Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

6
0

Source : BBC NEWS

পাকিস্তান বনাম ভারত

ছবির উৎস, Getty Images

৯ ঘন্টা আগে

আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা আছে, প্রাথমিকভাবে পাকিস্তান খেলবে না জানালেও এখন খেলার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফর।

রোববার লাহোরে অনুষ্ঠিত সভায় আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা ও এক্সিকিউটিভ কমিটি সদস্য মুবারিশ উসমানি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, পিসিবি তাদের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছিল, পিসিবি কর্মকর্তা সালমান নাসীর বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান আমিনুল ইসলামকে পাকিস্তানে স্বাগত জানিয়েছেন।

পরে পিসিবিও বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে।

ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা সাংবাদিকদের জানান, “আমি এই বিষয়ে মন্তব্য করব না। বিসিসিআই থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। সব সিদ্ধান্ত আইসিসির উপরই নির্ভর করছে। আইসিসি যেটা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটাই গ্রহণ করব।”

এই বিতর্ক শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরানোর অনুরোধ করার পর। বাংলাদেশ দল তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ জানিয়েছিল।

তবে আইসিসি তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে, তাদের দল ১৫ই ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না।

আইসিসি ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, “পিসিবিকে একটি সমঝোতামূলক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে যা সকল পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে।”

আইসিসি আরও উল্লেখ করেছে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, তবে মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনাপ্রবাহেই এবার মানুষের নজর বেশি।

এই অচলাবস্থার কারণে বর্তমান টিভি রাইটস চুক্তি ও ভবিষ্যতের চুক্তির উপরও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে চলমান টিভি চুক্তি ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত আছে।

৩টি শর্তের কথা জানাচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যম

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসির সঙ্গে চলমান আলোচনায় মূলত তিনটি শর্ত উত্থাপন করেছে, যা পূরণ হলে তারা ভারতের বিপক্ষে ১৫ই ফেব্রুয়ারি ম্যাচ খেলতে রাজি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে, এমন খবর দিচ্ছে ভারতের এনডিটিভি ও টাইমস অফ ইন্ডিয়া। এই শর্তগুলো আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমে আসা শর্ত তিনটি হলো- , বাংলাদেশকে বাড়তি আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি, বাংলাদেশকে অংশগ্রহণ ফি প্রদান, ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব।

পিসিবি চাইছে, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-কে আর্থিকভাবে বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। পিসিবি মনে করে, বাংলাদেশকে আইসিসি-র টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার পর তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা উচিত, কারণ তাদের অনুরোধ মতো ম্যাচগুলো ভারতে করা হয়নি।

বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও, পিসিবি দাবি করছে তাদের টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণ ফি দিতে হবে। অর্থাৎ, বিশ্বকাপ বয়কট বা বাদ পড়তে হলেও বাংলাদেশকে অর্থ প্রদান করা উচিত বলে পিসিবির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

পিসিবি আরও দাবি করেছে যে, ভবিষ্যতে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব তাদের দেওয়া হোক। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সুযোগ হিসেবে পিসিবি দেখতে চাইছে, যাতে তারা নিজস্ব আয় ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ার ক্ষমতা পায়।

পিসিবি-র তরফে বলা হয়েছে, এই তিনটি শর্ত যদি আইসিসি মেনে নেয় এবং বাস্তবে রূপ পায়, তাহলে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামতে প্রস্তুত হবে, যা জানুয়ারির শেষ থেকে তৈরি জটিলতা কাটাতে একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইসিসি

ছবির উৎস, Getty Images

যে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে

ভারতের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিলেও পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তকে এখনই চূড়ান্ত বলে মনে করছেন না ভারতের ক্রিকেট অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মুম্বাইয়ের ক্রীড়া ও সম্প্রচার শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মহলে ধারণা, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ঘোষণা শেষ কথা নাও হতে পারে।

এখনো পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) এ বিষয়ে কোনো চিঠি দিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা, শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বর্জন করলে পাকিস্তানকে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।

আইসিসির অবস্থান স্পষ্ট, তারা এমন কোনো দৃষ্টান্ত তৈরি হতে দিতে চায় না, যেখানে কোনো সদস্য হঠাৎ করে নির্ধারিত সূচি অমান্য করে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেয়।

সংস্থাটির মতে, এতে আইসিসির কর্তৃত্ব ও স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নের মুখে পড়ে। ফলে দুবাইভিত্তিক আইসিসি সদর দপ্তর থেকে পাল্টা পদক্ষেপ আসা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পরিস্থিতি জটিল হলে আইসিসি কয়েকটি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) জন্য বিদেশি খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না দেওয়া, পাকিস্তানকে এশিয়া কাপ থেকে বাদ দেওয়া কিংবা আইসিসির রাজস্ব বণ্টনে পিসিবির অংশ স্থগিত করা।

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট ৫৫টি ম্যাচের মধ্যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ম্যাচকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি দর্শক, বিজ্ঞাপন ও সম্প্রচার আয় হয়ে থাকে।

যদিও এই একটি ম্যাচকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন, কারণ এটি পুরো টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক প্যাকেজের অংশ।

তবে প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, ভারতের প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের বাজারমূল্য প্রায় এক থেকে ১ দশমিক ১ কোটি মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০০ কোটি রুপির কাছাকাছি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আর্থিক মূল্য সাধারণ ম্যাচের দ্বিগুণ, এমনকি তারও বেশি হতে পারে। সে হিসেবে এই ম্যাচ বাতিল হলে অন্তত ২০০ কোটি রুপির বেশি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির প্রভাব শুধু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ওপরই নয়, পড়তে পারে আইসিসি, সম্প্রচার সংস্থা, স্পনসর এবং আয়োজকদের ওপরও। পাশাপাশি বিশ্বকাপের সামগ্রিক আকর্ষণ ও ব্যবসায়িক মূল্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা পাকিস্তানের জন্য যেমন বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের অবস্থানও দুর্বল করে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়।