রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ জোরালোভাবে খারিজ করেছে সেই প্রচারিত দাবি, যেখানে বলা হচ্ছিল যে সাইবেরিয়ার একটি প্লেগ গবেষণা কেন্দ্রে গত সপ্তাহে মারা যাওয়া এক ল্যাবকর্মীর সংস্পর্শে আসার পর দ্বিতীয় এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রথম ল্যাবকর্মীর প্রাণঘাতী অসুস্থতার সঙ্গে প্লেগের কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই সরকারি অস্বীকারের ঘটনা ঘটল।
—
## স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী বলছে
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার ভোক্তা স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষক সংস্থা **Rospotrebnadzor** জানিয়েছে, মৃত ল্যাবকর্মীর সংস্পর্শে আসার পর দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তি অসুস্থ হয়েছেন—এমন খবর “ভুয়ো তথ্য”। সংস্থাটি বলেছে, ল্যাব টেকনিশিয়ানের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং কারও মধ্যে সংক্রামক রোগের কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি।
নিজেদের দাবির সমর্থনে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রায় **৫,০০০টি ল্যাবরেটরি পরীক্ষা** করা হয়েছে এবং কোনও বিপজ্জনক জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে ২৮ বছর বয়সি ওই কর্মী—যাঁর পরিচয় **Darya Shipilova** হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে—প্লেগে মারা গিয়েছিলেন কি না, তা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। এখনও পর্যন্ত তাদের বক্তব্য, তিনি অজ্ঞাত কারণের নিউমোনিয়ায় মারা গেছেন।
—
## কারা আরও তথ্য চাইছে
**World Health Organization (WHO)** রাশিয়ার কাছে এমন খবরের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে আরও এক কর্মীর অজ্ঞাত কারণের নিউমোনিয়া হতে পারে। দুটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে WHO এই অনুসন্ধান শুরু করেছে—এর মধ্যে একটি রুশ বিনোদনমূলক ওয়েবসাইট *starhit.ru*, আর অন্যটি *Daily Mail*-এর মাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুশ সূত্র উদ্ধৃত করেছে। বুধবার পর্যন্ত WHO-এর কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, দ্বিতীয় ঘটনা বা প্রথম অসুস্থতা—কোনও বিষয়েই তারা এখনও চূড়ান্ত তথ্য পায়নি।
—
## সময়রেখা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
– **২ অক্টোবর, ২০২৬**: ইরকুটস্কে অবস্থিত Anti-Plague Research Institute of Siberia and the Far East-এর ২৮ বছর বয়সি ল্যাব টেকনিশিয়ান Darya Shipilova মারা যান। সরকারি নথিতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে অজ্ঞাত উৎসের নিউমোনিয়া উল্লেখ করা হয়েছে।
– মৃত্যুর আগে Shipilova-কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
– ৮ অক্টোবরের মধ্যে রাশিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করে জানায়, আর কোনও অসুস্থতার ঘটনা ঘটেনি। ল্যাবরেটরি পরীক্ষাতেও তাঁর কাজের সঙ্গে যুক্ত কোনও রোগজীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
—
## অনুত্তরিত প্রশ্ন ও জনমনে উদ্বেগ
সরকারি বিবৃতি সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি:
– Shipilova-র নিউমোনিয়ার সঠিক কারণ কী ছিল?
– প্লেগ-সংক্রান্ত উপকরণ নিয়ে কাজ করার ফলে কি তাঁর সংক্রমণ হয়েছিল?
– ওই অঞ্চলে কোয়ারেন্টাইন ও নজরদারি জোরদার করাসহ জরুরি স্বাস্থ্যবিধি কেন কার্যকর করা হয়েছিল?
এই অস্পষ্টতাগুলি সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলছে। রুশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কখনও প্লেগের ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব দুর্ঘটনাবশত ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা, আবার কখনও প্লেগপ্রবণ এলাকায় মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় সংস্পর্শে আসার বিষয়ে জল্পনা করা হয়েছে।
—
## আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষকদের সতর্কবার্তা
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও স্বচ্ছতার আহ্বান জানিয়েছে। WHO-এর মহাপরিচালক **Tedros Adhanom Ghebreyesus** প্রথম ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও একটি ঘটনা ঘটেছে—এমন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পর্কে রাশিয়াকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। সাম্প্রতিক এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “আমরা দুটি সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছি … আমরা রাশিয়াকে এর জবাব দিতে বলেছি।”
WHO-এর মহামারিবিদ্যা বিভাগের প্রধান **Maria Van Kerkhove** জোর দিয়ে বলেছেন, Shipilova-র মৃত্যুর পেছনে থাকা রোগজীবাণু এখনও নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, “তিনি কীভাবে সংক্রমিত হয়েছিলেন, তা আমরা বুঝতে পারছি না,” এবং সময়মতো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান।
—
## মহামারি ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে সরকারি অবস্থান
রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমানে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার কোনও আশঙ্কা নেই। Rospotrebnadzor জানিয়েছে, Shipilova-র সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে প্লেগের মতো কোনও সংক্রামক রোগের ঘটনা পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংস্থাগুলি সাইবেরিয়া থেকে যাতায়াতের ধরন পর্যবেক্ষণ করছে। U.S. Centers for Disease Control and Prevention (CDC) যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিকে “অত্যন্ত কম” বলে বর্ণনা করেছে এবং ওই অঞ্চল থেকে আসা ব্যক্তিদের সম্পর্কে নজর রাখতে একাধিক ফেডারেল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
—
## বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংক্রমণের আশঙ্কায় প্রায় **২০০ জনকে** চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। Shipilova-র চিকিৎসা হওয়া প্রতিষ্ঠানটিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, Shipilova-র মৃত্যুর পরের কয়েক দিনে ল্যাবের কোনও কর্মীর মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি। তাঁর নিউমোনিয়ার উৎস সরকারি ভাবে এখনও নির্ধারিত নয়, যদিও সম্ভাব্য ল্যাব দুর্ঘটনা বা পরিবেশগত সংস্পর্শ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে।
—
## এরপর কী?
রুশ সংস্থাগুলি দ্বিতীয় সংক্রমণের দাবি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। তবুও জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির একাধিক তদন্ত এখনও চলছে। WHO বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ও ল্যাবরেটরি তথ্য প্রকাশের জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছে।
মৃত্যুর কারণ বা সংক্রমণের উৎস হিসেবে প্লেগের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চয়তায় ঘেরা। গুজব দূর করতে এবং অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ঠেকাতে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন ও উন্মুক্ত বৈজ্ঞানিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
—
This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.