Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ ইরান যুদ্ধ থেক ে যেভাব ে লাভবান হত ে চায় রাশিয়া

ইরান যুদ্ধ থেক ে যেভাব ে লাভবান হত ে চায় রাশিয়া

10
0

Source : BBC NEWS

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Reuters/File photo

এক সপ্তাহের মধ্যে দুইবার এই ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়া ও ইরানের প্রেসিডেন্টের মধ্যে দুইবার টেলিফোনে কথোপকথন হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে তখন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেকে আন্তর্জাতিক পিসমেকার বা শান্তি উদ্যোক্তা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

তবে, তার এমন ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা সহজ কোনো কাজ নয়।

কেননা এই ক্রেমলিন নেতাই ২০২২ সালে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সেসময় এই হামলাকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন অভিহিত করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এর তীব্র নিন্দা জানায়।

কিন্তু ক্রেমলিন এখন ইরান যুদ্ধে “দ্রুত উত্তেজনা কমানো ও রাজনৈতিক সমাধানের” আহ্বান জানালেও তারা ইউক্রেনের ওপর তাদের বিধ্বংসী হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ইরানের সাথে মস্কোর একটি “বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব” চুক্তি রয়েছে।

এই সপ্তাহেই কেবল পুতিন তেহরানের প্রতি ক্রেমলিনের “অটল সমর্থনের” কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ভ্লাদিমির পুতিন

ছবির উৎস, Alexander Nemenov/Pool via REUTERS

কিন্তু তাদের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ বা কৌশলগত অংশীদারিত্ব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়।

এর বদলে মস্কো এই যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সোমবার টেলিফোনে আলাপের সময় ইরান যুদ্ধ বন্ধে পুতিন তার কূটনৈতিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

পুতিন “ইরান সংঘাত নিরসনে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে বেশ কিছু চিন্তা-ভাবনা ব্যক্ত করেছেন, যা মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতা, ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য দেশের নেতাদের সাথে তার যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি”।

রাশিয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্য এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জল করা এবং নিজেকে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ এটি।

একইসাথে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের সম্পর্ক আরো গভীর করারও সুযোগ এটি। ট্রাম্পের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ক্রেমলিন অত্যন্ত আগ্রহী।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে তাদের এই সম্পর্ক ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে মনে করছে দেশটি।

এতেই আসলে বোঝা যায়, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বা প্রকাশ্যে সমালোচনার ক্ষেত্রে পুতিন কেন সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

সোমবার পুতিনের সাথে টেলিফোনে আলাপের পরে ট্রাম্প বলেছেন, “(পুতিন) সাহায্যে করতে চান”।

“আমি বলেছি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অবসান করে আপনি সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারেন। সেটাই আরো বেশি সাহায্য করা হবে”।

এবং ক্রেমলিন যখন ইরানে ‘উত্তেজনা কমানোর’ আহ্বান জানাচ্ছে, তখন এই সংঘাতই মস্কোর জন্য অন্যান্য সুযোগও তৈরি করে দিচ্ছে।

অথনৈতিক দিকের কথাও বলা যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে তেলের দামের উল্লম্ফন রাশিয়ান সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

আর দীর্ঘসময় ধরে থাকা উচ্চমূল্যের এই ধারা রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

প্রতি ব্যারেল তেল ৫৯ ডলারের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে রাশিয়ার ফেডারেল বাজেট তৈরি করা হয়েছে।

তেহরানে হামলার পর বিস্ফোরণের ফলে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে আকাশে

ছবির উৎস, Anadolu via Getty Images

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেলের দাম ওই লেভেলের অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল।

এই সপ্তাহে ক্রুড ওয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম একেবারে নাটকীয়ভাবে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছে।

এরপর কিছুটা কমলেও তেলের দাম এখনো ৫৯ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বেশ ওপরে রয়েছে।

তবে, এর থেকে বড় বিষয় হলো, ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি মেটানোর জন্য বেশ কিছু দেশের ওপর থেকে তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার বিষয়ে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

যদি রাশিয়ার ওপর থেকে তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় তাহলে মস্কো আরো বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত আর্থিক ফল লাভ করবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কিয়েভের জন্য এটা “ভয়াবহ আঘাত” হবে এবং ট্রাম্পকে এটা না করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

ক্রেমলিনপন্থি পত্রিকা কমসোমোলস্কায়া প্রাভদার আজকের সংস্করণ বেশ আশাবাদী ছিল।

এই পত্রিকার হেডলাইন ছিল, “ব্যয়বহুল তেলই (পশ্চিমাদের জন্য) নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার একটি কারণ”।

ক্রেমলিন হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করছে না, কিন্তু কিছু রাশিয়ান সংবাদপত্র ট্রাম্প এবং ইরান যুদ্ধের কড়া সমালোচনা শুরু করেছে।

ট্যাবলয়েড মস্কোভস্কি কমসোমোলেটস এর মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংস্করণে লেখা হয়েছে, “এই ‘পিস প্রেসিডেন্ট’ স্রেফ পাগল হয়ে গেছেন”।

“এই শাসক বাস্তবতা মানতে চাচ্ছেন না এবং না আছে তার মানসিক সুস্থতা”।