Home LATEST NEWS bangla সর্বশেষ সংবাদ ‘অনেকের কাছে নিছক স্কাল্পচার, কিন্তু আমাদের কাছে বাবা-মা’

‘অনেকের কাছে নিছক স্কাল্পচার, কিন্তু আমাদের কাছে বাবা-মা’

11
0

Source : BBC NEWS

সিলিকন দিয়ে তৈরি প্রয়াত স্বার্ণব বাগচীর মূর্তির সঙ্গে তার বাবা-মা

ছবির উৎস, Sthita Bagchi

“প্রথমবার স্টুডিওতে ছেলেকে দেখে আমি ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেছিলাম। মনে হচ্ছিল ও-ই আমার সামনে বসে আছে,” কথাগুলো বলতে বলতে গলা ধরে আসছিল পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা স্থিতা বাগচীর। তিনি তার একমাত্র ছেলে স্বার্ণবকে হারিয়েছেন ২০২২ সালে।

সম্বল বলতে ছেলের গানের রেকর্ডিং, লেখা কবিতা, ছবি আর বাড়ির আনাচে কানাচে আর মনের একেবারে গভীরে থাকা অজস্র স্মৃতি। সন্তান হারানোর যন্ত্রণা কুঁড়েকুঁড়ে খাচ্ছিল মানব বাগচী এবং তার স্ত্রী স্থিতাকে। সেই সময়ে তারা সিদ্ধান্ত নেন ছেলেকে ‘ঘরে ফেরানোর।’

“ছেলে একদিন বলেছিল আমাদের কিছু হলে বাড়ির বাগানে ও আমাদের মূর্তি বসাবে। ওকে হারানোর এক বছর পর যখন আমরা একটু ধাতস্থ হই তখন ভাবি, ও যদি আমাদের মৃত্যুর পরেও আমাদের নিয়ে চলার কথা ভাবে তাহলে আমরা ওকে কেন পুনঃস্থাপন করব না!” বলছিলেন মা স্থিতা বাগচী।

তখনই ছেলের সিলিকনের মূর্তি গড়ার সিদ্ধান্ত নেন বাবা-মা। সিলিকনের তৈরি স্বার্ণব বাগচীর মূর্তির পরনে তারই প্রিয় জামা, ডেনিম ট্রাউজার্স, চোখে সানগ্লাস। তারা ‘ছেলে’র সঙ্গে রোজ গল্প করেন, প্রিয় খাবার রান্না করে পরিবেশন করেন, আলতো হাতে মুখ মুছিয়ে দেন, চুল ঠিক করে দেন।

শিল্পী সুবিমল দাস (বাঁদিকে) ও তার তৈরি সিলিকনের মূর্তি (ডানদিকে)

বীরভূমের বাসিন্দা বিপাশা গোস্বামী তার বাবা ড. নিমাই চন্দ্র গোস্বামীকে হারিয়েছেন ২০২২ সালে। সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজে অধ্যাপনা করতেন ড. নিমাই চন্দ্র গোস্বামী। ওই কলেজেই ৩৯ বছর ফিজিওলজি পড়িয়েছেন।

“বাবা চলে যাওয়ার পর শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। মা কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। ভাই তখন সদ্য ডাক্তারি পড়তে ঢুকেছে। ও মাঝ রাত্তিরে উঠে বসত। ঘুমাতে পারত না,” বলছিলেন মিজ. গোস্বামী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামিলনাড়ুর একটা ঘটনা চোখে পড়ে তার ভাইয়ের।

“তামিলনাড়ুতে একজন ব্যক্তি তার বোনের বিয়ের দিন প্রয়াত বাবার সিলিকনের মূর্তি এনে সারপ্রাইজ দিয়েছিল। এই খবরটা আমার ভাইয়ের চোখে পড়ার পর আমরাও একই সিদ্ধান্ত নিই। তখন জানতাম না পশ্চিমবঙ্গে এই কাজ হয়,” বলছিলেন মিজ. গোস্বামী। তার বাবার সিলিকনের মূর্তি তৈরির কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালে।

ড. নিমাই চন্দ্র গোস্বামীর মূর্তির (মাঝে) সঙ্গে তার দিদি ও দাদা

ছবির উৎস, Bipasha Goswami

সেদিনের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।

তার কথায়, “বাবার সিলিকনের মূর্তি যেদিন প্রথম চোখে দেখি সেদিন গায়ে কাঁটা দিয়েছিল। শার্ট, ট্রাউজার, চোখে চশমা- ঠিক যেন বাবা বসে আছেন।”

“আমার পিসি সিলিকনের মূর্তি দেখে আদর করছিলেন, মাথায় হাত বোলাচ্ছিলেন। আর মুখে একটাই কথা ছিল, ও নিমাই তুই কথা বলিস না কেন?” কথাগুলো বলতে বলতে কিছুটা থামলেন তিনি।

গড়িয়াহাটের যে বাড়িতে বড় হয়েছেন ড. গোস্বামী, সেখানেই রাখা রয়েছে তার মূর্তি। “বাবাকে খেতে দিই, আদর করি, কথা বলি। মনে হয় এই তো বাবা তো বসে আছে।”

ঝাড়গ্রামের সন্তান হারা দম্পতি এবং সিউড়ির বিপাশা গোস্বামীর পরিবারের কিছুটা হলেও স্বস্তি ফেরাতে পেরেছেন যিনি, তার নাম সুবিমল দাস। গত কয়েক বছরে সিলিকনের তৈরি হাইপার রিয়েলিস্টিক মূর্তির শিল্পী হিসাবে তাকে আরো বেশি পরিচিতি দিয়েছে।

সিলিকনের মূর্তি গড়ার কাজে ব্যস্ত সুবিমল দাস।

ছবির উৎস, Subimal Das

শিল্পী সুবিমল দাস

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির এক গ্রামে ছেলেবেলা কেটেছে সুবিমল দাসের। মূর্তি তৈরিতে হাতেখড়ি ছেলেবেলাতেই।

“ছেলেবেলা থেকেই আর্টের প্রতি একটা ঝোঁক ছিল আমার। মাটি দিয়ে দেবদেবীর মূর্তি তৈরি করতাম,” বলছিলেন তিনি। ২৫ বছরেরও বেশি সময় ভাস্কর হিসাবে কাজ করছেন মি. দাস।

ভিরাসত-এ-খালসা মিউজিয়াম, পাঞ্জাব ওয়ার মেমোরিয়াল, বিহার ও কলকাতার ওয়াক্স মিউজিয়াম, রাজস্থান বিধানসভা, কলকাতার বিধানসভা ভবন, কলকাতার সায়েন্স সিটি, সোলার ডোমসহ বিভিন্ন জায়গায় তার তৈরি স্থাপনা শোভা পাচ্ছে।

“ফাইবার গ্লাস, মেটাল, স্ক্র্যাপ-প্রায় সব মিডিয়ামেই স্কাল্পচার তৈরি করি। সাধারণত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, মনীষী বা বিখ্যাত মানুষের মূর্তি বানাতম। কিন্তু সিলিকনের মূর্তি, বিশেষত বাবা, মা বা নিকট আত্মীয়ের মূর্তি আমাকে পরিচিতি দিয়েছে। অনেকেই প্রিয়জনকে হারিয়ে তাদের মূর্তি তৈরি করার জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন,” বলছিলেন এই শিল্পী।

ইন্ডিয়ান কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ড্রাফটম্যানশিপ থেকে আর্ট নিয়ে পড়াশোনা করার পর ন্যাশানাল কাউন্সিল অব সায়েন্স মিউজিয়ামে ট্রেনি হিসাবে কাজ করেছেন তিনি। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে তার সফর শুরু হয় দিল্লিতে কুচকাওয়াজের সময় ট্যাবলো তৈরি দিয়ে। ক্রমে ভাস্কর হিসাবে তার পরিচিতি বাড়ে।

ড. নিমাই চন্দ্র গোস্বামীর মূর্তির (সাদা জামা) সঙ্গে তার স্ত্রী, কন্যা ও পুত্র

ছবির উৎস, Bipasha Goswami

কাজ করতে করতে সিলিকনের মূর্তি তৈরির প্রতি আগ্রহ জন্মায় মি. দাসের। এই শিল্পে নাম করা এক মার্কিন সংস্থায় কাজ শেখার ইচ্ছা ছিল তার, তবে তা আর হয়ে ওঠে নি।

তার কথায়, “এখন মনে হয় ওখানে কাজ না শিখতে পারায় একদিক থেকে উপকারই হয়েছে। আমি নিজে নিজেই শেখার চেষ্টা করতে থাকি। ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখতাম কীভাবে কাজ হয়।”

নিত্য নৈমিত্তিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে তার শেখার কাজ চলতে থাকে। হাইপার রিয়েলিস্টিক মূর্তি তৈরিতে পারদর্শীতাও বাড়ে। এইভাবেই মনীষী ও বিখ্যাত মানুষের সিলিকনের মূর্তি বানানোর জন্য তার কাছে কাজ আসতে থাকে।

এই শিল্পীর কাজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাদৃত হয়েছে। তবে তিনি আরও পরিচিতি পেয়েছেন সিলিকনের মূর্তির মাধ্যমে হারানো প্রিয়জনকে ‘ফিরিয়ে দেওয়ার’ জন্যই।

এর শুরুটা হয়েছিল ২০২২ সালে। কলকাতার বাসিন্দা তাপস কুমার সাণ্ডিল্য ২০২১ সালে স্ত্রীকে হারান।

তার কথায়, “সুবিমল দাসের খোঁজ পেয়ে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করি আমি,” বলেছিলেন মি. সাণ্ডিল্য।

অবসরপ্রাপ্ত এই সরকারি কর্মকর্তার অনুরোধে বেশ অবাকই হয়েছিলেন সুবিমল দাস। তার কথায়, “এতদিন মনীষী বা বিখ্যাত ব্যক্তিদের স্ট্যাচু বানানোর জন্য লোকে যোগাযোগ করত। তাপস বাবু আমাকে বলেন তার প্রয়াত স্ত্রীর সিলিকনের মূর্তি তৈরি করে দেওয়ার জন্য।”

“প্রথা ভেঙে প্রয়াত পরিজনের স্ট্যাচুটাকে প্রতিস্থাপন করা…এটা খুবই কঠিন কাজ। আমার কাছে চ্যালেঞ্জিং ছিল।”

রাজি হয়ে যান তিনি। তারপর শুরু হয় কাজ।

যে রেফারেন্স ছবির উপর ভিত্তি করে পাশে রাখা সিলিকনের মূর্তি তৈরি সেটা দেখাচ্ছেন শিল্পী।

কীভাবে তৈরি হয় সিলিকনের মূর্তি?

সুবিমল দাস জানিয়েছেন, যার সিলিকনের মূর্তি তৈরি করতে হবে তার ছবি রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করেন তিনি। নিখুঁত কাজের জন্য পরিবারের কাছ থেকে যার মূর্তি গড়া হচ্ছে, তার উচ্চতা, দেহের গড়ন, ত্বকের রঙ, চুলের ঘনত্ব, কব্জি ও পায়ের মাপসহ নানা খুঁটিনাটি বিষয় জেনে নেন। তারপর শুরু হয় প্রথমে ক্লে-মডেলিং বা মাটি দিয়ে মূর্তি গড়ার কাজ।

“সিলিকন আর মাটির মধ্যে একটা ফারাক রয়েছে। মাটি স্ট্যাটিক কিন্তু সিলিকন হলো ফ্লেক্সিবল এবং ট্রান্সলুসেন্ট। পরিবারের সদস্যরা সেই মূর্তি দেখে সন্তুষ্ট হওয়ার পর, ডিটেলের কাজ থাকে,” বলেছেন এই শিল্পী।

এরপর ছাঁচে ফেলে সিলিকনের মূর্তি গড়ার কাজ চলে। চামড়ার নিখুঁত রঙ থেকে শুরু করে রোমকূপ, হাতের চামড়া কতটা কোঁচকানো ছিল- এই সমস্ত বিষয় খেয়াল রাখা হয়। মূর্তির মাথার চুল বসানোর ব গ্রাফটিংয়ের কাজও পাশাপাশি চলতে থাকে।

মূর্তি গড়ার সময় নিজের সঙ্গে চলা দ্বন্দ্বে র কথা জানিয়েছেন তিনি।

মি. দাসের কথায়, “প্রথমে নিজের সঙ্গে নিজের দ্বন্দ্ব চলে- যে, কাজটা ঠিক করছি তো? বাড়ির লোকেরা এক চান্সে চিনতে পারবেন তো? তারা একবার নিশ্চিত করার পর আবার যেদিন ফাইনাল দেখতে আসেন সেদিন মনে হতে থাকে- ঠিক হয়েছে তো?”

“আমরা ছবি দেখে মূর্তি তৈরি করছি, এদের সামনা সামনি কোনোদিন দেখিনি। যাদের মূর্তি বানাচ্ছি জীবিত অবস্থায় তারা যে পোশাক, জুতো বা চুড়ি পড়তেন, অনেকে চান সেগুলোই পরনে থাকুক। নয়তো মাপ বলে দিলে আমরাও ব্যবস্থা করি।”

পরিবারের সদস্যরা সন্তুষ্ট হলে তবেই তৃপ্তি আসে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সুবিমল দাস জানিয়েছেন আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগে সিলিকনের এই মূর্তি তৈরি করতে, খরচ পড়ে ভারতীয় মুদ্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা।

বাবা-মায়ের সিলিকনের মূর্তির সঙ্গে সমিত কুমার দত্ত।

‘কিছুই বদলায়নি’

পেশায় আইনজীবী, কলকাতার বাসিন্দা সমিত কুমার দত্ত তার বাবার সিলিকনের মূর্তি তৈরির জন্য সুবিমল দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তার কথায়, “আমার বাবা চলে গেলেন ২০২২-এর সাতাশে জুলাই। তখন আমি হন্যে হয়ে খুঁজছি বাবাকে। যখন নেটে আমি সার্চ করছি তখন সুবিমল দাসের নাম পেলাম।”

কাজ শেষ করে প্রায়শই মি দাসের ওয়ার্কশপে যেতেন মি. দত্ত।

তার কথায়, “লাস্ট ফিনিশিংয়ের দিন বাবাকে দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি আমি আর দাদা। যেন অবিকল বাবা।”

পরে, মায়ের মূর্তি গড়ার জন্যও এই শিল্পীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।

“অনেকের কাছে মনে হতে পারে এটা একটা মূর্তি, স্কাল্পচার। কিন্তু আমাদের ফ্যামিলি… দত্ত পরিবারের কাছে কিন্তু তা মনে হয় না। আমাদের কাছে বাবা-মা,” বলছিলেন সমিত কুমার দত্ত।

তার যখন ১৮ বছর বয়স সেই সময় মাকে হারিয়েছেন। তারপর বাবা অরুণ কুমার দত্তকে কেন্দ্র করে দুই ভাই বেড়ে উঠেছেন।

“বাবা ছিলেন বাড়ির প্রাণ। সবসময় মাতিয়ে রাখতেন। মাকে হারানোর পর আমরা সমস্ত অনুষ্ঠান মায়ের ছবির সামনে একসঙ্গে পালন করতাম,” বলছিলেন তিনি। সেই রেওয়াজ আজও অব্যাহত রয়েছে।

ছেলেবেলায় বাবা-মা দুই ভাইকে নিয়ে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বা অন্যান্য জায়গায় যেতেন, সেই স্মৃতি তাজা করতে বাবা-মায়ের সিলিকনের স্ট্যাচু গাড়িতে বসিয়ে কলকাতা চষেছেন সমিত কুমার দত্ত ও তার দাদা।

অরুণ কুমার দত্ত ও তার স্ত্রীর সিলিকনের মূর্তির সামনে প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে চা পরিবেশন করেন পরিবারের সদস্যরা।

স্মৃতিকাতর মি. দত্তের কথায়, “সে এক অন্যরকমের অভিজ্ঞতা। ভাষায় বলে বোঝানো যাবে না।”

তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানিয়েছেন দত্ত পরিবারের রোজনামচার কিছুই বদলায়নি। “দাদু, ঠাম্মাকে সকালে চা-বিস্কুট দেওয়া থেকে শুরু করে আমরা দুপুরে যা খাই সেটা পরিবেশন করা হয়। আমার অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং বা প্রেজেন্টেশন থাকলে দাদুর হাতটা ধরে বলে যাই- দাদু দেখো। জন্মদিনে কেক খাওয়াই। কিছুই বদলায়নি আমাদের,” বলছিলেন নিবেদিতা দত্ত। অরুণ কুমার দত্তের বড় নাতনি তিনি।

বাবা-মায়ের সিলিকনের মূর্তি গাড়িতে করে কলকাতায় ঘুরেছেন মি. দত্ত ও তার পরিবার। অ্যালবামে সেই ছবি

একইভাবে রোজনামচা বদলায়নি ঝাড়গ্রামের বাগচী পরিবারেরও।

পেশায় শিক্ষিকা স্থিতা বাগচী বলেছেন, “আগে আমাদের তিনজনের জীবন যেমন চলত, আজও সেভাবেই চলছে। ওকে (ছেলে স্বার্ণবকে) আমরা অনুভব করি। প্রতিদিন ওর সঙ্গে কথা বলি।”

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়েছিলেন স্বার্ণব বাগচী। কিন্তু গান অন্তপ্রাণ এই তরুণ সুরকেই বেছে নিয়েছিলেন।

“জীবনমুখী গান ওর প্রিয় ছিল। ওর জন্য একটা বড় ঘর তৈরি করেছি আমরা। সেখানে ওর সমস্ত লেখা গান, কবিতা রয়েছে। ওর গাওয়া গান বাজে। আমি আর ওর বাবা গিয়ে সেখানে গিয়ে বসে থাকি।

“ওর বাবাও শিল্পী। ২০১৮-১৯ সালে কলকাতায় থিমের দুর্গাপুজোর একটা কাজ করতে গিয়েছিল ওর বাবা। সেই সময় একজন সুবিমল বাবুর কথা বলে। ওর তৈরি স্টিফেন হকিন্সের মূর্তি দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল। বাড়ি ফিরে এসে বলেছিল সে কথা। তখনো ভাবতে পারিনি কয়েক বছর পর ছেলের জন্য…” কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে তার।

স্বার্ণব বাগচীর মূর্তির সামনে রাখা জন্মদিনের কেক

ছবির উৎস, Sthita Bagchi

তারপর একটু থেমে যোগ করেন, “ওর বাবাই প্রথমে স্বার্ণবের মূর্তি তৈরি করতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি। তাই সুবিমল বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করি আমরা।”

শিল্পী সুবিমল দাস জানিয়েছেন, প্রিয়জনকে আরো একবার দেখার ইচ্ছে পূরণ করার তৃপ্তি তাকে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। তার কথায়, “কিছু তৃপ্তি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আগামী কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ করে।”

“আমার ইচ্ছে আমার বাবা-মায়ের সিলিকনের মূর্তি তৈরি করার… জানি না হয়তো কোনোদিন করব।”