Source : BBC NEWS

এক ঘন্টা আগে
পড়ার সময়: ৭ মিনিট
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। ৭৪ পৃষ্ঠার এই রায়টি লিখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আগের রায়কে ত্রুটিপূর্ণ ও কলঙ্কিত উল্লেখ করে তা বাতিল করা হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আইনজীবীরা বলছেন, এই রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান আবার সংবিধানে ফিরে এসেছে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে এটি কার্যকর হতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে সংসদ সংশোধন বা পরিমার্জনের ক্ষমতা রাখবে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।


দেশে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ সরকার নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রবিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও তা দ্রুত সমাধান করে শিগগিরই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী জানান, এই নিয়োগে ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিক্ষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে কারিআনা পাসধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে সরকারি নিয়মের আওতায় আনা এবং ইবতেদায়ি ও কওমি শিক্ষাসহ বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে সমন্বিত একটি কাঠামোর মধ্যে আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি পদ্ধতি নিয়েও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ৭৪ পৃষ্ঠার রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। রায়ে বলা হয়েছে, সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আপিল বিভাগ তাদের রায়ে উল্লেখ করেছে, আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে বর্তমান সংসদ এ ব্যবস্থায় সংযোজন বা বিয়োজন করার ক্ষমতা রাখবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
বিএনপির আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এই রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান আবার সংবিধানে ফিরে এসেছে এবং এটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক।

দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার শেষ পাতার খবর- Jamaat gears up for local polls অর্থাৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের অংশ হিসেবে অংশ নেওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় মেয়র এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জেলা ও মহানগর ইউনিটগুলোকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু তালিকা ইতিমধ্যে জমা পড়েছে এবং বাকি তালিকা ঈদের পর পাওয়া যেতে পারে। এরপর প্রথম ধাপে ঢাকার দুটি সিটিসহ ১২টি সিটি করপোরেশনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়া স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের পরপরই জেলা ও উপজেলা ইউনিটগুলোকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে করা বিভিন্ন মামলায় ঢালাওভাবে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। একটি ঘটনায় তিনটি মামলা হওয়ার নিয়ম না থাকলেও একই ঘটনার মামলায় ইসমাইল প্রধানীয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে ১০৯ দিন কারাগারে থাকতে হয়। মামলায় তাঁকে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দলটির কোনো কমিটিতেই তাঁর নাম নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অ্যাপার্টমেন্ট ও বিপণিবিতানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে রাজনৈতিক পরিচয়ে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছিল।
এক অনুসন্ধানে ১০০টি মামলার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী, সাবেক মন্ত্রী সংসদ সদস্যের পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষকেও হয়রানিমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, সম্পদ দখল, চাঁদাবাজি বা প্রতিহিংসার মতো কারণও পাওয়া গেছে। দুটি মামলায় তিনজন মৃত ব্যক্তিকেও আসামি করার তথ্য পাওয়া গেছে।
অনেক বাদী পরে স্বীকার করেছেন, তারা না চিনেও কিছু ব্যক্তিকে আসামি করেছেন। অন্তত ৪৭টি মামলায় ছয় শতাধিক আসামির নাম বাদ দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের মামলা বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানির ঝুঁকিতে ফেলছে।

নিউ এইজ পত্রিকার শীর্ষ খবর- Govt, opposition debate constitution reform council অর্থাৎ সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল নিয়ে সরকার বিরোধী দলের বিতর্ক
সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, গণভোটের ফল বাস্তবায়নের আগে সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন এবং ২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে তিনি অবৈধ বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।
শফিকুর রহমান বলেন, আদেশ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন হওয়ার কথা। কিন্তু ৩০ দিন পার হলেও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং বিরোধী দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য ইতিমধ্যে এ উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছেন।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গণভোটের ফল অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় পার হলেও এ বিষয়ে সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে সংস্কার পরিষদ নামে কোনো কাঠামো নেই। তাই জুলাই সনদে উল্লেখিত বিষয় বাস্তবায়নের আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। এ নিয়ে সংসদে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৬৮ শতাংশের বেশি ভোটে এটি অনুমোদিত হয়। এরপর বিরোধী জোটের সদস্যরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সরকারি দলের সদস্যরা সে শপথ নেননি, যা নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব প্রশাসক দায়িত্বে থাকবেন এবং তারা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের সবাই বিএনপির নেতা। এর আগে ঢাকাসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনেও বিএনপির নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে।
এদিকে আদালতের আদেশে বিএনপির নেতা শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরান ও ইসরাইলের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গত ৬ মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর মধ্যে আমদানিকৃত কয়েকটি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূকৌশলগত অবস্থান ও আঞ্চলিক বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ তেল পরিশোধন ও পুনরায় রফতানির কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক রুটের সংযোগস্থলে অবস্থান, গভীর সমুদ্রবন্দরের সম্ভাবনা এবং বড় আঞ্চলিক বাজারের নৈকট্য বাংলাদেশকে এই খাতে বড় সুযোগ দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও নেদারল্যান্ডসের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, এসব দেশ নিজেরা তেল উৎপাদন না করেও আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। অথচ একই ধরনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির ওপর নির্ভর করায় তেল আমদানির পর স্থানীয় চাহিদা পূরণেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় বাজার থাকা সত্ত্বেও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবে এ খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।



