Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ এই নির্বাচন থেকে কী পেল জামায়াতে ইসলামী

এই নির্বাচন থেকে কী পেল জামায়াতে ইসলামী

7
0

Source : BBC NEWS

জামায়াত এবারই প্রথম সংসদের প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর কাছে অনেক কম আসন পেলেও প্রথমবারের মতো সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।

উনিশশো একাত্তর সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে শীর্ষ নেতাদের বিচার হওয়া দলটি সবসময়ই আলোচিত হয়ে এসেছে। এই নির্বাচনে এসে ভোট ও সংসদের আসন সংখ্যার ক্ষেত্রে দলটি নিজের আগের সব রেকর্ডই ভঙ্গ করেছে।

সবমিলিয়ে এই নির্বাচন থেকে দলটি আসলে কী পেল বা অর্জন করলো তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে রাজনৈতিক মহলে। একই সাথে এই অর্জনের ক্ষেত্রে কোন কোন ফ্যাক্টর ভূমিকা রেখেছে তাও আলোচনায় উঠে আসছে।

নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ থেকে দেখা যাচ্ছে, বরাবরের মতোই দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ভালো করেছে জামায়াতে ইসলামী।

এবার এর সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া হিসেবে পরিচিত কয়েকটি জেলায় পাওয়া ব্যাপক জয়।

তবে দলটির ভেতরে যেটিকে বড় সাফল্য বা অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে তা হলো- রাজধানী ঢাকার পনেরটি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে জয় পাওয়া।

যদিও সার্বিকভাবে ভোট ও আসন বাড়লেও নির্বাচনে দলটির সাফল্য যে বিশেষ কিছু এলাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে সেই আলোচনাও আসছে। এমনকি বেশ কিছু জেলাতে দলটির দুর্বল অবস্থানও প্রকাশ পেয়েছে এই নির্বাচনে।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, “জামায়াতে ইসলামী অতীতের অনেক রেকর্ড ভঙ্গ করে আজ দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০০৮ সালে মাত্র ২টি আসন থেকে আজ কোটি কোটি মানুষের সমর্থন আমাদের প্রতি জন আস্থার বহিঃপ্রকাশ”।

বিশ্লেষকরাও বলছেন, এটিই এই নির্বাচন থেকে দলটির বড় অর্জন যে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটই এবার জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দলে বসতে যাচ্ছে। তারা বলছেন, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এর প্রভাব কেমন হয় সেটিই এখন হবে দেখার বিষয়।

নির্বাচনে জামায়াত জোট ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images

নির্বাচন কী দিল জামায়াতকে

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির একজন বিশ্লেষক ডঃ মুবাশ্বার হাসান বলছেন, শুধু আদর্শিক কারণে জামায়াত এত ভোট পেয়েছে তা নয়, তবে জামায়াত ও তাদের জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে এবং তারা প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে- এটিই দৃশ্যত নির্বাচন থেকে দলটির প্রধান অর্জন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি ও জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে। ভোটের হিসেবে দলটি এককভাবে ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে জোটগতভাবে জামায়াতের ইসলামীর মোট আসন হলো ৭৭টি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলছেন, “আসন ও ভোটের দিক থেকে জামায়াত নিজেই নিজের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে উঠে এসেছে- এটিই এই নির্বাচন থেকে দলটির প্রধান অর্জন”।

এর আগে ভিন্ন নামে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১৯৭৯ সালে ৬টি আসন পেয়ে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছিল জামায়াত। তবে দলটি এককভাবে সর্বোচ্চ আসন পেয়েছিল ১৯৯১ সালে। সেবার তারা ১৮টি আসনে জিতেছিল। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সাথে মিলে চারদলীয় জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচন করে জামায়াত ১৭টি আসন পেয়েছিল।

আবার ২০০৮ সালে একক নির্বাচন করে মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল দলটি। আর এর আগে ১৯৯৬ সালেও এককভাবে নির্বাচন করে পেয়েছিল ৩টি আসন।

এবারের নির্বাচনী ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, জামায়াত বরাবরের মতোই দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ও বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করতে পেরেছে।

খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, জয়পুরহাট রাজশাহী, রংপুরের মতো জায়গায় ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে দলটি।

সব মিলিয়ে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় খুলনা বিভাগের দশটি জলার ৩৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৫টিতেই তারা জয় পেয়েছে। আর উত্তরাঞ্চলে রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের ১৭টিতে জয় পেয়েছেন জামায়াত প্রার্থীরা।

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল কিংবা উত্তরাঞ্চলীয় জেলায় দলটির ভালো করার ক্ষেত্রে সেখানকার দরিদ্রতা কিংবা এ ধরনের ফ্যাক্টরগুলোই ভূমিকা রেখেছে কি-না সেই আলোচনাও হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

তবে সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলছেন, এসব এলাকায় জামায়াত দীর্ঘদিন ধরেই সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে আসছিল এবং সেখানকার স্থানীয় সমস্যা ও সংকটগুলো জামায়াতের প্রচারে প্রাধান্য পেয়েছে বলে জামায়াত সেখানে জনসমর্থন বাড়িয়ে নিতে পেরেছে বলে মনে করেন তিনি।

“জামায়াত সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে সীমান্তের ভারত কেন্দ্রিক ইস্যুতে প্রতিবাদী ভোটও জামায়াত পেয়ে থাকে,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

নির্বাচনে ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী

ছবির উৎস, Rebecca Conway/Getty Images

এবারের নির্বাচনে সার্বিকভাবে কিছু জেলায় জামায়াতের নির্বাচনী ফল ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। এর একটি হলো যশোর। জেলার ৬টি আসনের ৫টিই পেয়েছে দলটি। এই জেলায় বিএনপি মাত্র একটি আসনে জয় পেয়েছে।

আবার জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে এককালে পরিচিতি পাওয়া রংপুর জেলার ৬টি আসনের ৫টিই জামায়াত প্রার্থীরা এককভাবে জিতে নিয়েছেন। অন্যটি জিতেছেন জামায়াত জোটের হয়ে নির্বাচন করা এনসিপির আখতার হোসেন।

ছিয়াশি সালের নির্বাচন থেকে জামায়াত সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা জেলায় নিয়মিত আসন পেয়ে আসছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো জেলার চারটি আসনের সবকটিই জিতে নিয়েছেন দলের প্রার্থীরা।

অন্যদিকে বাগেরহাট-১ ও ২ আসনে দলটির প্রার্থীরা প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। জামায়াত প্রার্থী প্রথমবারের মতো জয় পেয়েছে জয়পুরহাট-১ আসনেও এবং স্বাধীনতার পর এই জেলায় এটিই জামায়াতের প্রথম বিজয়।

তবে দলটি সবচেয়ে বেশি উল্লসিত ঢাকা মহানগরের সাফল্য নিয়ে। ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। আর একটিতে জিতেছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির নাহিদ ইসলাম।

সার্বিকভাবে ঢাকায় ছয়টি, যশোর ও রংপুরে পাঁচটি করে, সাতক্ষীরা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীতে ৪টি করে, গাইবান্ধা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩টি এবং কুষ্টিয়ায় ৩টি করে আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত প্রার্থীরা।

এছাড়া মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, পাবনা ও রাজশাহীতে দুইটি করে আসন পেয়েছে দলটি। এর মধ্যে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের বিজয় বিএনপিকে বিস্মিত করেছে। বিএনপি নেতারা এ দুটি জেলাকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি বলে বিবেচনা করেন।

তবে একই সাথে খুলনায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নিজের আসনে খুবই অল্প ব্যবধানে হেরে গেছেন।

ওদিকে ফরিদপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, জয়পুরহাট, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও নড়াইলে ১টি করে আসন পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

এর মধ্যে নড়াইলে এই প্রথম দলটি কোনো আসনে জয় পেল।

যদিও ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের অনেক জেলাতেই দলটির তেমন কোনো অবস্থান তৈরি হয়নি। বিশেষ করে নির্বাচনী ফল বলছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে জামায়াত কিংবা জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অবস্থানই তৈরি হয়নি।

পিরোজপুরে একটি আসনে জয় পেলেও ওই জেলারই আরেকটি আসনে হেরে গেছে দলটি। উভয় আসনেই অতীতে দলটির প্রার্থী ছিল দলের প্রয়াত প্রভাবশালী নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী। তিনি যুদ্ধপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আটক থাকা অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন।

অন্যদিকে সিলেটে জামায়াতের কেউ না জিতলেও ১১ দলীয় জোটের হয়ে খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান সিলেট-৫ আসনে জয় পেয়েছেন। এই জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে।

জামায়াত আমিরের বিবৃতি

ছবির উৎস, https://www.facebook.com/BJI.Official

নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন একজন ভোটার

ছবির উৎস, Getty Images

আমির যা বলেছেন

জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে আজ দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, “জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের ভোট প্রাপ্তির পরিসংখ্যান অনেক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। প্রদত্ত প্রায় ৭ কোটি ভোটের মধ্যে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ নাগরিক এই জোটের ওপর তাদের আস্থা স্থাপন করেছেন। এটি একটি বিশাল ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ জনরায়”।

“বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতের অনেক রেকর্ড ভঙ্গ করে আজ দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০০৮ সালে মাত্র ২টি আসন থেকে আজ কোটি কোটি মানুষের সমর্থন আমাদের প্রতি জন আস্থার বহিঃপ্রকাশ। ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার শুরু। দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং নীতিভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন,” বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার সংসদ সদস্য নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে

ছবির উৎস, BBC/Shyadul Islam

বিশ্লেষকরা আরও যা বলছেন

নিজেদের ‘ইসলামপন্থী’ বলে পরিচয় দিলেও জামায়াতের আমির নির্বাচনের আগেই বলেছেন – “জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না”।

আবার নারী ইস্যুতে দলটির কিছু নেতার বক্তব্য ও জামায়াত জোটে থাকা কিছু নেতার দৃষ্টিভঙ্গি সমালোচনারও জন্ম দিয়েছে। এবারই প্রথম জামায়াত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে প্রার্থী করলেও শেষ পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হয় তা নিয়েও উদ্বেগ ছিল অনেকের মধ্যে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির একজন বিশ্লেষক ডঃ মুবাশ্বার হাসান বলছেন, জামায়াত একটা হাইপ তোলার চেষ্টা করেছিল এবারের নির্বাচনে এবং তারা যা পেয়েছে সেটি হলো- তাদের জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে এবং তারাই সংসদে প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে।

“কিন্তু জামায়াত সব ভোট আদর্শিক কারণে পেয়েছে তা নয়। বরং আমার মতে জামায়াতের অনেক এন্টি এস্টাব্লিশমেন্ট ভোট পেয়েছে। তারা ৫ই অগাস্টের পর থেকেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে একইভাবে ব্রান্ডিং করে প্রচারণা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ভিন্ন নামেও নির্বাচনে থাকলে হয়তো তাদের ফল এমন নাও হতে পারতো,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

মি. হাসান বলেন সময়ের পরিক্রমায় নানা কারণে জামায়াতের ভোট ও সমর্থন বেড়েছে কিন্তু এর পেছনে তাদের প্রচারে ধর্মের যথেচ্ছ অপব্যবহার ও ডিসইনফরমেশন ছড়িয়ে প্রভাব তৈরির চেষ্টা দৃশ্যমান ছিল।

তিনি বলেন, “নির্বাচনে মানুষের সামনেও তো বিকল্প ছিল না। বেশিরভাগ মানুষ হয়তো বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে। কিন্তু বাকীদের তো কিছু করার ছিল না। সেটার সুফলও হয়তো জামায়াত পেয়েছে”।

দৈনিক নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলছেন, আসন ও ভোটের সংখ্যার ক্ষেত্রে আগের রেকর্ড ভঙ্গ করে এ নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের রূপান্তর ঘটেছে।

“জামায়াত আগে দলীয় আদর্শের ওপর জোর দিতো। কিন্তু এবার জাতীয় ইস্যু, জনআকাঙ্ক্ষা ও স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে। সাথে ছিল দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো ইস্যু ছিল। এগুলো তারা তুলে ধরতে পেরেছে যা জনমনে প্রভাব ফেলেছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা ও সীমান্তবর্তী এলাকায় দলটির ভালো করার কারণ কী – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জামায়াত সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছে। সীমান্তের ভারত কেন্দ্রিক ইস্যুতে প্রতিবাদ ভোট জামায়াত পেয়ে থাকে”।

ধর্মকে ব্যবহার ও দরিদ্রের সংখ্যা বেশি বলে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে দলটি ভালো করছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মি. বাবর বলেন, “সেখানকার মানুষদের সংকটগুলো জামায়াত চিহ্নিত করেছে ও প্রচারে তুলে ধরেছে। সাংগঠনিক তৎপরতা তো আছেই। সব মিলিয়ে এবার রেজাল্ট ভালো হয়েছে”।