Source : BBC NEWS

এক ঘন্টা আগে
পড়ার সময়: ৭ মিনিট
এই খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট তৈরির পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
এমন অবস্থায় দেশে সরকারিভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বৈদ্যুতিক বাতি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রাংশ (এসি) ব্যবহার কমিয়ে আনা, আলোকসজ্জা পরিহারসহ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে গ্যাস সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আটটি সার কারখানার পাঁচটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দেশে গ্যাসের ৬০ শতাংশের বেশি ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ ও সার কারখানায়।
জাতীয় গ্রিডে এরই মধ্যে এলএনজির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে পেট্রোবাংলা। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা কমানো হয়েছে।
মূলত, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানিতে সংকট তৈরি হওয়ায় জ্বালানি পণ্যে রেশনিং করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিজিবিকে জ্বালানি পাচার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এরই মধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের হারানোর পরও ইরানের পাল্টা আক্রমণ যুদ্ধের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে দেশটি।
একই সঙ্গে গোয়েন্দা কার্যক্রমের পরিসর বাড়ানোর তৎপরতা শুরু করেছে পেন্টাগন।
এ যুদ্ধ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে— এমনটি মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী হেমিশ ফলকনারও এ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা বলেছেন।
যুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন নতুন করে কৌশল সাজাতে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কাতারভিত্তিক জর্জ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-আরিয়ান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পর্কে সঠিক বোঝাপড়ার ঘাটতি রয়েছে। সে কারণেই এমনটা হয়েছে।

নিউ এইজের প্রথম পাতার একটি শিরোনাম— US Senate rejects bid to curb Trump’s Iran war powers; অর্থাৎ ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ আটকে গেল সিনেটে।
এই খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে সিনেটে আনা একটি প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে গত বুধবার আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ৪৭ জন এবং বিপক্ষে ৫৩ জন সিনেটর ভোট দেন। বেশিরভাগ রিপাবলিকান প্রস্তাবটি আটকে দিয়েছেন।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়।
এই হামলা শুরুর পর ইরানের সবোর্চ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীসহ দেশটির শীর্ষ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তেহরান।

যুদ্ধের ধাক্কা বাংলাদেশে— দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি; যেখানে ইরানে ইসরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের প্রভাবে সমুদ্রবাণিজ্য, বিমান ভাড়া বৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতে সংকটের বিষয়ে আলাদা তিনটি সাব-হেডলাইন করা হয়েছে।
চীন থেকে আমদানিকৃত ৪০ ফুটের প্রতিটি কনটেইনারের ভাড়া ২০০ থেকে ৩০০ ডলার বাড়ানো হয়েছে।
শিপিং লাইনগুলো একে যুদ্ধকালীন সারচার্জ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বিদেশি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি দেশীয় এয়ারলাইনসও বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে তাদের কাছ থেকে।
এছাড়া, চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৭ থেকে ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির চেয়ে যা ২৬ শতাংশ বেশি। যুদ্ধ সহসা শেষ না হলে এই দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানির যে সংকট দেখা দিয়েছে, তার ঢেউ বাংলাদেশেও এসে পড়েছে।
চুক্তি থাকা সত্ত্বেও কাতারসহ অন্যান্য দেশ সময়মতো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিতে পারছে না।
ফলে চলমান রমজান ও সেচ মৌসুমে জ্বালানির বড় সংকট এড়াতে প্রায় দ্বিগুণ দামে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কিনছে বাংলাদেশ।
দুই কার্গো এলএনজি কিনতে সরকারের খরচ হবে প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা, যা এক মাস আগেও কেনা হয়েছে এক হাজার ১০০ কোটি টাকায়।
গত বুধবার ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দ্রুত এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রতিটি এলএনজি কার্গোতে সাধারণত প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস থাকে।
দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৭০ কোটি ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৯০-১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎচাহিদা পূরণের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলেও প্রকল্পটির বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে।
একের পর এক বিলম্ব, ব্যয়বৃদ্ধি এবং নানা ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার কারণে রূপপুর নিয়ে জনমনে সংশয় এবং সমালোচনার মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী জুনের শেষে বা জুলাইয়ের প্রথম দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতীত অভিজ্ঞতা বিচার করলে এ সময়সূচি নিয়েও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এই প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার সময়সীমা পিছিয়েছে বেশ কয়েকবার।
রূপপুর প্রকল্পের আরেকটি বড় সমালোচনার বিষয় হলো ব্যয়বৃদ্ধি। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকায়।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ব্যয় আরো বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, প্রকল্পটির অধিকাংশ অর্থায়ন বিদেশি ঋণের মাধ্যমে হওয়ায় ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
এছাড়া, রূপপুর প্রকল্পের প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞের বড় অংশই রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সরবরাহ চেইনে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে ভয়াবহ চাপে রয়েছে দেশের অর্থনীতি। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) ফেব্রুয়ারি মাসের অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট দশমিক ৫৮ শতাংশে, যা ডিসেম্বরে ছিল আট দশমিক ৪৯ শতাংশ। একই সময় খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে আট দশমিক ২৯ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরি না বাড়ায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমছে। ফলে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে চাপে পড়েছে।
রাজস্ব আদায়েও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জানুয়ারি মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে আদায় হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ধীরগতির চিত্র স্পষ্ট। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ২১.১৮ শতাংশ।
অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়েও এডিপি বাস্তবায়নের এই হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এই খবরে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ এনে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে (বর্তমানে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই অভিযোগ ও দাবি জানান।
জামায়াতের এ নেতা বলেছেন, ‘তিনি (রিজওয়ানা হাসান) একজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে এটা প্রকাশ করেছেন, তার ভাষায়, “যারা নারীদের উপযুক্ত অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা কিন্তু তাদের মূলধারা বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিইনি।” তাহলে বোঝা যায় যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে কথা আসছিল বা আসছে, সেটাকেই উনি নিজেই স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।’
‘আমরা এখন তার কাছে, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের কাছে জানতে চাই, কাদের যোগসাজশে, কীভাবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারা বা প্রধান দল হিসেবে মেজরিটি পেতে তারা বাধাগ্রস্ত করেছে এবং সেটা হতে দেয় নাই?’— যোগ করেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— Women sidelined in national politics। দেশের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নারীদের কম গুরুত্ব পাওয়ার বিষয়ে এই খবরে বলা হয়েছে।
নারী দিবস সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় ‘রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্ব ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সংলাপ ও সম্মাননা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
যেখানে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারীরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৪ শতাংশ নারী প্রার্থী থাকলেও তার মধ্যে ৭ জন জয়ী হওয়া এবং নানা প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে নারীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করার কথা জানায় আলোচকেরা।
তাদের মতে, রাজনীতিসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয় নিয়েও কথা বলেন তারা।
ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এতে প্রশ্ন তুলেন, ‘ভোটার হিসেবে নারীরা যদি গুরুত্বপূর্ণ হন, তাহলে কেন তাদের নেতৃত্বকে সবসময় প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়?’




