Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ মাইন পেতে রাখা ১৬ যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, নতুন হামলা ইরানের

মাইন পেতে রাখা ১৬ যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, নতুন হামলা ইরানের

12
0

Source : BBC NEWS

হরমুজ প্রণালীল কাছে ইরানি জাহাজ ধ্বংসের দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র ( এগুলো সেসব জাহাজের ছবি নয়। এই ছবিতে ফুজাইরাহ এলাকায় রাখা কিছু ট্যাঙ্কার দেখা যাচ্ছে)

ছবির উৎস, Reuters

৩৩ মিনিট আগে

পড়ার সময়: ৪ মিনিট

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন বাহিনী ইরানের ১৬টি মাইন পাতা জাহাজ ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে।

সেন্টকম একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে জাহাজগুলোর ওপর হামলা করা হচ্ছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন হরমুজ প্রণালীতে থাকা অকার্যকর মাইন বসানো দশটি ইরানি নৌযানে মার্কিন বাহিনী হামলা করেছে।

একই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে এসব জাহাজের ব্যাপারে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ইসরায়েল ইরান ও লেবানন লক্ষ্য করে আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তারা বলেছে, বৈরুতের দক্ষিণে হেজবুল্লাহর স্থাপনাকে তারা লক্ষ্যবস্তু করেছে।

ওদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার’ হুমকি প্রতিহত করেছে।

তেহরানে উদ্ধার কর্মীদের তৎপরতা

ছবির উৎস, Reuters

নতুন করে হামলা ইরানের

গত কয়েক ঘণ্টায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুগুলোকে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে তীব্র হামলা।

ইসরায়েল বলেছে, তারা ইরান থেকে ছোঁড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। তবে পরে তারা পরিস্থিতি নিরাপদ জানিয়ে নাগরিকদের জানায় যে তারা চাইলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হতে পারেন।

অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা একটি তেলের খনির দিকে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

এছাড়া বাহরাইনেও সাইরেন বাজানোর শব্দ শোনা গেছে। দেশটিতে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটি রয়েছে।

বৈরুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ছবির উৎস, Reuters

মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছে ৪৩ হাজার আমেরিকান

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৪৩ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন।

মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, এদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়েছে।

আমেরিকানদের ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন সরকার দুই ডজনের বেশি ভাড়া করা বিমান পরিচালনা করেছে।

তবে অনেকে নিজেরাই বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চার্টার ফ্লাইট ও স্থলপথে পরিবহন কার্যক্রম এখনো চালু রয়েছে। যে কোনো মার্কিন নাগরিক চাইলে এ সহায়তার জন্য অনুরোধ জানাতে পারেন।

ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়েছে সৌদি আরব

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে ছোড়া ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, আজ তারা কয়েকটি ড্রোনও আটক করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর হাফার আল-বাতিনে দুটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন কোথা থেকে ছোড়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান

ছবির উৎস, Reuters

যুদ্ধের ১১তম দিনে যা যা হলো

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে আরেক দফা হামলা শুরু করেছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির জবাব দিচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ইরানের জনগণের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি তাদেরকে সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরান থেকে তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের ভান শহরে পালিয়ে আসা এক নারী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের বাড়ি কেঁপে উঠেছিল। তার ভাষায়, “কখনও কখনও মনে হচ্ছিল আমরা মারা যাচ্ছি।”

লেবাননে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার স্কুল, স্টেডিয়াম ও অন্যান্য সরকারি ভবনে আশ্রয় নিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য সরকারের ভাড়া করা একটি ফ্লাইট দুবাই থেকে ব্রিটেনে যাচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে আরেকটি ফ্লাইট ব্রিটেনে ফিরেছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১০টি “অকার্যকর মাইন বসানো নৌযান ধ্বংস করেছে”। তিনি আগে ইরানকে হরমুজ প্রণালীতে মাইন না বসানোর জন্য সতর্ক করেছিলেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জয়ের ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী হওয়ায়, এখন আলোচনা হচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ লক্ষ্য বা পরিকল্পনা কী হতে পারে—ওয়াশিংটন থেকে এমনটাই জানিয়েছেন বিবিসির প্রতিবেদক।