Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ ইরানকে ১৫-দফা শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম

ইরানকে ১৫-দফা শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম

9
0

Source : BBC NEWS

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Getty Images

৫৬ মিনিট আগে

পড়ার সময়: ৫ মিনিট

মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যমগুলো নাম প্রকাশ না করা সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র একটি ১৫-দফা শান্তি পরিকল্পনা ইরানের কাছে হস্তান্তর করেছে।

তবে বিবিসি এ ধরনের কোনো ডকুমেন্টস এখনো দেখেনি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে ‘এই মুহুর্তে’ একটি আলোচনা চলছে এবং যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে কথা বলছে তারা ‘খুবই মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি’ করতে চাইছে।

যদিও একদিন আগেই ইরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার খবর প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে, মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে,ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সাথে আলাপের সময় বলেছেন, “ইরান শুধু অস্থায়ী নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী।”

ওদিকে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ছয় শতাংশ কমেছে। যদিও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত আছে।

ইরান জানিয়েছে, শত্রু ভাবাপন্ন নয় – এমন জাহাজকে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল কতে দেবে।

এতে বোঝা যাচ্ছে যে, কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইছে তেহরান।

এদিকে, ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৮২ হাজার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম একটু কমেছে

ছবির উৎস, Getty Images

ইরানের জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কী আছে

বিবিসি গ্লোবাল নিউজ পডকাস্ট উত্তর আমেরিকার সংবাদদাতা অ্যান্থনি জার্কার-এর সঙ্গে কথা বলেছে। তিনি এই সপ্তাহে প্রেসিডেন্টে ট্রাম্পের সঙ্গে টেনেসি সফরে গিয়েছিলেন।

এ সময় তিনি ট্রাম্পের যুদ্ধসংক্রান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে যা জানতে পেরেছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট সেসময় বলেছিলেন, তিনি অভিযানের মাত্রা ‘ধীরে ধীরে কমিয়ে আনছেন’।

তবে, একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালির অবরোধ না তুলে নেয়, তাহলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস করে দেওয়া হবে’।

পরে, তিনি ওই হামলা স্থগিত করেন এবং জানান যে ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের খবর অস্বীকার করেছেন।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে – এমন দেশের তালিকা বাড়ছে, যার মধ্যে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিসর রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতিমধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

“যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্মতি থাকলে, চলমান সংঘাতের একটি পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির জন্য অর্থপূর্ণ ও চূড়ান্ত আলোচনার আয়োজক হতে পাকিস্তান প্রস্তুত,” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ গতকাল লিখেছেন তিনি।

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে।

এছাড়া খবর পাওয়া যাচ্ছে যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের বিরোধী হিসেবে পরিচিত ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ আলোচনায় যোগ দিতে পারেন। অনেক বিশ্লেষক এটিকে কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে মনে করেন।

সবশেষ হামলার পর তেহরানের দৃশ্য

ছবির উৎস, Getty Images

হরমুজ গুরুত্বপূর্ণ কেন

জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের মূল কেন্দ্রে রয়েছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয় এবং চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।

ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত একটা চ্যানেল হরমুজ প্রণালি। এর ঢোকা এবং বেরনোর অংশ ৫০ কিলোমিটার প্রশস্ত।

মাঝে সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে এই প্রণালির বিস্তৃতি প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এর মধ্যবর্তী অংশ বড় জাহাজ চলাচলের জন্য যথেষ্ট গভীর।

ভারী তেল ট্যাংকারগুলোর কথা মাথায় রেখে সামুদ্রিক নেভিগেশন চার্টে একটা নিরাপদ ইনবাউন্ড লেন, একটা নিরাপদ আউটবাউন্ড লেন এবং এই দুইয়ের মাঝে একটা বাফার জোন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাই, বড়সড় জাহাজগুলকে মাত্র ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটা চ্যানেল ধরে চলাচল করতে হয়।

ট্যাংকারগুলো পারস্য উপসাগরে ঢোকার সময়, ইরান এবং আরব দেশগুলোর মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রেটার এবং লেসার তুন্ব দ্বীপপুঞ্জকে অতিক্রম করে।

এদিকে, জাতিসংঘে ইরানের মিশন থেকে দেওয়া বার্তায় তেহরান জানিয়েছে, তাদের কাছে ‘অ-শত্রুভাবাপন্ন জাহাজগুলোকে’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে দেওয়া হবে।

ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইছে

ছবির উৎস, Reuters

তবে, এজন্য তাদের ‘যথাযথ ইরানি কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতার মতে, এই বার্তাটি সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশ বা কোম্পানি গোপনে তাদের জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সমঝোতা করছে।

ইরানের পরমাণু স্থাপনায় আবার হামলা

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরান তাদের জানিয়েছে যে দেশটির বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় আবারো একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

তাদের মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো ক্ষতি হয়নি, কর্মীদের কেউ আহত হয়নি এবং কেন্দ্রটির অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে ইরান তাদের অবহিত করেছে।

আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সংঘাতের সময় পারমাণবিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর জন্য আবারো আহবান জানিয়েছেন।

ইরানের একমাত্র চালু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা দক্ষিণের বুশেহর শহরে অবস্থিত, গত সপ্তাহেও হামলার শিকার হয়েছিল।

যদিও এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানের হামলার পর ইসরায়েলের একটি এলাকা

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলেছেন ম্যাক্রোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ জানিয়েছেন যে, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে কথা বলে উপসাগরীয় দেশে হামলা বন্ধের জন্য ইরানের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

ম্যাক্রোঁ বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালীতে যেন জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুন:প্রতিষ্ঠা এবং জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি ইরানকে ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন এবং এতে ‘উত্তেজনা কমানোর পথ খুলে যাবে’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ জানিয়েছেন, তিনিও ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বলেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেওয়া পোস্টে তার দপ্তর জানিয়েছে, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে অভিযান চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে আরও জানিয়েছেন যে, লেবাননের সঙ্গে শান্তিই একটি সঠিক পথ, তবে এর জন্য ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর সক্ষমতা ধ্বংস করতে হবে।