Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরকে, তদন্ত চলবে

ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরকে, তদন্ত চলবে

14
0

Source : BBC NEWS

মুক্তি পাওয়াপর পর পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর

ছবির উৎস, Reuters

৩৩ মিনিট আগে

পড়ার সময়: ৫ মিনিট

সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করার সন্দেহে গ্রেফতারের পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকবে।

টেমস ভ্যালি পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছে যে, তারা নরফোক থেকে ৬০ বছর বয়সী একজনকে গ্রেফতার করেছে এবং বার্কশায়ার ও নরফোকের ঠিকানাগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে।

অ্যান্ড্রুর গ্রেফতার প্রতিক্রিয়ায় তার রাজা তৃতীয় চার্লস বলেছেন, “আইনকে অবশ্যই তার নিজস্ব গতিতে চলতে হবে” এবং পুলিশকে “পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা” দেওয়া হয়েছে।

অ্যান্ড্রু রাজা চার্লসের ছোট ভাই।

পুলিশ আগে বলেছিল যে তারা যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্কের অভিযোগ তদন্তের কথা বিবেচনা করছে এবং গোপন তথ্য লেনদেনের অভিযোগ পর্যালোচনা করছে।

সম্প্রতি মার্কিন সরকার জেফরি এপস্টিনের যেসব ফাইল প্রকাশ করেছে তার একটি অংশে তার সঙ্গে অ্যান্ড্রুর যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে, টেমস ভ্যালি পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে “তদন্তের অধীনে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে”। নরফোকে তাদের তল্লাশিও শেষ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আইলসহ্যাম থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাবেক রাজপুত্র অ্যান্ড্রুকে গাড়ির পেছনের সিটে বসে থাকতে দেখা গেছে।

এই প্রথম অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতার করা হলো। যদিও কোনো অন্যায় কাজ করার বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে যে, ‘বিস্তারিত পর্যালোচনা’ করার পর এখন একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে দাবি করার হয়েছিল যে, একটি পৃথক অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে যেখানে ২০১০ সালে এপস্টিন আরেকজন নারীকে অ্যান্ড্রুর সাথে যৌন সম্পর্কের জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন।

ওই নারীর বয়স তখন ২০ এর কোটায় ছিল এবং তিনি ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।

বিবিসি নিউজ বুঝতে পেরেছে যে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেফতারের আগে টেমস ভ্যালি পুলিশ দেশটির হোম অফিসের সাথে যোগাযোগ করে আগাম বার্তা দিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় স্যান্ড্রিংহামে এই গ্রেফতার ঘটনাটি যৌন অপরাধের কোনো অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত ছিল না।

ব্রিটেনের রাজার নরফোক এস্টেটের বাইরে, যেখানে প্রাক্তন রাজপুত্র বার্কশায়ারের উইন্ডসরের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে বসবাস করছেন, সেখানেই চিহ্নহীন কিছু গাড়িকে পুলিশের যান বলে মনে করা হয়।

এছাড়া বিবিসি জানতে পেরেছে যে, উইন্ডসর গ্রেট পার্কে অ্যান্ড্রুর পুরনো বাড়ি- রয়েল লজ এ তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। সেখানে গেটের বাইরে বেশ কয়েকজন ইউনিফর্ম পরা অফিসারকে দেখা গেছে।

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর

ছবির উৎস, PA Media

‘জাতীয় নির্দেশিকা অনুসারে’ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করার কথা জানায় টেমস ভ্যালি পুলিশ। এছাড়া মামলা চলমান থাকায় আদালত অবমাননার বিষয়েও সবাইকে সতর্ক করেছে তারা।

সহকারী চিফ কনস্টেবল অলিভার রাইট জানিয়েছেন, “এই ঘটনা নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে এটি আমরা বুঝতে পারছি এবং আমরা উপযুক্ত সময়েই নতুন তথ্য সবাইকে জানাবো।”

ইয়র্কের সাবেক ডিউক অ্যান্ড্রু ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ করেছেন। ওই সময় বিশ্বজুড়ে ঊর্ধ্বতন সরকারি ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি।

মনে করা হচ্ছে, ২০১০ সালে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর এবং চীন সফরের সরকারি প্রতিবেদন এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু।

প্রকাশিত নথি অনুসারে, আফগানিস্তানে সোনা ও ইউরেনিয়ামে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু।

সরকারি নির্দেশনায়, বাণিজ্য দূতদের সরকারি সফর সম্পর্কে সংবেদনশীল, বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

রাজা চার্লস বলেছেন যে তিনি তার ভাইয়ের গ্রেফতারের খবরটি “গভীর উদ্বেগের” সাথে জেনেছেন।

“এখন যা হবে তা হলো পূর্ণাঙ্গ, ন্যায্য এবং যথাযথ ব্যবস্থা। বিষয়টি সঠিক পদ্ধতিতে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্বারা তদন্ত করা হবে,” তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন।

“আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে হবে,” বলেন রাজা চার্লস।

বিবিসি বুঝতে পেরেছে যে, রাজা চার্লস এর এই বক্তব্য সমর্থন করেছেন ওয়েলসের যুবরাজ এবং রাজকুমারী।

এছাড়া অ্যান্ড্রুর ৬৬তম জন্মদিনে গ্রেফতারের ব্যাপারে রাজা বা বাকিংহাম প্যালেস কাউকেই আগাম সতর্ক করা হয়নি বলেই মনে হচ্ছে।

এদিকে এমন নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্যেও, রাজপরিবারের সদস্যরা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিজেদের ব্যস্ততা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার লন্ডন ফ্যাশন সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও নিজের ভাইয়ের গ্রেফতারের বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি রাজা।

এপস্টিনের সাথে সম্পর্কের সূত্রে কোনো অন্যায় কাজ করার কথা সব সময় অস্বীকার করে আসছেন অ্যান্ড্রু।

এমনকি জানুয়ারিতে এপস্টিন সংক্রান্ত লাখ লাখ ফাইল প্রকাশের পর, এর সাথে সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে বিবিসির প্রশ্নেরও জবাব দেননি তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের স্যান্ড্রিংহাম বাড়ির বাইরে একটি পুলিশ যানবাহন পার্ক করা ছিল

ছবির উৎস, Bav Media

ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বিবিসিকে বলেছেন যে, তিনি এপস্টিন ফাইলস থেকে নতুন এবং অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের পুলিশ বাহিনীর কাছে পাঁচ পৃষ্ঠার একটি চিঠি জমা দিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে “পাচার হওয়া নারী ও মেয়েদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন” মি. ব্রাউন।

অ্যান্ড্রুর গ্রেফতারের খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রয়াত ভার্জিনিয়া জিউফ্রের ভাই স্কাই রবার্টস বিবিসি নিউজনাইটকে বলেছেন যে তিনি বিশ্বাস করেন, তার বোনের অভিযোগের “সত্যতা প্রমাণিত” হয়েছে।

সাবেক রাজপুত্র অ্যান্ড্রু এর আগে ভার্জিনিয়া জিউফ্রের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়েছিল।

ওই সময় অভিযোগ উঠেছিল যে, ২০০০ সালের শুরুর দিকে এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসসহ বেশ কয়েকবার তাকে অ্যান্ড্রুর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

যদিও দুজনের মধ্যে যে মীমাংসা হয়েছিল সেখানে অ্যান্ড্রুর পক্ষ থেকে কোনো অন্যায়ের কথা স্বীকার করা হয়নি।

এই দফায় অ্যান্ড্রুর গ্রেফতারের বিষয়টি ভার্জিনিয়ার অভিযোগের সাথে “সরাসরি যুক্ত নয়” বলে স্বীকার করলেও, রবার্টস এই মুহূর্তটিকে “বেঁচে থাকাদের জন্য বিজয়” হিসেবেই দেখছেন।

টেমস ভ্যালি পুলিশের তদন্তে সহায়তার জন্য রাজার প্রশংসা করে রবার্টস বলেন, “আমি রাজা এবং রাজপরিবারকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানাই”।

কারণ তিনি বলেছিলেন, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো রাজ পরিবারের জন্য “ক্ষতির কারণ” হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে ২০১৯ সালে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান অ্যান্ড্রু।

২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের হলে নিজের সামরিক উপাধি এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতাও হারান তিনি।

২০২৫ সালের অক্টোবরে অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নেওয়া হয়, একই মাসে গিফ্রের মরণোত্তর স্মৃতিকথা প্রকাশিত হয় এবং এপস্টিনের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে।

গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মনে করি এটা খুবই দুঃখজনক। আমার মনে হয় এটা রাজপরিবারের জন্য খুবই খারাপ।”