Home rss world bengali ট্রাম্প মার্কিন সামরিক মহড়া কমানোর পর উত্তর কোরিয়ায় হামলার কোনো ইচ্ছা নেই:...

ট্রাম্প মার্কিন সামরিক মহড়া কমানোর পর উত্তর কোরিয়ায় হামলার কোনো ইচ্ছা নেই: প্রেসিডেন্ট লি

6
0

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে তাঁর দেশের উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কোনও ইচ্ছা নেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যৌথ US-South Korea সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দেওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। লি জোর দিয়ে বলেন, এই মহড়াগুলি মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে লি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ধাপে ধাপে যুদ্ধকালীন অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য সিওলের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। লি বলেন, “একটি শক্তিশালী জোট নিরাপত্তার ভিত্তিকে আরও মজবুত করে।” তিনি আরও বলেন, কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো হলে ওয়াশিংটনের কাছে দেশটির গুরুত্বও বৃদ্ধি পায়।

### সামরিক মহড়ার নেপথ্যে আশ্বস্ত করার উদ্দেশ্য

প্রধান US-South Korea সামরিক মহড়ার সঙ্গে আয়োজিত বার্ষিক অসামরিক প্রতিরক্ষা মহড়া নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের বিষয়ে লি কথা বলেন। National Security Council-এর আয়োজিত এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল এই অভিযানগুলির লক্ষ্য স্পষ্ট করা। লি দাবি করেন, এর লক্ষ্য বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া, উত্তর কোরিয়াকে উসকানি দেওয়া নয়।

তিনি জনগণ এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান, তাঁরা যেন মনে রাখেন যে এই মহড়াগুলি পিয়ংইয়ং-সহ কোনও নির্দিষ্ট পক্ষকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত নয়। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের লক্ষ্য দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনন্দিন জীবন সুরক্ষিত রাখা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে Ulchi Freedom Shield মহড়া সোমবার শুরু হয়েছে এবং ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এতে প্রায় ১৮,০০০ দক্ষিণ কোরীয় সামরিক কর্মী অংশ নিচ্ছেন।

### কূটনৈতিক পরিসর তৈরি করতে ট্রাম্পের মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত

রবিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প Pentagon-কে South Korea-এর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া ব্যাপকভাবে কমানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এই মহড়াগুলি ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে শত্রুতাপূর্ণ বার্তা পাঠায়—বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগ উষ্ণ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তাঁর দীর্ঘদিনের সেই মতামতের প্রতিফলন যে, সিওলের আরও বেশি আর্থিক ও সামরিক অবদান রাখা উচিত—বিশেষত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইতিমধ্যে মোতায়েন ২৮,৫০০ মার্কিন সেনার উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হ্রাস কূটনৈতিক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে নেওয়া হতে পারে এবং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে।

### প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা ও কৌশলগত দিকনির্দেশ

প্রেসিডেন্ট লি শুধু আমেরিকার নীতির পরিবর্তনে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন না; তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ভবিষ্যৎ সামরিক ও অপারেশনাল অবস্থানের জন্য একটি ধারাবাহিক কৌশলও নির্ধারণ করছেন।

– তিনি তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন যুদ্ধকালীন কমান্ড কর্তৃত্ব US থেকে South Korea-এর হাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন।
– তিনি দেশের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন কর্মসূচিতে দ্রুত অগ্রগতির আহ্বান জানান।
– তিনি সমন্বিত অভিযান পরিচালনায় সক্ষম সামরিক নেতাদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে তিনি স্বীকার করেন যে আধুনিক যুদ্ধক্রমে স্থল, সমুদ্র, আকাশ, সাইবার এবং মহাকাশ—এই ক্ষেত্রগুলি ক্রমশ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

এই বক্তব্যগুলি লির দ্বৈত লক্ষ্য স্পষ্ট করে: জোটের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাধীনভাবে আত্মরক্ষার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।

### আঞ্চলিক বাস্তবতা: উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ও দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা

উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে US-South Korea সামরিক মহড়াগুলিকে আগ্রাসনের প্রকাশ্য মহড়া হিসেবে দেখে এসেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় দেশটি পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে, ট্রাম্প এবং কিম জং উন এ পর্যন্ত তিনটি শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। যদিও কোনও বৈঠকই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বা ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডারে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেনি, তবুও এই সংলাপ আঞ্চলিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে।

ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে US-এর নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় যোগ দিতে সিওলও অস্বীকার করেছে। লি জোর দিয়ে বলেন, যৌথ মহড়া কমানোর বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য সংঘাতের নয়, বরং সুযোগের ইঙ্গিত হতে পারে। তিনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে মত দেন।

### সূক্ষ্ম ভারসাম্য: জোট ও স্বাধীনতা

US-South Korea জোটের এক সংবেদনশীল অধ্যায়ে লির এই দৃঢ় বার্তা এসেছে। ট্রাম্পের মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত কয়েকটি প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে:

– যৌথ সামরিক মহড়া কি আগের মাত্রায় ফিরে আসবে?
– দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধকালীন কমান্ড পুনরুদ্ধারের সময়সীমা কী?
– পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ কতদূর এগোবে?

লির দৃষ্টিভঙ্গি এই অমীমাংসিত প্রশ্নগুলির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জোটের প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। এই দ্বিমুখী কৌশল মিত্রদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষদেরও একটি বার্তা দিচ্ছে: আমেরিকার বড় মাত্রার সামরিক মহড়া থাকুক বা না থাকুক, সিওল প্রস্তুত।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.