Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ নির্বাচনে আলোচিত যারা জিতলেন, যারা হারলেন

নির্বাচনে আলোচিত যারা জিতলেন, যারা হারলেন

12
0

Source : BBC NEWS

নানাভাবে আলোচনায় আসা প্রার্থীদের কেউ জিতেছেন, কেউ হেরেছেন

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২২ +০৬

পড়ার সময়: 6 মিনিট

বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুপরিচিত নেতাদের পাশাপাশি কয়েকটি সংসদীয় আসনের কিছু প্রার্থীও নতুন করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।

এসব প্রার্থীদের মধ্যে রুমিন ফারহানা, নাহিদ ইসলাম, ফজলুর রহমান, নুরুল হক নুর, হাসনাত আবদুল্লাহ, হান্নান মাসউদসহ কয়েকজন জিতলেও ঢাকার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে নির্বাচন করা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, তাসনিম জারা ও মামুনুল হক এবং পঞ্চগড়ে সারজিস আলম শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীদের কাছে হেরে গেছেন।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রধান দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির শীর্ষ তিন নেতা নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। তবে হেরে গেছেন জাতীয় পার্টির জিএম কাদের ও ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসা কৃষ্ণ নন্দী হেরে গেছেন বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খানের কাছে।

অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন নির্বাচনে জিতলেও হেরে গেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারি।

ওদিকে জেলা হিসেবে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি আসনেই বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রাখায় এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একে অপরের বিরুদ্ধে কারচুপি, জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে।

নির্বাচনের ভোট গুনছেন কয়েকজন

জিতেছেন তারেক, শফিকুর ও নাহিদ

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার ঢাকা ও বগুড়ার দুটি আসনে, আর জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ঢাকার একটি আসনে নির্বাচন করেন। তারা দুজনই এসব আসনে জয়লাভ করেছেন।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও তার আসনে জয় পেয়েছেন।

এর মধ্যে তারেক রহমান এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বগুড়া-৬ নম্বর আসন থেকে জয় পেয়েছেন। তবে ঢাকা-১৭ আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে জয় পেয়েছেন মাত্র চার হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে।

মি. রহমান এবারই প্রথম বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিলেন এবং একই সঙ্গে তিনি নিজেও এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর তিনি ঢাকায় ফিরে এসেছেন ২০২৫ সালের ২৫শে ডিসেম্বর।

ওদিকে শুক্রবার ভোরে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খানের চেয়ে ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে নির্বাচন করা জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে জিতেছেন দুই হাজার ৩৯ ভোট বেশি পেয়ে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান

মহাসচিবদের কী অবস্থা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকায় বড় ব্যবধানে জয় পেলেও খুলনায় নিজ আসনে হেরে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মি. পরওয়ারের চেয়ে দুই হাজার ৭০২ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি।

রংপুর-৪ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে ৯ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন। শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা।

ওদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা- ১ আসনে তৃতীয় হয়েছেন। ওই আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মো. মাজেদুর রহমান।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজারে ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি শিশির মনির সুনামগঞ্জে নিজ নিজ আসনে হেরে গেছেন।

জিতেছেন নাহিদ ইসলাম

ছবির উৎস, Nahid Islam/Facebook

আলোচিত আরও যারা

দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে আলোচনায় এসেছিলেন রুমিন  ফারহানা

ছবির উৎস, BSS

নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দেশের রাজনীতিতে আলোচনায় ছিলেন রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীবকে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যসহ বিভিন্ন কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ঢাকা-৮ আসন। প্রচারণার ধরণ ও প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে দিয়ে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই আসনের এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী।

কিন্তু এই আসনে শেষ পর্যন্ত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ।

অন্যদিকে নির্বাচনের আগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করা তাসনিম জারা নির্বাচনে তৃতীয় হয়েছেন। ওই আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির হাবিবুর রশীদ।

এনসিপির দুই আলোচিত নেতার একজন সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে হেরে গেলেও কুমিল্লা-৪ আসনে জয়ী হয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। মি. আব্দুল্লাহ ১ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হলেও মি. আলম প্রায় ৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ নাওশাদ জমিরের কাছে।

দুই হাজার চব্বিশ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন কিশোরগঞ্জের বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান। এক পর্যায়ে দলে তার পদও স্থগিত করেছিল বিএনপি। তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় তাঁর বাসার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছিল একদল ব্যক্তি।

তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে প্রায় ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী রোকন রেজা শেখকে পরাজিত করেছেন।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়া বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তার পিতা শাহ এ এম কিবরিয়া আওয়ামী লীগ সরকারে অর্থমন্ত্রী ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন।

বিএনপি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

অনেক দিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ঘটনায় আলোচনায় আসা খেলাফত মজলিস নেতা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনে দুই হাজার ৩২০ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী ববি হাজ্জাজের কাছে।

মি. হাজ্জাজ নির্বাচনের আগে নিজ দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলটির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন করা এবং পরস্পরবিরোধী ব্যাপক প্রচারণার কারণে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক এবং এই দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করা রাশেদ খান।

ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক হারিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে। আর ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে তৃতীয় হয়েছেন রাশেদ খান। ওই আসনে জিতেছেন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবু তালেব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি তার দলীয় মাথাল প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। জোনায়েদ সাকি নামেই তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত।

ঢাকা-১৬ আসনের ভোটে বেসরকারি ফলে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. আমিনুল হকের চেয়ে তিন হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন৷

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও দলটির মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমদ বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন দুই লাখ ২২ হাজার ১৯টি ভোট।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিএনপি জোটের প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১ আসনে জয় পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগ আমলে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ও পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মুক্তি পাওয়া জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ৫৪ হাজার ভোট বেশি পেয়ে রংপুর-২ আসনে জয় পেয়েছেন।

এর বাইরে বিএনপির আরও যারা জয় পেয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (অবসরপ্রাপ্ত), আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইশরাক হোসেন ও শামা ওবায়েদ।