

এছাড়া গত নভেম্বরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালের সঙ্গে ৩৩ বছরের চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

ঢাকার কাছেই পানগাঁও নৌ টার্মিনাল ২২ বছর পরিচালনার জন্য চুক্তি হয়েছে সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ কোম্পানির সঙ্গে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপিওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও এগিয়েছে।

এ ধরনের ‘পলিসি ডিসিশন’ নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার নিয়ে বিশ্লেষকরা যেমন প্রশ্ন তুলছেন, তেমনই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

মানুষের ভোটে নির্বাচিত না হয়েও এই সরকার রাষ্ট্রের নীতিগত অনেক সিদ্ধান্তই নিয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অংশীজনদের সঙ্গে অন্তত আলোচনা করা উচিৎ ছিল বলেও মনে করেন তিনি।

“ওনারা আইনও বানাচ্ছেন, এটা ওনাদের দায়িত্ব না,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. টুকু।

যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশকে প্রায় ৩৫ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে

ছবির উৎস, Reuters

অন্যদিকে, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি ‘রুটিন ওয়ার্ক’ হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

তবে প্রতিরক্ষা চুক্তিসহ যেসব চুক্তিতে সরকার স্বাক্ষর করছে সেখানে বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কি-না সেটি খতিয়ে দেখার কথা বলছেন দলটির সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ।

“সরকার তার রুটিন ওয়ার্কের মধ্যে এগুলো করতে পারে। আমাদের স্বার্থ, দেশের স্বার্থ রক্ষা করে কোনো চুক্তি হলে কোনো আপত্তি নেই কিন্তু কোনো ভারসাম্যহীন বা একতরফা চুক্তি, কোনো দেশকে সুবিধা দেওয়া, এগুলোর ব্যাপারে আমাদের আপত্তি থাকবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. আজাদ।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তিগুলোতে ‘দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু থাকবে না’।

যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দিলে নতুন বাণিজ্য চুক্তির শর্তগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলেও রোববার জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।