Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, SCREEN GRAB
২৫ মিনিট আগে
নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ধর্মীয় অপব্যাখ্যায় কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের ধারাবাহিক ভাষণের অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মি. রহমান বলেন, “৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের এটি কোনো জিজ্ঞাসা ছিল না, ২৪ এর স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধেও কে কোন ধর্মের, এটি কোনো জিজ্ঞাসা ছিল না,”
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “দলীয় স্বার্থে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করারও অপচেষ্টা চালাচ্ছে, সুতরাং সকল বিশ্বাসীদের প্রতি আহ্বান কেউ যেন বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে”
প্রায় চল্লিশ মিনিটির এই ভাষণে রাষ্ট্র গঠন, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতিসহ নানা বিষয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কাছে রাষ্ট্র এবং সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি বলেন, “দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায়, বিএনপি সরকার ততটাই কঠোর হবে।”
বিএনপি সহ গণতন্ত্রের পক্ষে যেসব দল এবং ব্যাক্তি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করেছে, অত্যাচারের শিকার হয়েছে, তাদেরকেও স্মরণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সব দল এবং মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন করেছে। এই সময়ে হাজার হাজার মানুষকে গুম খুন করা হয়েছিল।”
দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে অতীতে যেসব ভুল হয়েছে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনেও ভোটারদের সমর্থন চান মি. রহমান।
ছবির উৎস, BNP Media Cell
যা বললেন বিএনপি চেয়ারম্যান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নির্বাচনী ভাষণ দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার সন্ধ্যায় একই ভাবে জাতির উদ্দেশে নির্বাচনী ভাষণ দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এর আগে রবিবার ভাষণ দিয়েছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
নিজের ভাষণে রাষ্ট্র গঠনের নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, চার কোটির বেশি তরুণ, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে বাদ রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়নের আকাঙ্কা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
এই নির্বাচনকে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন মি. রহমান। বলেন, বেকার জনগোষ্ঠী এবং নারীদের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তিনি জানান, দেশের বেকার সমস্যা নিরসণে আর্থিক খাতের সংস্কার এবং শিল্প ও বাণিজ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির উপায় ও কর্মকৌশল নিয়েছে বিএনপি।
দেশের অর্থনীতির সার্বিক উন্নয়নে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। অঞ্চলভিত্তিক ঐতিহ্যবাহি পণ্যের উৎপাদন এবং এসএমই খাতে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এছাড়া তথ্য-প্রযুক্তি কাতে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি এই খাতে আট লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান গড়ে তোলার বার্তাও দেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা হবে। যাতে বেকার যুবক কিংবা তরুণ তরুণীরা দেশে বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির জন্য প্রস্তুত হয়ে সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন।”
ছবির উৎস, BNP Media Cell
এছাড়া সরকার গঠন করতে পারলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত তরুণ তরুণীদের ছয় মাস থেকে এক বছর অথবা কর্ম সংস্থান হওয়ার আগ পর্যন্ত বিশেষ বেকার ভাতা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নারীদের অধিকার নিশ্চিতে বিএনপির নানা পরিকল্পনার কথাও জানান মি. রহমান। তিনি বলেন, নারীদেরকে রাষ্ট্র, রাজনীতি এবং অর্থনীতির মূল ধারার বাইরে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে নিম্ন আয়ের মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেন তিনি। জানান, “প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে।
“প্রথম পর্যায়ে প্রান্তিক এবং নিম্ন আয়ের পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা কিংবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে,” বলেন মি. রহমান।
নারী শিক্ষার উন্নয়নে নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নীতি নির্ধারণে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধেও কঠোর আইন প্রয়োগের কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
দেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় ফার্মার্স কার্ড ইস্যু করা হবে। বিএনপির কর্মপরিকল্পনায় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও যুগপোযোগি করতে ঢেলে সাজানো হবে বলেও জানান মি. রহমান। বলেন, হাইস্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা।
শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও মানুষের সামনে তুলে ধরেন তারক রহমান।
তিনি বলেন, “সারাদেশে এক লক্ষ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যার ৮০ শতাংশই হবে নারী।”
এছাড়া তথ্য প্রযুক্তি খাতকে রাষ্ট্রিয় সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপি চূড়ান্ত করেছে বলেও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

নানা পরিকল্পনার পাশাপাশি এসব অর্থ কিভাবে আসবে এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন কিভাব তারও একটি ধারণা নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান।
“ফ্যাসিবাদ আমলে প্রতিবছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হতো। এই পাচার রোধ করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড বা ফার্মার্স কার্ডের মতো পদক্ষেপ গুলো বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়,” বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল রাষ্ট্রের মালিকানায় নয় জনগণ যাতে তাদের অধিকার পায় সেই বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে চায় তার দল।
জনগণের রায়ে বিএনপি নির্বাচিত হলে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারিদের জন্য যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া প্রবাসিদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন মি. রহমান। বলেন, তাদের সম্মান, সুরক্ষা, অধিকার রক্ষায় প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড বাস্তবায়ন করতে চায় তার দল।
বিদেশে যাওয়ার সময় টাকা অভাবে কারো যেন জমি বিক্রি করা না লাগে সেজন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ঋণ সুবিধা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
এছাড়া নিজের পিতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত হলে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণাঙ্গ আস্থা ও বিশ্বাস কথাটি আবারও সংবিধানে সন্নিবেশিত করা হবে।
মি. রহমান বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হলেও দেশের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রেখেছেন তিনি।
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করছে কিনা সেদিকে নজর রাখবো আমি।”
এছাড়া অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে, ভবিষ্যত বাংলাদেশ গঠনে সবার কাছে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়ী করার কথা বলেন তারেক রহমান।



